শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৫ এম
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা মন্তব্য করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমী। তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বের ফলে দেশের যুব ও ছাত্রসমাজ মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় সক্রিয় ছিল।
কামরুল হুদা আরও উল্লেখ করেন, অল্প সময়ের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আরাফাত রহমান কোকো নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য সৃষ্টি হয়েছিলেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কামরুল হুদা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার ছাত্র ও যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রফেশনাল মর্যাদা দিয়েছে। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর মানুষ চাকরিতে যুক্ত হয়ে জীবনযাপন শুরু করে, ঠিক তেমনিভাবে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্র সেই পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে। এই ধারাবাহিকতায় আজকের আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চৌদ্দগ্রামে এর আগে বিএনপি ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. খোরশেদ আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: শাহ আলম রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল আহসান মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম দুলাল, সহ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী দুলাল, পৌরসভা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভুইয়া, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং পৌর যুবদলের আহবায়ক মো. হাসান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এর আধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এম ভি মধুমতি, এম ভি রূপসা এবং এম ভি সুগন্ধাকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালে এই বিশেষ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজগুলো পরিদর্শন করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকবৃন্দসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বলেন, "উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।" প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান তার বক্তব্যে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে।" তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাদিসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে এই জাহাজগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহিঃবিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা সাধারণ সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষজন মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তবে, তার এই সফরটি সংক্ষিপ্ত হবে।
নিউইয়র্কে তার সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেটি আর হচ্ছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবেন। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সমস্যাসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ পে্লনকোভিচ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ।
এছাড়া, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশগ্রহণ করবেন।
প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর সফর দীর্ঘ করার পরিকল্পনা ছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং সানফ্রান্সিসকো সফরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্তে সানফ্রান্সিসকো সফর বাদ দেওয়া হয়েছে। সফর সংক্ষিপ্ত করার পেছনে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংবর্ধনা বাতিলের কারণ সম্পর্কে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হলো—সরকারি অর্থ ব্যয় করে বড় ধরনের নাগরিক সংবর্ধনা নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী নন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস আহমেদ জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে সংবর্ধনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারেক রহমান সরকারি অর্থ ব্যয় করে এমন সংবর্ধনা নিতে চাননি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এদিকে, ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে দলীয় উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ওই দিন দেশে ফিরে গেলে তার উপস্থিতিতে নির্ধারিত সংবর্ধনা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, "হাজারো উসকানির মুখে আমাদের চরম ধৈর্য-সংযম দেখাতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "আমরা কারো উসকানিতে পা দেব না।" তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো বাধা প্রদান করা হবে না। গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল রংপুরমুখী লংমার্চের প্রস্তুতি জানাতে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, "আমরা মনে করি, আঘাত এলেও কোনো প্রতিশোধের চেয়ে এই লংমার্চ সফল করার মধ্যে সার্থকতা সবচেয়ে বেশি।" তিনি জানান, এই লংমার্চের জন্য ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানে জনসভা-পথসভার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রথম সমাবেশ শুরু হবে এবং এটি সকাল ৮টায় শেষ হবে। এরপর ঢাকার উত্তর দিক দিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা হয়ে লংমার্চ রংপুরের দিকে এগিয়ে যাবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, লংমার্চের প্রস্তুতির জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে দল-অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্ট সব শাখার নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, "সভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চে ব্যাপক জনসমাগম হবে।" মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, রংপুর অভিমুখে লংমার্চে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে। তিনি আশা করেন, রাস্তার দুই ধারে লাখ লাখ লোক দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের অভিবাদন জানাবেন। নারীরাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এই বহরকে স্বাগত জানাবেন। তিনি চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের তুলনায় উত্তরবঙ্গ অভিমুখে এই লংমার্চে বেশি সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, দলের মিডিয়া সেলের সদস্য জাহিদুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় আসছেন ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম
বগুড়া ব্যুরো জানায়, আজ শনিবার ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিকেল ৩টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
এই লংমার্চ কর্মসূচিতে আরও অংশ নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা। লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় ব্যাপক জনসমাগমের আভাস দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি। ইতিমধ্যেই আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মাটিডালি বিমান মোড়ের এই সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলের আগাম মনোনীত সিটি করপোরেশন মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে এই লংমার্চ ও সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গতকাল শুক্রবারও ব্যাপক গণসংযোগ চালানোর কথা জানিয়েছেন।
প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এড. নুরুল ইসলাম আকন্দ, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাফিকুর রহমান শফি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ বগুড়ার সেক্রেটারি মুফতি মাওলানা মামুন রহমানী। কর্মসূচি সফল করতে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে শেষ প্রস্তুতি সভাও সম্পন্ন হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকা-ের বিচার ও দ্রুত রায় কার্যকর, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সব ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ, স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধের সুনির্দিষ্ট দাবিতে এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী, সরকারি বাহিনী এবং সউদী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের মাধ্যমে এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি সেনাদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সউদী জোটের বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে তাদের অন্তত ৪০ জন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
সম্প্রতি সউদী আরবের মক্কা নগরীর দিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের অভিযোগের পর সংঘাতের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সউদীর ত্বায়েফ নগরীতে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের কারণে এক ইয়েমেনি নাগরিকের মৃত্যু এবং দুজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর এটি সউদী আরবের ভূখণ্ডে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত ‘আল মাসিরা’ টিভি জানিয়েছে, ‘সউদী-সমর্থিত বাহিনী’র হামলায় ৩ শিশু নিহত হয়েছে। তাইজ প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে বিমান হামলায় এক সাধারণ নাগরিকও প্রাণ হারান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই তীব্র লড়াইয়ের কারণে ইতোমধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের পুরো ইয়েমেন উপকূল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে এবং বাব আল-মানদে প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর আবারও বড় পরিসরে আক্রমণ চালাব, নাকি এটি এখানেই থামাবÑসে বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আমার পক্ষ থেকে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
সউদীর কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সউদী আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি এফ-১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিক্রয় সউদী আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশটির সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সমন্বয় জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এটি ভূমিকা রাখবে বলেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এফ-৩৫ বিক্রি হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে না। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার প্রাধান্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে শুধুমাত্র ইসরাইলই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের মূল প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ইরানের মূল প্রতিনিধি দলকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইরানি প্রতিনিধি দলের আকার সীমিত রাখা হবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত একটি কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেশ করা খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে স্থায়ী দুই সদস্য দেশ রাশিয়া ও চীন। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেছে। নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এই খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করে আসছিল মস্কো ও বেইজিং। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিপক্ষে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানায় দুই দেশ।
পাকিস্তান বলপ্রয়োগের চেয়ে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করে পাকিস্তান জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত সমাধানে কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের বদলে আলোচনা ও কূটনৈতিক মাধ্যমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকার সামরিক শক্তি প্রয়োগের চক্রে অংশ না নিয়ে বরং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে চায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, “হুতিদেরও সব ধরনের হামলা ও হামলাজনিত কর্মকা- বন্ধ করা উচিত। আমাদের আলোচনা মূলত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রিক, কোনো চাপ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়।” তবে সউদী আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই মুখপাত্র। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ এবং সম্প্রতি তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’-এর প্রতি নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই চুক্তিগুলোর আওতায় ইতোমধ্যে সউদীতে সেনা মোতায়েন বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে মোতায়েনকৃত বাহিনীর ধরণ বা অপারেশনাল বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
হরমুজে ফের তেলের ট্যাংকারে হামলা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে আবারও একটি বাণিজ্যিক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালীটিতে এটি দ্বিতীয় কোনো ট্যাংকারে হামলার ঘটনা, যা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, টাগোর পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার বেআইনিভাবে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তারা সেটিতে আঘাত হানে।
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতনের পরও ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল। সউদী আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা হলেও বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হবেÑএমন প্রত্যাশাই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে ছাপিয়ে গেছে। সূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস, ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ