ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ আমাদের তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি: প্যাট কামিন্স


বাংলাদেশ আমাদের তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি: প্যাট কামিন্স

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছিল বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দলটি ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে জয় লাভ করে। যদিও সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া পরাজিত হয়, তবে দলের টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না।

২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যায়। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে পরাজিত করে টাইগাররা ইতিহাস সৃষ্টি করে। হাসান মাহমুদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি তানজিদ হাসান তামিমের অসাধারণ সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো তারকারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবুও ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়া খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। তবে কামিন্স এই হারের জন্য প্রস্তুতির ঘাটতিকে দায়ী করছেন না।

আরও পড়ুন: রেফারির পকেটে ডিজিটাল কার্ড, কাগজের লাল-হলুদ কার্ডের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার

অজি অধিনায়ক ‘কিপিং ইট ক্রিকেট’ পডকাস্টে বলেন, ব্রিসবেনে তারা যথেষ্ট ভালো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। অ্যাশেজ কিংবা বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ—দুই ক্ষেত্রেই তাদের প্রস্তুতির ধরন একই থাকে। তাই তিনি মনে করেন, প্রস্তুতিতে কোনো কমতি ছিল না।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দাপট দেখাতে থাকে। হাসান মাহমুদ একাই ৬ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করেন। মেহেদী হাসান মিরাজও বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন। ফলে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ানোর তেমন কোনো সুযোগই পায়নি।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও কামিন্সের মনে রয়েছে নিজেদের সেরাটা দিতে না পারার আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘আমার শুধু মনে হয়, আমরা সেরাটা দিতে পারিনি। বাংলাদেশ দারুণ খেলেছে এবং আমাদের তেমন কোনো সুযোগ দেয়নি।’

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ডের মহিলা কাবাডি দল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের দুটি আলাদা ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ জন শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান এবং পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কিছু শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং করেন। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) ঘটে। এই সময় ভুক্তভোগীদের উপর অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ এবং সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু এবং মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে, মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ঘটে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করা হয়।

এই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ১১ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট জরিমানার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অফিস আদেশে আরও জানানো হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী তাদের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাধের ধরন বদলালেও পুলিশের আধুনিকায়ন সম্ভব হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


অপরাধের ধরন বদলালেও পুলিশের আধুনিকায়ন সম্ভব হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, অপরাধের ধরন পরিবর্তন হলেও পুলিশের আধুনিকায়ন এখনও সম্ভব হয়নি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এবং প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে, পুলিশের আধুনিকায়ন এখনও সম্পন্ন হয়নি।

তিনি আরও জানান, থানা ও উপজেলা পর্যায়ে মডার্ন সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রাইম রিপোর্টারদের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। যারা ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম রিপোর্ট করেন, তাদের জন্য ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আইনের সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, যুবসমাজের প্রায় প্রতিটি অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদকের প্রভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধের কারণ সম্পর্কে গবেষণা করা প্রয়োজন, এরপর তা নির্মূল করে অপরাধ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে-রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই: সালেহ শিবলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে-রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই: সালেহ শিবলী

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন জনগণের সেবার দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা ভোগের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণ বুঝতে পারছে যে তারা রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিমূলক সরকার। গণমাধ্যম জনগণের সামনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হয়ে প্রতিদিনের ঘটনাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরছে এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন তথ্য জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছায়। জনপ্রতিনিধিরা ও মন্ত্রণালয়গুলোও বিভিন্ন তথ্য জনগণকে জানায়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতি মঙ্গলবার সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যক্রম পিএমও বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমেও তথ্য জানানো হয়। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানে কোনো সমস্যা বা মানুষের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার বিষয়েও তিনি নজর রাখছেন। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে সরাসরি কথা বলছেন।

তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সরকারের ২১২ দিন চলছে। এর মধ্যে সরকারের অনেক কাজের ফল জনগণ পেয়েছে, আবার কিছু কাজের ফল পেতে আরও সময় লাগবে। এসব কাজ এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, সেটির ফল পেতে সময় প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শালেহ শিবলী বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করা যায়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল জনগণ খুব শিগগিরই পাবেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। স্কুলের ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা করা এবং ব্যাংকিং সময় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও ওই সরকারকে এমন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব নিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিষয়টি কেন তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, জনজীবনে স্বস্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক—এটি জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে।

জনগণের রাষ্ট্রের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনি—জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তবে জনগণকে কীভাবে তা অনুভব করানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে যে তারা রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেখছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আছেন।

সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, ১৫০ টাকার খাবার বা ১ হাজার টাকার খাবার—কোনটি খাওয়া হচ্ছে, সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, জনগণের হাজার হাজার টাকা একটি খাবারের প্যাকেটের পেছনে ব্যয় না করে জনগণের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫০ টাকার মধ্যে সুশৃঙ্খল ও সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা। জনগণের টাকার প্রতি সম্মান দেখানো এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা—এটাই বড় বিষয়।

তিনি বলেন, জনগণ যাতে মনে করে সরকার তাদের মতো করেই চলছে এবং সরকারকে তারা বিশ্বাস করতে পারে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

সালেহ শিবলী বলেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এটি একটি দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে যারা আছেন তারা যেমন বিষয়টি বুঝছেন, তেমনি জনগণও তা অনুভব করতে শুরু করেছেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে আগেই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঘরে এসির পেছনে জমে থাকা পানি, বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি কিংবা আশপাশের গর্তে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।

সালেহ শিবলী বলেন, গত সপ্তাহের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী স্কাউটস, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্তত প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষ যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেয় এবং প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে, ঘরে ও আশপাশে ময়লা পানি জমতে না দেয়, তাহলে ডেঙ্গুর মরণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী, মন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ—মশা কাউকে আলাদা করে চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সবাই যদি আজ থেকেই নিজের চারপাশ পরিষ্কার করা শুরু করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেকের আহ্বান

গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের কাজ শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনাও সরকারের দায়িত্ব। গত এক মাসে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বর্তমানে অনেক গুজব ও গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা—অনেক সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই দেশের টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকাগুলো প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে গুজব, গুঞ্জন, সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টচেক নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান ও প্রতিবেদন করতে পারে।

তিনি বলেন, সারাদিন মানুষ যে ধরনের গুজবের মধ্যে বসবাস করেছে, দিনের শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা পত্রিকার প্রতিবেদন দেখে যেন তা যাচাই করে নিতে পারে—সকাল থেকে দেখা বা শোনা তথ্যের কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের উদ্যোগ নিলে গুজব ও গুঞ্জনের সময় থেকে মানুষকে বের করে আনা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%