০৬:৪২ পি.এম
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ভিয়েতনামের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২শ’ ৫৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে দেশটি ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে, যার মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার ১শ’ ৫৩ ডলার হিসেবে প্রাক্কলিত হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, এক দশক আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে; এ ক্ষেত্রে তার সামনে রয়েছে কেবল সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো রপ্তানিমুখী উৎপাদনশিল্প, বিশেষ করে ইলেকট্রনিকসসহ উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বিভিন্ন শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ এবং সরকারি অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। হ্যানয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনাউয়ের চেয়ারম্যান হা হোয়াং হপ মন্তব্য করেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং সরবরাহব্যবস্থার বহুমুখীকরণে ভিয়েতনাম ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”
এদিকে, ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এ বছর দেশটির জিডিপি ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে, যেখানে ভিয়েতনামের জিডিপি হতে পারে ৫৪ হাজার ২শ’ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৮ হাজার ৫শ’ ডলারে উন্নীত করা, যা মোটামুটি থাইল্যান্ডের বর্তমান মাথাপিছু জিডিপির সমান।
আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ
বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং অর্থনৈতিক পরামর্শক রেমন্ড ম্যালন বলেন, যদি ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৩ শতাংশ হয়, তাহলে ভিয়েতনামের জন্য থাইল্যান্ডকে ছুঁতে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, এমনটি ঘটার সম্ভাবনা কম; বরং থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে। ম্যালনের মতে, ইলেকট্রনিকস ও চিপ তৈরির মতো উদীয়মান শিল্প খাতে থাইল্যান্ডের তুলনায় ভিয়েতনামের উৎপাদন সুবিধা বেশি রয়েছে, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কাজ করছে।
হা জানান, গত বছর ভিয়েতনাম প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। একই সময়ে সিঙ্গাপুর পেয়েছে ১৫ হাজার ৯০ কোটি ডলার এবং ইন্দোনেশিয়া পেয়েছে ২১ হাজার ৪০ কোটি ডলার। তবে, ১৯৮০-এর দশকে ‘দোই মোই’ বা উন্মুক্ত নীতি গ্রহণের পর এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ থেকে ভিয়েতনাম আমূল পরিবর্তিত হলেও, দেশটি এখনও বহিরাগত অর্থনৈতিক অভিঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ আমেরিকাই ভিয়েতনামের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তবে, উচ্চ সাক্ষরতার হার, প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার এবং স্বল্প ব্যয়ে দক্ষতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম শ্রমশক্তি দেশটির অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
হা বলেন, আঞ্চলিক উৎপাদন নেটওয়ার্কে ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা দেশটির দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে, অবকাঠামো খাতে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব আকর্ষণ করতে এবং আসিয়ানের সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই ভিয়েতনাম আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় ভিয়েতনামের সামান্য ব্যবধান বজায় থাকবে। ওই বছর ভিয়েতনামের মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার ৬শ’ ৫৯ ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার ৫শ’ ৫০ ডলার হতে পারে। তবে ম্যালন সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনীতির সামগ্রিক আকার ও জনসংখ্যার দিক থেকে ইন্দোনেশিয়া এখনো প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াও শক্তিশালী অর্থনৈতিক পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন