০৮:৪৭ পি.এম
চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের সর্বাধুনিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এদিকে মার্কিন সরকার এটির ব্যাপক পরিসরে প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের নতুন জিপিটি-৫.৬ সিরিজ এবং অ্যানথ্রপিকের মিথোস সিরিজসহ সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো নিয়ে গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এসব মডেল সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সাইবার হ্যাকারদের অপব্যবহারের সুযোগ করে দিতে পারে।
এ কারণে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় ওপেনএআই জুনের শেষ দিকে জানায়, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা জিপিটি-৫.৬ এর প্রিভিউ সংস্করণ সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করেছিল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক
বৃহৎ ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) হলো সেই প্রযুক্তি, যার ওপর চ্যাটবটসহ বহু এআই টুল পরিচালিত হয়। বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা এ প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জিপিটি-৫.৬ সিরিজে তিনটি সংস্করণ রয়েছে। ‘সোল’ হচ্ছে কোম্পানির নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল, ‘টেরা’ দৈনন্দিন কাজের জন্য মধ্যম ক্ষমতার সংস্করণ এবং ‘লুনা’ দ্রুতগতির ও তুলনামূলক কম খরচের সংস্করণ।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই জানায়, ‘জিপিটি-৫.৬ সোল, টেরা ও লুনা- তিনটিই বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রিভিউ সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কোম্পানির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬ এর ব্যাপক উন্মুক্তকরণের অনুমতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সউদী আরব ও কাতারের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
তবে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, মডেলটি ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়টি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়। তিনি জানান, ওপেনএআই স্বেচ্ছায় তাদের মডেল পর্যালোচনার জন্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল।
উন্নত এআই মডেল নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই মডেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। একদল কর্মকর্তা এ খাতে সরকারের সীমিত হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে আরেকদল জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওপেনএআইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক জানায়, ওয়াশিংটন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেবল-৫ ও মিথোস-৫ মডেলের প্রকাশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় সেগুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হবে।
মিথোস বাজারে আসার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এআই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে কম বিধিনিষেধের পক্ষেই ছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার ছুটিতে সীমিত পরিসরে চলবে আমদানি-রপ্তানি
তবে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশের আলোকে কোন ধরনের এআই মডেলের ওপর নতুন নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে সরকার মানদণ্ড নির্ধারণ করছে।
ওপেনএআই জুনে জানিয়েছিল, ‘আমরা মনে করি না, এ ধরনের সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়াই দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত পদ্ধতি হওয়া উচিত। এতে ব্যবহারকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যাদের এসব উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন, তারা সেরা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হন।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ভবিষ্যতে নতুন মডেল উন্মুক্ত করার জন্য একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য কাঠামো তৈরিতে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে, যা সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘টেরা’ মডেলটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলে এর ব্যবহারমূল্য জিপিটি-৫.৫ এর তুলনায় অর্ধেক হবে। অ্যানথ্রপিক ও গুগলের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গ্রাহক ধরে রাখার কৌশল হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজস্থানে বাস খাদে পড়ে ৮ নিহত, ১৭ আহত
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গোপনীয়ভাবে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) নথি জমা দিয়েছে। প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নকে সামনে রেখে তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন