রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ পি.এম
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এ অত্যাধুনিক এম৭৭৭ আল্ট্রা লাইট হাউইটজার ব্যবহার করে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া সম্পন্ন করেছে। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় দুই দেশের সেনাদের কামান পরিচালনার সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, প্রথমে ভারতীয় সেনাদের কামান দল এম৭৭৭ হাউইটজারের গোলাবর্ষণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে। এরপর সফররত মার্কিন সেনারা কামান অবস্থানে এম৭৭৭ ব্যাটারির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকর কৌশল বিনিময় করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুশীলনে উভয় বাহিনীর আর্টিলারি সক্ষমতা এবং যৌথ কৌশলগত সমন্বয় তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আর্টিলারি দলের সদস্যরা এম৭৭৭ হাউইটজার কামান দিয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে গোলাবর্ষণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।
এম৭৭৭ আল্ট্রা লাইট হাউইটজার একটি হালকা ওজনের অত্যাধুনিক শক্তিশালী কামান, যা সর্বোচ্চ ১৫৫ মিলিমিটার দূরে লক্ষ্যে গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম। এটি মূলত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর নকশাকৃত দূরপাল্লার অস্ত্র, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। প্রথাগত ভারী কামানের তুলনায় এটি ওজনে অত্যন্ত হালকা হওয়ায় একে ‘আল্ট্রা লাইট’ বা অতি হালকা বলা হয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবর্ষণের সফল অনুশীলনের পর সফররত মার্কিন সেনারা ভারতের সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, কৌশল ও কার্যপদ্ধতি আদান-প্রদান করেন। মূলত এম৭৭৭ হাউইটজার ব্যবহারের ওপর একটি লেকচার ও ব্যবহারিক প্রদর্শনীর ধারাবাহিকতায় এই লাইভ ফায়ারিং পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে এই আর্টিলারি সিস্টেমের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল কামানের অবস্থান নির্ধারণ, স্থানীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়, প্রতিপক্ষের গোলাবর্ষণের মুখে বিকল্প অবস্থানে সরে যাওয়া এবং গোলাবর্ষণ করেই দ্রুত স্থান ত্যাগের অনুশীলন।
ভারত ও মার্কিন সামরিক মহড়া ২২তম ‘যুদ্ধ অভ্যাস’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়াটি উত্তরাখণ্ডের অউলি ফরেইন ট্রেনিং নোড এবং রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০০ করে সেনাসদস্য এতে অংশ নিচ্ছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ গোলাবারুদ ব্যবহার করে এম৭৭৭-এর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সহায়ক প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে তা প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ে। আর এম৯৮২ এক্সক্যালিবারের মতো নির্ভুল নিশানাভিত্তিক গোলাবারুদ ব্যবহার করলে এম৭৭৭এ২ প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন আইনি চাপের মুখোমুখি হয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। ফ্রান্সে তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এই অভিযোগের সঙ্গে ২০২৪ সালে ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ-এর টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রির আলোচনা সম্পর্কিত বিষয় জড়িত। ফ্রান্সের প্রসিকিউটর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খেলাইফির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনি পিএসজির সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন বেইন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যানও। একই সঙ্গে তিনি ফরাসি পেশাদার ফুটবল লিগের (এলএফপি) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেলিভিশন স্বত্ব নিয়ে লিগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তার ভূমিকা নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠেছে।
অ্যান্টিকোর নামের দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত এপ্রিলে তদন্ত শুরু হয়। দুর্নীতিবিরোধী ও আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী পুলিশকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অ্যান্টিকোরের অভিযোগ, বেইন স্পোর্টসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় খেলাইফি এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থও জড়িত ছিল। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, তিনি অন্যান্য ক্লাব সভাপতিদের ওপর বেইনের প্রস্তাব সমর্থনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
২০২৪ সালের ওই আলোচনার পর বেইন স্পোর্টস ফ্রান্সের লিগের একটি ম্যাচ প্রতি সপ্তাহে সম্প্রচারের জন্য ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দেয়। পরে এলএফপি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে।
তবে খেলাইফির আইনজীবী রেনো সেমেরজদিয়াঁ অভিযোগগুলোকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নাসের আল খেলাইফির বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোর কোনো আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি সবসময় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।’
নাসের আল খেলাইফির বিরুদ্ধে এটি প্রথম আইনি তদন্ত নয়। কাতারে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের বিডকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত জানায়, এ ব্যাপারে খেলাইফির বিরুদ্ধে মামলা চালানোর এখতিয়ার ফরাসি বিচারব্যবস্থার নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফুটবল বিশ্ব একটি অবিশ্বাস্য গোলবন্যার ম্যাচ উপভোগ করেছে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সান্ডারল্যান্ডকে ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরের মাঠে এনজো ফার্নান্দেজ এবং আর্লিং হালান্ডের গোলে সান্ডারল্যান্ডকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে সিটিজেনরা।
প্রথমার্ধ থেকেই দুই দলের মধ্যে আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণ ম্যাচটিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ম্যাচের শুরুতেই দুই দল গোল উৎসবে মেতে ওঠে। ম্যাচের ৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ম্যানসিটিকে প্রথম লিড এনে দেন।
ম্যানসিটির রক্ষণে একাই কাঁপন ধরিয়ে সান্ডারল্যান্ডের ডাচ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রোবে ১১ মিনিটে দলের পক্ষে সমতা ফেরান। ২৮ মিনিটে ফরাসি উইঙ্গার রায়ান চেরকি গোল করে আবারো সিটির লিড নিশ্চিত করেন। কিন্তু সিটিজেনরা তাদের লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নেদারল্যান্ডসের তারকা ব্রোবে।
ঘানার ফরোয়ার্ড আন্তোইন সেমেনিও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি ৪২ ও ৫৬ মিনিটে দুটি চমৎকার গোল করে সিটির জয় নিশ্চিতের পথ সহজ করে দেন। এরপর ৫৮তম মিনিটে গোল করে নিজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ডাচ স্ট্রাইকার।
প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডই ছিল একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে আর্লিং হালান্ড আগে গোল করতে পারেননি। তবে এই ম্যাচে গোল করে তিনি সেই আক্ষেপ দূর করেছেন। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে সিটির হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন এই নরওয়ের গোলমেশিন।
আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণে ঠাসা এই ম্যাচে সিটির হয়ে গোল উৎসবে মাতেন বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা, তবে সান্ডারল্যান্ডের হয়ে একাই হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারেননি ব্রায়ান ব্রোবে।
এই জয়ের মাধ্যমে নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি লিগে নিজেদের টানা জয়ের ধারা বজায় রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিয়াল মাদ্রিদ বড় ধাক্কা খেয়েছে মাদ্রিদ ডার্বিতে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৫১ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর রিয়ালের ডিফেন্ডারকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি অ্যাটলেটিকোকে পেনাল্টি দেওয়া হয়।
৫৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। এর ফলে ১০ জনের রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে। পরবর্তীতে ডেভিডের গোলে স্কোরলাইন ২-০ হয়ে যায়।
হুইসেনের মাঠ ছাড়ার পর রিয়ালকে বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হচ্ছে। চলতি লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে এই ঘটনা ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেন্টাগন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে মোট ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এই তথ্য দুটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত হয়েছে, যারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
সূত্র দুটি উল্লেখ করেছে যে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধে খরচের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এই পরিমাণের সাথে অতিরিক্ত জ্বালানির জন্য ১৫০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই হিসাব যুদ্ধের মোট খরচের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করে না।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন ঘাঁটি বা ভবনের মেরামতের খরচ এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। আইনপ্রণেতারা যে পরোক্ষ সামরিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন, পেন্টাগন কংগ্রেসকে সেটাও সরবরাহ করেনি।
পেন্টাগনের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের খরচের হিসাব কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) হিসাবের তুলনায় বেশি। সিবিও জানিয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। এর আগে জুলাই মাসে পেন্টাগন জানিয়েছিল, যুদ্ধে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার।
বাজেট অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা মেরামতের খরচ তাদের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, মোট খরচের বড় অংশ গোলাবারুদ কেনার জন্য হয়েছে। সিবিও হিসাব করেছে, ১ আগস্টের পর যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হবে। লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়লে এই খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হয়েছে।
বাজেট অফিস কংগ্রেসকে আরও জানিয়েছে, এই যুদ্ধ ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমন একটি সময়ে এই ব্যয় বাড়বে, যখন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ