বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৮ এম
প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের একসময়কার উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদ এখন রূপ হারাতে বসেছে। নদীর বুকজুড়ে চর এবং নাব্যতা সংকটের কারণে চিরচেনা সেই পরিবেশ আজ অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে।
কাঙ্ক্ষিত মাছের অভাবে চরম দুর্বিষহ জীবন পার করছেন ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী শতাধিক জেলে। পেটের টানে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন তারা।
এই বিপর্যয়ের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নদীকর্মী জাহানুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে আগের মতো নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, “কখনো দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কখনো অসময়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে।” এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজননচক্র ব্যাহত হচ্ছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নদীর পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রাতেও পরিবর্তন ঘটছে। ফলে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে।
আবার অনেক প্রজাতি ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে বালুচর জেগে ওঠা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত ঢলের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থা নষ্ট হচ্ছে।” এতে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে।
পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নদী তার গভীরতা হারাচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় গভীর ও নিরাপদ স্থানও কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি ২০২৬ সালে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কুড়িগ্রামে মোট ৯৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জুনে ৪৭৩ মিলিমিটার, জুলাইয়ে ৩৭৮ মিলিমিটার এবং আগস্টে মাত্র ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক শামছুদ্দোহা সৌমিক বলেন, “গত দুই-তিন বছরে মৌসুমি বন্যার স্থলে আকস্মিক স্বল্পস্থায়ী সাময়িক বন্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।” জেলার নদ-নদী অববাহিকায় মৌসুমি বড় বন্যার জন্য টানা এক থেকে দুই সপ্তাহ ভারী বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির ধরনে একটা পরিবর্তন এসেছে।
“যখন যতটা হওয়ার কথা তখন ততটা হচ্ছে না।” অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টি হচ্ছে। বাকি সময় থাকছে বৃষ্টিহীন।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মতে, ব্রহ্মপুত্রের গভীর ও উপযুক্ত স্থানগুলোতে স্থায়ী ‘মৎস্য অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করতে হবে, যেখানে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়াও অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গভীরতা বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, পেশা বদলাতে বাধ্য হওয়া জেলেদের জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফ সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি গবাদি পশু পালন, কুটির শিল্প বা অন্যান্য জীবিকায় বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে গত কয়েক বছর ধরে মাছের প্রাপ্তি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। একসময় বড় আকৃতির নানা দেশীয় মাছে জেলের জাল ভরপুর থাকলেও এখন সারাদিন জাল ফেলে ছোট কিছু পুঁটি বা টেংরা পাওয়াও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর ফলে নদীপাড়ের মাছ ধরা পরিবারগুলোতে নিয়মিত অভাব-অনটন লেগেই রয়েছে। জেলেরা জানান, নদীতে আগের মতো মাছ না পাওয়ায় জাল-নৌকা মেরামত ও সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
ঋণ করে কিংবা অন্য পেশার মানুষের কাছে হাত পেতে তাদের দিন পার করতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে রাজমিস্ত্রির জোগালি, দিনমজুর কিংবা রিকশা চালানোর মতো ভিন্ন পেশা বেছে নিচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, চিলমারীসহ ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন ঘাটে নৌকাগুলো অলস পড়ে আছে। অনেক জেলে জাল বুনছেন বা ঠিক করছেন ঠিকই, কিন্তু নদীতে নামার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরে মাছ ধরার ব্যস্ততার পরিবর্তে এখন কেবল নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। জোড়গাছে জেলে পাড়ার অঞ্জলী বলেছেন, “আগের মত নদীতে মাছ নাই, যে মাছ পাওয়া যায় তা বিক্রি করে সংসার চালানো দায় হয়ে গেছে।” তাই পেশা বদলাচ্ছেন, ঢাকায় গেছে বহু জেলে।
তিনি আরও বলেছেন, “শুধুমাত্র সরকারি সহায়তা দেয়া হয়, যখন ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ থাকে।” সেই সময়ে কার্ডধারী জেলেদের কিছু পরিমাণ চাল দেয়া হয়। সুশান্ত নামে এক জেলে আক্ষেপ করে জানান, “বাপ-দাদার আমল থ্যাকি আমাগো বংশের সবাই নদীত মাছ ধরিই সংসার চালাইছে।
কিন্তু এ্যালা নদীত আর মাছ নাই বললেই চলে।” সারাদিন জাল টানিও তেলের দাম উঠছে না। “পোলাপান লিয়াই তো বিপদে আছি, পেটের দায়ে বাধ্য হয়া অন্য কামকাজ শুরু করছি।” শুনীল নামে অপর এক জেলে জানিয়েছেন, “আগে নদীতে জাল ফেললে মাছ পাওয়া যেত।
আর এখন আগের দিনের মত মাছ পাওয়া যায় না।” সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। এর জন্য অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য দিকে আয়ের পথ খুঁজছেন।
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা.) মো: এমদাদুল হক জানিয়েছেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়া এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে মাছের প্রজনন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।” তবে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় তারা নিয়মিত নদীতে অভিযান চালাচ্ছেন এবং অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল জব্দের পাশাপাশি ধ্বংস করা হচ্ছে। তাছাড়া জেলেদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৪নং তারগাঁও ইউনিয়নের বুলিয়া বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং রণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯ মাস ধরে ইউক্যালেকটার গাছ পড়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। গাছটি স্কুলের মাঠে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এ্যাসেমপ্লি করার সুযোগও পাচ্ছে না, এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার রায় মন্তব্য করেন, "অনেক দিন আগে গাছটি অপসারনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আবেদন করা হয়েছে।" তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আজ মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর’২০২৬ইং পর্যন্ত গাছটি অপসারনের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে।"
অন্যদিকে, রনগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ ফেরদোসী বেগম জানান, গাছটি মাঠের মধ্যখানে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না।
এদিকে, কাহারোল উপজেলা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্চার ও (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা নিরঞ্জন চন্দ্র রায় বলেন, "আবেদনটি জেলায় পাঠানো হয়েছে মূল্য নির্ধারণের জন্য।"
কাহারোল উপজেলা শিক্ষা অফিসার কেএমএ জিন্নাত আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মূল্য নির্ধারণের চিঠি পেলে গাছটি অপসারনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত দুইটি স্কুলের মাঠ থেকে গাছটি অপসারনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। চারপাশে পানি, বালু এবং বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ রয়েছে। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন নৌকা চরবাসীর একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। বর্ষায় তিস্তার পানি ও -্রােত বৃদ্ধি পেলে সেই পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে যায়। কোনো দিন নৌকা না পেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, জরুরি রোগী হলে উৎকণ্ঠা শুরু হয়। এই বাস্তবতায় নৌকা এখন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম।
চারপাশে পানি, বালু এবং বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ দেখা যায়। বর্ষাকালে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য নৌকায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় চরবাসীকে। এভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁ, চর হায়বতখাঁ, চর পাড়ামৌলা, চর চতুরা, চর হংসধর, চর রামহরি এবং ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের চর খিতাবখাঁ, চর গতিয়াসাম, চর বগুড়া পাড়া, চর নাখেন্দা, শাওলার চর, চর নামাভরট, মাঝের চর, চর বড়দারগা, চর বুড়িরহাট, চর বড়ুয়া পাড়া, চর জুম্মার পাড়সহ প্রায় ২৫টি চরের আশপাশের মানুষ।
চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য দু’টি বিদ্যালয় থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে হলে তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। মাঝের চর থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এর মধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীপথ নৌকায় পাড়ি দিতে হয়। নদী পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। বর্ষাকালে পানি ও -্রােত বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এতে কয়েকশ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা চর ঢ়ুসমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগুড়া পাড়া সরকারি বিদ্যালয়, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর খিতাব খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুড়িরহাট আব্দুস সামাদ মন্ডল দাখিল মাদরাসা, সরকারবাড়ি মাধ্যমিক স্কুল কিংবা সরিষাবাড়ি আলিম মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।
বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকা না পাওয়া, নদীর -্রােত এবং ঘাটের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাদের পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ছে।
চর গতিয়াশামের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, প্রতিদিন তাকে যাতায়াতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলেও নৌকা পেতে প্রায় ৯/১০টা বেজে যায়। এরপর নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ১১/১২টা বেজে যায়।
সুমাইয়া বলেন, “এহানে একটি হাইস্কুল হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। তার আগত নদী খোঁড়া(খনন) দরকার। তাহলে বাড়িঘর ভাঙনের হাত থেকেও অক্ষা(রক্ষা) পাবে।”
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. আর্জিনা খাতুন বলেন, “আমাগো বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। মাঝে মাঝে নৌকা থাকে না। ফলে সেদিন আর স্কুলে আসা হয় না। চরে পড়াশোনার সুবিধা না থাকায় অল্প বয়সে আমাদের মা-বাবা বিয়ে দিয়ে দেন। জীবনের স্বপ্ন থাকলেও সেটি পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।”
শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাতেও পিছিয়ে রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসক নেই। কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য কয়েক কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়। জরুরি রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে নদীর -্রােত বেশি থাকলে এই সংকট আরও প্রকট হয়।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলটিতে আনুমানিক দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে স্কুলপড়-য়া শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২ হাজার জন। এসব বাসিন্দাকে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা নৌকা ভাড়া দিতে হয়।
মাঝের চরের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, আমাগো প্রতিদিন প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে গঞ্জে যেতে হয়। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজে পাওয়া যায় না। তাই একসঙ্গে কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে হয়। প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সবকিছু পাওয়া যায় না। চর গতিয়াশামের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সময় সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বন্যার সময় ত্রাণ, বস্ত্র, বিশুদ্ধ পানি, টিউবওয়েল ও কোরবানির মাংসসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়। চরের মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমাতে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ নৌযাতায়াত, নৌ এ্যাম্বুলেন্স, দু’টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা জরুরি। বর্ষা এলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা তাসনিম বলেন, আমরা ডিসি স্যারসহ চরাঞ্চল নিয়ে কাজ করছি। চরের মানুষের জীবনযাত্রার মান কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সে জন্য উপজেলার প্রতিটি দপ্তরকে সেখানে কাজ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চরের মানুষের সমস্যাগুলো চিহিৃত করে সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরার্মশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারী জেলার প্রতিটি উপজেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের প্রতি অগ্রাহ্যতা দেখিয়ে কিছু ডিলার ও পরিবেশক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে।
তারা শুধু দাম বাড়াচ্ছে না, বরং রাতের অন্ধকারে গ্যাস সরিয়ে ফেলছে। এভাবে গ্যাস সরিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।
এক হাজার তিনশ' টাকার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বর্তমানে এক হাজার নয়শ' থেকে দুই হাজার একশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সৈয়দপুরে গ্যাসের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে।
শহরের মোড়ে মোড়ে সারিবদ্ধভাবে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো এখন উধাও হয়ে গেছে। সেখান থেকে গ্যাস বিক্রি করা হত।
মহল্লার পান দোকান, মুদি দোকান, লন্ড্রি দোকান, ফ্যাক্সি দোকান, এমনকি খড়ি দোকানেও গ্যাস পাওয়া যেত। বর্তমানে এসব স্থান গ্যাসশূন্য হয়ে পড়েছে।
কিছু দোকানে গোপনে গ্যাস বিক্রি হলেও দাম অত্যন্ত বেশি। প্রশ্ন করলে তারা সংকটের কথা বলছেন।
তবে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোক্তা মুক্তা বানু ও ইয়াসিন আলী সরকার বলেন, "গ্যাস মিলছে না বাড়তি দামেও।" এক মুদি দোকানদার জানান, তিনি বাড়তি আয় করার জন্য দোকানে গ্যাস রাখতেন।
তবে বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কিছু দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি হচ্ছে।
এর ফলে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
তারা বেশি দাম দিতে রাজি হলেও প্রয়োজনমতো সরবরাহ মিলছে না। ফলে দোকানে অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে-এমন খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দেন। গত কয়েকদিনে বসুন্ধরা প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার রহস্যজনকভাবে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাংলাদেশ হোটেল এন্ড রোস্তোরা মালিক সমিতি সৈয়দপুর উপজেলা শাখার এক নেতা জানান, সৈয়দপুরে গ্যাস সংকট চলছে।
বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না গ্যাস। সৈয়দপুর বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা জানান, সৈয়দপুরে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের ডিলার রয়েছে বেশ কয়েকজন।
তাদের ডিপোতে প্রচুর গ্যাস ছিল। হঠাৎ এত গ্যাস গেল কোথায়, তা বোঝা যাচ্ছে না।
তারা কারসাজি করে গ্যাস স্টক করেছে। তাদের গোডাউনে অভিযান চালানো হলে গ্যাস বের হবে।
টিনের দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমি টিন ব্যবসার পাশাপাশি গ্যাস বিক্রি করতাম। এখন বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না।" সৈয়দপুর শহরের গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, বসুন্ধরা, যমুনা ও জেএমআই গ্যাসের সিলিন্ডার ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওমেরা গ্যাস সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও ডিলার চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। একেক দোকানে ৪ থেকে ৬টি করে সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গ্যাসের ডিলাররা কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। তারা শুধু বলছেন গ্যাস নেই।
কেউ কেউ গোডাউন ঘর তালাবদ্ধ রেখেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সচেতন মহল ও ভোক্তারা বলছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও মেমোবিহীন বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই কৃত্রিম সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সৈয়দপুর শহরের সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত সময়ে অভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনার কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
ডেপুটি স্পিকারকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেয় এবং প্রিয় অতিথির কাছ থেকে অটোগ্রাফ পেয়ে তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা তাঁর সামনে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে। পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার।
এ সময় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা চালানোর ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বড় আকারের সোলার প্যানেল দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এই ঘোষণায় উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল-মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোহেল রানা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান এবং কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর ও প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ