০২:৩৮ পি.এম
দেশে শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। ২০১৯ সালে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ার হার ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সঙ্গে, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে, মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. জামশেদ মোহাম্মদ যৌথভাবে এই বিবৃতিটি দেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মের পর প্রথম ছয় মাসে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি মায়ের দুধ থেকেই পাওয়া যায়। মায়ের দুধ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। মায়ের জন্যও এটি উপকারে আসে, কারণ এতে স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও বলছেন, মায়ের দুধ খাওয়ানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সব মায়ের জন্য এটি সহজ নয়। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের সময় এবং পরে অনেক মা প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উৎসাহ এবং সহায়তা পান না। মাতৃত্বকালীন সুবিধার অভাব এবং শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য উপযোগী কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের অভাবও একটি বড় সমস্যা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিবারগুলোর সামনে এখনো মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্যের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জরুরি ও মানবিক সংকটের সময় এসব বাধা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এবারের বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’। নতুন কোনো সমাধান খোঁজার পরিবর্তে ইতিমধ্যে কার্যকর প্রমাণিত উদ্যোগগুলোকে আরও বিস্তৃত বা টেকসই করার ওপর দুই সংস্থা গুরুত্ব দিয়েছে।
ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর মতে, শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা, শিশু-বান্ধব হাসপাতাল কর্মসূচি, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও স্তন্যদানের উপযোগী কর্মপরিবেশ মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়াতে কার্যকর। একই সঙ্গে মায়ের দুধের বিকল্প ও শিশুখাদ্যের বিপণন নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মায়ের দুধ খাওয়ানো সহায়ক কার্যক্রমে প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ৫৯ ডলার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি, শিশুদের মেধার বিকাশ, শিক্ষায় ভালো ফল এবং ভবিষ্যতে বেশি আয় করার সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে এ সুফল আসে।
দুই সংস্থা সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে যাতে তারা মায়ের দুধ খাওয়ানোকে সুরক্ষা, উৎসাহিত করা ও সহায়তা দিতে পারে। সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শিশু-বান্ধব হাসপাতাল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন, পাশাপাশি জবাবদিহি ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কর্মজীবী মায়েদের জন্য বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বিরতি এবং উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের মায়ের দুধের বিকল্প ও শিশুখাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুখাদ্যের অনুপযুক্ত প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন