ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কিয়েভে বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২, সতর্কতা জারি জেলেনস্কির


কিয়েভে বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২, সতর্কতা জারি জেলেনস্কির

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগরীর মেয়র। এর আগে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে ‘বড় ধরণের হামলা’ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানীতে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দিতে বিমান হামলার সাইরেন প্রায় সারাক্ষণই বাজছে।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানায়।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের

বুধবার ভোরে, সামরিক বাহিনী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা জারি করলে, বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন। তারা সঙ্গে করে ডাফেল ব্যাগ, ঘুমানোর মাদুর ও কম্বল নিয়ে যান।

ব্যাংকে কর্মরত ইরিনা রিবালচেঙ্কো মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে বসে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। আমরা পাশেই থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো কিয়েভ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। আমাদের গ্রুপ চ্যাট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই সতর্ক থাকতে বার্তা দিচ্ছিলেন।’

রাশিয়ার হামলায় লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে জ্বালানি অবকাঠামো এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। এর মধ্যে দিনিপ্রো নদীর দুই তীরে বিস্তৃত রাজধানীকে সংযুক্তকারী সেতুগুলোও রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নতুন রেকর্ড ৪২ লাখ ৮১ হাজার ২৬

‘কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করছে’-

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, বুধবারের হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ দারনিতস্কি এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ফলে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আগুন নেভানোর সময় দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া গেছে।’

এর আগে, জেলেনস্কি বাসিন্দাদের বিমান হামলার সাইরেনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন। রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ বিষয়ে হালনাগাদ গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যতটা সুযোগ দেয়, ততটা সক্ষমতা নিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত।’

জেলেনস্কির ভাষণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সতর্ক করে জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে আসছে।

সামরিক পর্যবেক্ষণকারী চ্যানেলগুলোও বড় ধরণের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে। তাদের মতে, এ হামলায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনও ব্যবহার করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির পতাকা মিছিল ঘিরে ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন

৩৬ বছর বয়সী দারিয়া মেদভেদেভা এএফপিকে বলেন, ‘শিশুরা ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। যখনই ভারী গোলাবর্ষণ হয়, আমরা ভূগর্ভে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

কিয়েভে অবস্থানরত এএফপি’র এক সাংবাদিক বুধবার ভোরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে ৭, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী তিন শিশুও রয়েছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হলে তারা আহত হয়।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের আকাশপথ, বেড়েছে ভাড়া ও ভোগান্তি

কিয়েভের মেয়র গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছিলেন, রাজধানীকে এখন যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে থাকতে হবে। তার ভাষায়, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষ ‘কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করছে।’

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরও জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে হামলায় পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্থিতিশীল বিশ্বে গ্রিসের সঙ্গে স্থিতিশীলতার বার্তা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


অস্থিতিশীল বিশ্বে গ্রিসের সঙ্গে স্থিতিশীলতার বার্তা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিসকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং অস্থিতিশীল বিশ্বে ‘স্থিতিশীলতার উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিস যৌথভাবে কাজ করবে।

এথেন্সে বুধবার গ্রিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ গেরাপেট্রিটিসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ওই দিন প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়গুলো সামনে রেখে দুই দেশের ষষ্ঠ কৌশলগত সংলাপ শুরু হয়।

রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসের জোটের গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ইতিহাস ও অভিন্ন ঐতিহ্য রয়েছে, পাশাপাশি নিজেদের জন্য বিদ্যমান হুমকি এবং সেগুলো মোকাবেলার উপায় নিয়েও একটি অভিন্ন বোঝাপড়া বিদ্যমান।

গ্রিসের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বৃদ্ধির প্রশংসা করে তিনি জানান, চলতি বছর দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি মূল প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী তথ্য বিনিময়ের নতুন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে জোরদার করতে যৌথ নিরাপত্তা কর্মসূচি চালুর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের ঘোষণা দেন তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্রিসকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন ও মানবপাচারের বিভিন্ন রুটের সংযোগস্থলে গ্রিসের অবস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেন রুবিও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কোনো একটি অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেন পুরো বিশ্ব হুমকির মুখে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহের বিকল্প পথ থাকা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি এবং নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জ্বালানি করিডর সম্প্রসারণে ওয়াশিংটন কাজ করছে বলেও জানান রুবিও। এ প্রচেষ্টায় গ্রিসকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাচীন নিদর্শন পাচার ঠেকাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় দুই দেশের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রুবিও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবির ক্যাফেটারিয়ায় খাবারে মিলল কেড়া পোকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


পাবিপ্রবির ক্যাফেটারিয়ায় খাবারে মিলল কেড়া পোকা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সেন্ট্রাল ক্যাফেটারিয়ার খাবারে কেড়া পোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ক্যাফেটারিয়ায় খাবার খাওয়ার সময় তরকারির মধ্যে এই পোকা পাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ, প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শেষে দুপুরের খাবার খেতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাফেটেরিয়ায় যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর খাবার হাতে পেয়ে খেতে বসলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুহুল আমিন খাবারের মধ্যে কেড়া পোকা দেখতে পান।

রুহুল আমীন জানান, "প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন খাবার হাতে পেলাম, তখন দেখি খাবারের মধ্যে একটি বড় আকারের কেড়া পোকা রয়েছে। সকাল থেকে পরীক্ষা দিয়ে এসে যদি এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার গ্রহণ করতে হয় এবং খাবারের মধ্যে এ ধরনের পোকা পাওয়া যায়, তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোথায় যাব?"

রুহুল আমীন আরও বলেন, "পোকা পাওয়ার পর আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বিষয়টি নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার কর্মচারীদের কাছে অভিযোগ জানালে তারা আমাদের আশ্বস্ত করার পরিবর্তে বলেন, ‘যা ইচ্ছা তাই করেন, যাকে পারেন বিচার দেন।’ এ ধরনের আচরণে আমরা আরও হতাশ হয়েছি।"

রুহুল আমীনের অভিযোগের বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার সোহানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার প্রশাসক ড. মো. একরামুল ইসলাম বলেন, "এবিষয়ে আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। হয়তোবা রান্নার পরে পোকাটি এসেছিলো। কারণ, আগে পোকাটি পড়লে তো সিদ্ধ হয়ে সব শেষ হয়ে যেত। আমি ক্যাফেটেরিয়ার সবাইকে বলেছি, পরবর্তীতে তাঁরা যেন এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার বিধ্বংসী যুদ্ধে জনজীবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


গাজার বিধ্বংসী যুদ্ধে জনজীবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

ইসরায়েলের তিন বছরের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকার জনজীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবাগুলো এখন অনেক মানুষের কাছে দুর্লভ হয়ে পড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হলো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু ধ্বংসস্তূপে নয়, মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষ জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিল। পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম এবং স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বহু পরিবারের।

পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগস্টের শুরুতে মূল্যায়ন করা পরিবারগুলোর ৯১ শতাংশ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। গাজায় কার্যকর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল এবং অন্যান্য জরুরি সেবা চালাতে জেনারেটর, জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের চলাচল এবং ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও কঠিন করে তুলেছে।

যুদ্ধের ফলে গাজার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে গাজার মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ছিল মাত্র ২১২ ডলার, যা ২০২২ সালের প্রায় ১৭ শতাংশ। কৃষি ও শিল্প উৎপাদনও যুদ্ধের আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

কর্মসংস্থান ও আয় কমে যাওয়ার ফলে বহু পরিবার এখন মানবিক সহায়তা, ঋণ এবং ছোটখাটো অনানুষ্ঠানিক কাজের ওপর নির্ভরশীল। পণ্যের সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় ব্যাপক বেড়ে গেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় সাত লাখ শিশু প্রায় টানা তিন বছর সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু বা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ছে, আবার প্রায় দুই লাখ শিশু কোনো শিক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না।

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার ৩৬টি হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি কোনোভাবে কার্যক্রম চালালেও একটিও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার উপকরণ এবং জ্বালানির ঘাটতির কারণে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার সুযোগও সীমিত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় ১২ হাজার ৪০০ রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আরও বহু মানুষ এমন বিশেষায়িত চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা গাজার ভেতরে পাওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়, পানি এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

যুদ্ধ গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে উপত্যকার বড় অংশে মানুষের প্রবেশ সীমিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের এক হিসাবে, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ-নিষেধের আওতায় ছিল বলে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে। ফলে ২০ লাখের বেশি মানুষ উপত্যকার তুলনামূলক ছোট একটি এলাকায় ঘন হয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাফাহ এ পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ। যুদ্ধের সময় দক্ষিণ গাজার এই শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৮ লাখের বেশি মানুষ রাফাহ থেকে আবারও বাস্তুচ্যুত হন। বর্তমানে শহরটির বড় অংশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বহু ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

যুদ্ধ গাজার বেসামরিক প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করেছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করা হামাসের প্রশাসনিক কাঠামো যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতাও কমেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্তত ১২টি হামলায় ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

তিন বছরের যুদ্ধ গাজার মানুষের জীবনকে শুধু ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেনি, বরং বেঁচে থাকার পুরো কাঠামোকে বদলে দিয়েছে। ঘর, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি এবং চলাচলের সুযোগ হারিয়ে লাখো মানুষ এখন প্রতিদিনের জীবন চালাচ্ছেন অনিশ্চয়তা এবং সংকটের মধ্যে। যুদ্ধের অবসান হলেও গাজার স্বাভাবিক জীবন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় এবং বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের অভ্যুত্থান নেতা থেকে প্রেসিডেন্টে পরিণত হওয়া মিন অং হ্লাইং বুধবার মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।

এটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর তার প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মিন অং হ্লাইংকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নেমে একটি অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%