ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি


গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি

 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো 'আয়নাঘর' থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’

আজ সকাল ১১টায় 'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র করতে চায় সরকার

তিনি বলেন, ‘এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা 'আয়নাঘর' এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকয়টিকেই একসঙ্গে ভুলুষ্ঠিত করা হয়।

আরও পড়ুন: পুলিশের জন্য এবার দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব, সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারের

দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

এসময় তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া আ. লীগ নেতা গ্রেফতার

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না।

এসময় তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

একইসাথে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সানজিদা ইসলাম তুলির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

আরও পড়ুন: বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী

তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের জাপান সফর কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসহাক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো ব্যারিস্টার শাহজাহানকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


ইসহাক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো ব্যারিস্টার শাহজাহানকে

আদালত ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে, যিনি ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। গাড়িচালক ইসহাক জমাদ্দারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আদাবর থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ আজ তাকে কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর পর তাকে আবারও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুসারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর আদাবর থানাধীন শ্যামলী ক্লাব মাঠ সংলগ্ন এলাকায় গাড়িচালক ইসহাক জমাদ্দার (৪৭) স্বৈরাচারবিরোধী বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এই সময় দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। এই ঘটনার পর একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে ঘুরছিলেন ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা, ঘটনা কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


রাতে পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে ঘুরছিলেন ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা, ঘটনা কী?

রাজধানীর গুলশান এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় মো. সাইফ ইমরান (৩৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটকের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে নিজেকে ডিজিএফআইর কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেন, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৭টায় গুলশান থানার অধীনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশে ও পাকিস্তান দূতাবাসের পশ্চিমে গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউতে একটি মোটরসাইকেল পার্ক করার সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই জায়গায় সন্দেজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। ওইসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।

কিন্তু, তার পোশাক ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি স্বীকার করেন যে তিনি ডিজিএফআইর সদস্য নন। ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করা হয়। 

ওই যুবকের কাছ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি রেইনকোট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত বিলটি পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতের দুই সদস্য, ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ, প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান বলেন, "বিতর্কিত এই বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।" তিনি আরও বলেন, "এটি নিয়ে দেশি-বিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অংশীজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।"

তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদীয় কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগকে সংকুচিত করে।

নাজিবুর রহমান বলেন, ‘পূর্বের অধ্যাদেশ বাতিলের পর সরকার শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলে কমিশনকে আরো দুর্বল করা হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সুধীজনের মতামতের নথি কমিটিকে না দেখিয়ে এবং দুই দিনের বাধ্যবাধকতা দিয়ে কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করা হচ্ছে, বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার যেভাবে কমিশনকে দুর্বল করেছিল, এবারও একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনও সরকার পুনরায় ফ্যাসিবাদী রূপ নিলে যেন মানবাধিকার কমিশন কথা বলতে না পারে, সে জন্যই তাদের ক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে।

সংসদে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে দমনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পূর্বের নোট অব ডিসেন্ট ও সংশোধনী প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি। আইনটি প্যারিস প্রিন্সিপলস ও জিএএনএইচআরআই-এর স্বীকৃত মানদণ্ডের অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রক্রিয়াটির কোনও দায়ভার জামায়াত নেবে না এবং বিল পাসের কোনও ধাপে তারা অংশ নেবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল-চীন বন্যা : সর্বশেষ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


নেপাল-চীন বন্যা : সর্বশেষ পরিস্থিতি

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা রোববার প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। উদ্ধারকারীরা হাঁটুসমান ও গভীর কাদার মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বুধবারে হিমালয় অঞ্চলে সুনামির মতো আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

-মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে-

নেপাল এবং তিব্বতের দায়িত্বশীল চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের মোট সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এখন পর্যন্ত ৬৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। শনিবার নেপাল মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ৬৭৫ জন বলে জানিয়েছে।

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের বড় একটি অংশ বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য কার্যত দুর্গম হয়ে থাকায় সেখানে দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া শনিবার জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৫৪ জন নিখোঁজ এবং ৭ জন নিহত হয়েছেন।

-সুড়ঙ্গে আটকা ১০০ জনের বেশি-

নেপালের সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ‘অত্যন্ত কঠিন’ পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ১০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে।

বরফ ও পাথর মিশ্রিত ভয়াবহ পানির স্রোত যেসব নদী দিয়ে নেমে আসে, সেসব নদীর ওপর থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া এসব মানুষও রয়েছে।

এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকা ভারত ১১ সদস্যের একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। চীনও সহায়তার জন্য ৯ সদস্যের একটি সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

-পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ লাগতে পারে-

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর দেশের পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গবেষণা করব। এরপর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এরই মধ্যে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।’

-উদ্ধারকেন্দ্রে স্বজনদের ভিড়-

নেপালের বিদুর শহরের একটি সেনাঘাঁটিতে স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে। এটি উদ্ধার কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে দেয়ালে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বজনদের তালিকায় নিজের ছেলের নাম খুঁজছিলেন কালকা শারদা।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে খুঁজতে এখানে এসেছি। সে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু তালিকায় তার নাম খুঁজে পাচ্ছি না। কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না।’

-হিমবাহ পর্যবেক্ষণ বাড়াচ্ছে ভারত-

মারাত্মক এই বন্যা হিমবাহ ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার কয়েক দিন পর চীন ও নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত।

ভারতের হিমালয়ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মদন কৌশিক বলেন, ‘নেপালের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এবং একই ধরনের ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে আমরা ওই অঞ্চলের সব হিমবাহ ও পরিচিত হিমবাহ-হ্রদ পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি।’

-আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তাব-

রেড ক্রসের হিসাবে জানা গেছে, নেপালে এই দুর্যোগে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার নেপাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন, ডিএনএ পরীক্ষার কিট এবং মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত রাখার ইউনিট।

এখন পর্যন্ত কানাডা ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার (৩৬ লাখ মার্কিন ডলার) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০ লাখ ইউরো (২৩ লাখ মার্কিন ডলার) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও শুক্রবার নেপালকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার জানিয়েছে, তারা নেপালকে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নেপালের জনগণের পাশে রয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবারকে তিন মাস পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার অর্থও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%