বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪২ পি.এম
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিদেশে আরামের পরিবর্তে দেশে ১০ বছরের কারাবাসকেই তিনি বেছে নেবেন যদি দোষী প্রমাণিত হন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তায় এ মন্তব্য করেন।
ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, "যদি কেউ আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এখানে যে কথাগুলো বলা হয়েছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে।"
তার দাবি, "আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে। যদি কেউ আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?" সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, "আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং।"
তিনি বলেন, "কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।"
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, "সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন আইনের অধীনে মামলা তদন্তের ক্ষমতা অর্জন করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে, বাহিনীটি সব ধরনের মামলার তদন্ত করবে না। এপিবিএন শুধুমাত্র সেই মামলাগুলো তদন্ত করবে, যেগুলো সরকার, আদালত বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মাধ্যমে তাদের কাছে ন্যস্ত করা হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পার্বত্য অঞ্চলে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব মামলার জন্য এপিবিএনকে কাজে লাগানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।
ডিআইজি শাহজাহান জানান, নতুন আইনে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে তাদের অবস্থান রয়েছে, তবুও এপিবিএন সব মামলার তদন্ত করবে না। সরকার, আদালত বা আইজিপি যেসব মামলা এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করবেন, কেবল সেগুলোরই তদন্ত করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা জনগণের আগমনের পর ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। দূর-দূরান্তের এসব এলাকায় গিয়ে অপরাধের তদন্ত করা জেলা পুলিশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের ক্যাম্প এলাকায় তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নতুন আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের দায়িত্বও আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিআইজি শাহজাহান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। এত বড় জনগণের তুলনায় জনবলের এই অনুপাতকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বাহিনীটি। ক্যাম্প এলাকায় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ক্যাম্প এলাকায় কোন ধরনের অপরাধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করছে এপিবিএন।
রোহিঙ্গাদের নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, এপিবিএনের মূল দায়িত্ব ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমুদ্রসীমায় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো দায়িত্ব পালন করছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও পুলিশের এখতিয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন এপিবিএনের কর্মকর্তারা। ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরও পুলিশের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের বিষয় দুটি আলাদাভাবে দেখতে হবে। অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বেসামরিক নিরাপত্তা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বিমানবন্দরের কোনো অংশ পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকবে।
বিমানবন্দরে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত এপিবিএন করতে পারবে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নতুন আইনে এতে কোনো বাধা নেই। যদি এপিবিএন মনে করে যে, কোনো অপরাধের তদন্ত তারা করতে পারে, তাহলে আইন অনুযায়ী তা করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের এপ্রন, আউটারসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকবে। আইনে যে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রত্যেক সংস্থা কাজ করবে। তাদের সঙ্গে এপিবিএনের কোনো বিরোধ নেই।
মতবিনিময় সভায় এপিবিএনের গত আগস্ট মাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের তথ্যও তুলে ধরেন ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন, তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ৫৭২ জন। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২টি ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ ঘটনায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪৮৩টি মামলায় ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা ও অভিযানে আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানের তথ্য তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময়ে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগস্ট মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মিলে মোট ৪৩টি জিআর ও সিআর মামলা করেছে।
নতুন আইনে এপিবিএনের দায়িত্বের পরিধি প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, শান্তিকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য ইউনিটকে সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে কাজ করার সক্ষমতাও এপিবিএনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর হামিদুল গাজী একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।
পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম শিরোপা জিতেছে বিলাইছড়ি উপজেলা। রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে তারা ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোল করতে না পারায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে রাঙামাটি সদরকে পিছনে ফেলে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি।
রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। টুর্নামেন্টটি ঘিরে শুরু থেকেই রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা উঠে আসে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, "রাঙামাটির মানুষের কাছে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।" ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, "তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ‘মাদকমুক্ত হোক সমাজ, ক্রীড়া হোক হাতিয়ার’—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু—জেলার ১০ উপজেলা।
টুর্নামেন্টে বিলাইছড়ির সোহাগ বাবু মারমা সেরা গোলদাতা, অজান্ত চাকমা সেরা খেলোয়াড়, জনি সেরা গোল কিপার এবং রাঙামাটি সদরের শফিক ম্যান অব দা ফাইনাল নির্বাচিত হন।
আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টটির লক্ষ্য শুধুমাত্র ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শিশুরা যেন এই সমাজে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং শিক্ষার সুযোগ পায়। শিশুদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষম করে তুলতে হবে। নিরাপদ শৈশব ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে, তারা ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের নানকিং দরবার হলে অনুষ্ঠিত রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এডিপি) অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো সেই দেশের শিশু ও নারীরা কতটা নিরাপদ এবং শিশুরা কতটা সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিটি শিশুকে শিক্ষা, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহীতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই কর্মসূচি আশাব্যঞ্জক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এগিয়ে আসলে শিক্ষা বিস্তার ও মাদক প্রতিরোধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও গতিশীল হবে। শিশুদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া এবং মাদকের ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রমের জন্য ২০২৫ সালে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অংশীজনদের সঙ্গে সভা, শিশু উপদেষ্টা কমিটি গঠন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং শিশু ও যুব ফোরাম গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৪ জন মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০টি পরিবার। ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৯১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। স্থানীয় জনগণ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি-স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ), শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা ও অংশগ্রহণ এবং স্পনসরশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিশুদের টিকাদান ও জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা, অপুষ্টি কমানো এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতে ‘আনলক লিটারেসি’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ও লার্নিং রুটস সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষার বিষয়েও কাজ করা হবে।
এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারের সক্ষমতা বাড়াতে আল্ট্রাপুওর গ্র্যাজুয়েশন মডেল, কমিউনিটি গ্রিনিং ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জেড. গমেজ। তিনি বলেন, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে এটি বড় পরিসরে নেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসূচির বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এ জন্য তথ্য জানানো, মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের মতামত অনুযায়ী কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন এসআইএম রাজিউল করিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ড. জ্যারেড বেরেন্ডস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি রেভারেন্ড বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর-ফিল্ড অপারেশনস রাজু উইলিয়াম রোজারিওসহ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও ও শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানায়, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। মূল কর্মসূচি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে। এরপর দুই বছরের ট্রানজিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩৭ সালে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ