শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ এম
শেরপুরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা শেষ হলো। শুক্রবার (৯ জানুয়ারী) শেরপুর পৌরসভাধীন নবীনগর মহল্লার রোয়া বিলে মেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। মেলা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, কলাই, বাদাম, কটকটি, তিলের খাজাসহ নানা ধরনের খাবার, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী এবং গৃহস্থালী পণ্যের পসরা বসেছে।
এছাড়া, ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস, গাঙ্গি খেলা ও নারীদের মিউজিক্যাল চেয়ারসহ গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মেলায় ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই খেলা দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমায়। মেলাকে ঘিরে শেরপুর শহরের নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের দাবি, নবীনগর এলাকায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারা। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই মেলার আয়োজন করা হয়। এদিকে, মেলার আশেপাশে স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে নতুন আমন ধানের চালে পিঠা-পায়েশ খাওয়ার উৎসব চলছে। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বাড়িতে দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ছুটে আসেন পিঠা খেতে এবং মেলা দেখতে। আয়োজক কমিটির সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জানান, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে আগামীতেও এটি ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় একটি বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে গফরগাঁও পৌর শহরের ইমামবাড়ি ঈদগাহ মাঠে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে আমি গফরগাঁও পৌর এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলাম। আসুন ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করুন।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল চায়, ন্যায়ের পক্ষে ইনসাফের পক্ষে ভোট দিতে চায়, ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিতে চায়।" এ সময় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গফরগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ইসহাক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল হামিদ শেখ এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক আহবায়ক গফুর হাসান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক আজহারুল হক এবং ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক আঃ আজিজ সাদেক। সভা শেষে দোয়া মাহফিলের মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি মোঃ আসাদুল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর জেলা কারাগারে সুলতান শেখ (৪০) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীর মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারী) সকালে কারাগার থেকে তাকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এই আসামির বাড়ি ইসলামপুর উপজেলার নটারকান্দা এলাকায়, চটকু শেখের ছেলে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সুলতান শেখ গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। তিনি শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং এর আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার (১০ জানুয়ারী) সকালে প্রচণ্ড শীতে তার শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামালপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার ইমতিয়াজ জাকারিয়া জানিয়েছেন, দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী সুলতান শেখ শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে ভুগছিলেন। সকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ফিরে পেলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডাঃ মাহাবুবুর রহমান লিটন, যিনি ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনি সেই প্রার্থীতা পুনরুদ্ধার করেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে কমিশন তাঁর মনোনয়নকে বৈধ ঘোষণা করে। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল জমা দেন ডাঃ মাহাবুবুর রহমান লিটন।
আপিল নিষ্পত্তির পর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডাঃ মাহাবুবুর রহমান লিটন বলেন, "উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।" তিনি আরও জানান, "র্দীদিন পর জনগণ তাদের ভোটধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সরকারি কর্মচারীরা বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে নাসিরনগর উপজেলা কল্যান ফেডারেশন শাখার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
তাদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল- অনুপাতে ১২ গ্রেডভিত্তিক নতুন পে-স্কেল নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা, দ্রুততম সময়ে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা। এ ছাড়া, তারা জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মোঃ ফরিদুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের হিসাবরক্ষক মীর মোশারফ হোসেন, উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ রাশিদুল হাসান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মোঃ রমজান মিয়া, উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী শরিফা আক্তার, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিদর্শিকা রাজিয়া সুলতানা এবং উপজেলা কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীরা অবিলম্বে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। মোঃ ফরিদুল হক বলেন, "বাংলাদেশে কোন বৈষম্য যেন না থাকে, এই জন্য আপনাকে সবাই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যত কর্মচারী আছে, কর্মকর্তা আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আছেন তাদের কথা চিন্তা করে আপনি আমাদের এই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করবেন বলে আমরা আশা করি। যদি এটা বাস্তবায়ন করেন, সকল বাংলাদেশের যারা এই পে-স্কেলের সুবিধা পাবে, আজীবন তারা মনে রাখবে। শুধু তারাই না, তাদের ফ্যামিলি যারা থাকবে প্রত্যেকেই আজীবন আপনার এই পে-স্কেলের কথা তারা স্মরণ রাখবে।"
উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ রাশিদুল হাসান বলেন, "কর্মচারীরা একত্রে একাত্মা ঘোষণা করে যোগ দেন। আমাদের আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নবম পে স্কেলের দাবী বাস্তবায়নের কর্মসূচিতে সকল কর্মচারীর অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ