ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে পাঁচ স্থাপনা এখনও অপরিবর্তিত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে পাঁচ স্থাপনা এখনও অপরিবর্তিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছয় মাসেও কার্যকর হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি ডাকসুর প্রস্তাবনা প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

ডাকসুর প্রস্তাব সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়। তবে ২৯ জুনের সিনেট অধিবেশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে আবার সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে বিষয়টি এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিবাদে গত সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভাতেও বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেই। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আদৌ উত্থাপিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, লিখতে হবে যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে, সিন্ডিকেট শুধু নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সিনেট। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি যে, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবির পর প্রক্রিয়া শুরু হলেও সিদ্ধান্তের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবিত শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ এসব নামকে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আধিপত্য ও তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। ডাকসুর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ বা ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোন নাম চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশও করা হয়। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।

সিনেটে মতভেদ

গত ২৯ জুন সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। দীর্ঘ আলোচনায় সিনেট সদস্যদের মধ্যে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেয়। সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিষয়টি যথাযথ বিধি অনুসরণ করে পুনরায় সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের দাবি জানান।

অন্যদিকে সিনেট সদস্য অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। এ সময় সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন: সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় অনেকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দেন। তাদের দাবি, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামসম্বলিত ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি পুরোনো নাম থাকার কারণে হলের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন স্পন্সর পেতেও সমস্যার মুখে পড়ছে।

চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপাচার্য বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য।

জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব হল প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে ৮ সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমে অনুমোদন পেয়ে সিন্ডিকেটে ওঠে। সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠানো হয়।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সব আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও নানা জটিলতা সৃষ্টি করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, সিনেট অধিবেশনে বিএনপিপন্থি প্রশাসন এই প্রস্তাবটি পাস করার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে পুনরায় রিভিউ করার জন্য সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে।

তার দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিতর্কিত নামগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডাকসুর এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগের প্রশাসনের সময় সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা না রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবার সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই একমত। কোন নামে পরিবর্তন হবে, কীভাবে পরিবর্তন হবে, সেটি আলোচনার বিষয়। কিন্তু নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলছে

এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলক ও নাম মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইস্রাফিল রতন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কিছু মতানৈক্য তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত গেটে রং করতে গিয়ে নামটি অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের সাবেক সেনা কমান্ডারের সতর্কবার্তা: অনিবার্য পতনের মুখে দেশ

তবে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান দাবি করেন, সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সময়ই হলের শিক্ষার্থীদের লেখা নাম মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত।

মহিউদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেট যখন চলছিল, তখনই হলের শিক্ষার্থীরা যে নামটি লিখেছিল সেটি মুছে দেওয়া হয়। আমরা যখন জিজ্ঞেস করেছি, কে মুছে দিচ্ছে। তখন তারা কেউ মুখ খোলেননি। প্রশাসন বলছিল তারা কিছু জানে না।

নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কেন বারবার বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট-সিনেট অধিবেশনের সভাপতি অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফাইলটি প্রথমে সিন্ডিকেটে ছিল। পরে সিন্ডিকেট থেকে সিনেটে যায়। সিনেটে যাওয়ার পর ফাইলটি সিনেট থেকে আবার সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশ করা হবে এবং আবার সেটি সিনেটে পাঠানো হবে। এরপর সিনেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং সিন্ডিকেট কিছু মতামত দিয়ে সুপারিশ করবে। সেটি সিনেটে চূড়ান্ত হবে।

তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এতদিন ধরে সিদ্ধান্ত আটকে থাকার কারণ জানতে চাইলে উপাচার্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ফাইল কিছুটা পেছনে পড়ে যাওয়ায় গত সিন্ডিকেট সভায় তা উত্থাপিত হয়নি।

পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেটে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তাহলে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, অনেকে এ ধরনের মনগড়া কথা বলছে। বাস্তবতা না জেনে অনেকে অনেক কিছু বলে ফেলছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে ‘দেশ নাট্যগোষ্ঠী’র ৩৩ বছর পূর্তি উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


হবিগঞ্জে ‘দেশ নাট্যগোষ্ঠী’র ৩৩ বছর পূর্তি উদযাপন

হবিগঞ্জ, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : আনন্দঘন পরিবেশে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘দেশ নাট্যগোষ্ঠী’র ৩৩ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

৩৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় নাট্যচর্চা, সংস্কৃতির বিকাশ এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় সংগঠনের দেশমঞ্চে সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য, আলোচনা ও নাটকের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

‘নাটক হোক শৃঙ্খলিত মানুষের মুক্তির গান’ শ্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘দেশ নাট্যগোষ্ঠী’ শায়েস্তাগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নাটকের মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরা, তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করা এবং স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিভা বিকাশে সংগঠনটির অবদান প্রশংসনীয়।

৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ উদযাপন অনুষ্ঠান সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ পথচলা সংগঠনটির জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি শায়েস্তাগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

সংগঠনের সভাপতি হারুন সাঁই’র সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আ স মআফজল আলী, জেলা কালচারাল অফিসার অসীত বরণ দাস গুপ্ত, জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক নাসরিন হক, শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈনুল হাসান রতন, দেশ নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিতু আহমেদ মাখন, সাধারণ সম্পাদক মো. মুখলিছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন প্রমুখ।

বক্তারা সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা একটি আলোকিত ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন। দেশ নাট্যগোষ্ঠী আগামী দিনেও নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমন প্রত্যাশা সবার। শেষে হারুন সাঁইয়ের নির্দেশনায় ইম্প্রোভাইজেশন নাটক ‘টাক বদন’ মঞ্চস্থ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির ভারতকে ‘টুঁটি চেপে ধরা গণতন্ত্র’ বললেন খাড়গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


মোদির ভারতকে ‘টুঁটি চেপে ধরা গণতন্ত্র’ বললেন খাড়গে

ভারতের বর্তমান সরকারকে ‘গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা’ (muzzled democracy) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতা।

দিল্লিতে যুব বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের পুলিশি আটক করার ঘটনাকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে খাড়গে উল্লেখ করেন, “মোদির সরকার ‘গণতন্ত্রের জননীকে’ এক ‘মুখবন্ধ গণতন্ত্রে’ পরিণত করেছে!”

তিনি আরও বলেন, “আটকে রাখা, গ্রেফতার, কারাগার, লাঠিচার্জ এবং পেলেট গান দিয়ে ভারতীয় জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিন থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ রূপদানে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।” মূল সূত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে জেলা রোভার মুট উপলক্ষে দিনব্যাপী ডে ক্যাম্প শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


নাটোরে জেলা রোভার মুট উপলক্ষে দিনব্যাপী ডে ক্যাম্প শুরু

নাটোর, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলা রোভার মুটের দ্বাদশ আয়োজন উপলক্ষে একটি দিনব্যাপী ডে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা স্কাউট ভবনে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।

জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, "স্কাউট আন্দোলনের মাধ্যমে জীবন হয় সুন্দর। নিজেকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারলে আলোকিত হবে সমাজ, সমৃদ্ধ হবে দেশ।" তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক স্কাউট তথা রোভার সদস্যদের উচিৎ জীবনের সূবর্ণ সময়ের সূবর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, পড়াশুনার পাশাপাশি মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখা, এবং যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে যেতে সক্ষম হওয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা রোভারের কমিশনার ড. মো. আল আমিন ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাতআরা ফেরদৌস, এম কে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ বিন আজাদ এবং নাটোর জেলা রোভারের সহকারী কমিশনার ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন।

পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী রোভার মুট ডে ক্যাম্পের সূচনা করা হয়। ক্যাম্পের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন সেশন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, গ্রান্ড ক্যাম্প ফায়ার, এবং সার্টিফিকেট বিতরণ।

জেলার ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০০ জন রোভার এই ডে ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের অধিকার পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: গোলাম পরওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


জনগণের অধিকার পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: গোলাম পরওয়ার

জনঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের অধিকার, সমস্যা এবং প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে তাদের কথা শুনতে হবে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ত্যাগ, ধৈর্য ও অবিচলতার কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা দ্বীনের পথে অবিচল থেকে হাসিমুখে শাহাদাত বরণ করে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীলদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ঈমানি দৃঢ়তা, নৈতিক শুদ্ধতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার সিলেট নগরীর মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে সিলেট মহানগর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নায়েবে আমির, সেক্রেটারি ও কর্মপরিষদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বুঝে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন ও জনসমর্থন বৃদ্ধিতে দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীলদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জবাবদিহিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে হবে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সবাইকে আরও আন্তরিক ও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%