ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

খার্গ দ্বীপে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা


খার্গ দ্বীপে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে, দ্বীপটির উপকূল থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ইরানি সংবাদমাধ্যম

তাসনিম নিউজ

দ্বারা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিজিতের পর আটক হলেন নেহা বোরা, দিল্লি পুলিশের হাতে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, ট্যাংকারটি দ্বীপটির নিকটে নোঙর করা অবস্থায় মার্কিন বাহিনী সেখানে ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর, ট্যাংকারের নাবিকরা নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, এই হামলার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, হামলার ফলে ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিয়ের তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


ভৈরবে যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিয়ের তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করে মৃত স্বামীর সরকারি পেনশনের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে পরিচিত সাগর আহমেদ উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন মৃত স্বামীর পরিবারের সদস্যরা।
অভিযুক্ত আফসানা বেগম ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অফিস সহায়ক মৃত আসাদ মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তা গোপন রেখে বিধবা হিসেবে স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন।
তবে আফসানা বেগম দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে সাগর আহমেদ দাবি করেছেন, আফসানা তার স্ত্রী এবং পেনশনের টাকা উত্তোলনের সুবিধার্থে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
মৃত আসাদ মিয়ার ভাই ও অভিযোগকারী কাউসার মাহমুদ বলেন, “আমার ভাই সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়কের চাকরি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমার ভাবি আফসানা বেগম আরেকটি বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তিনি আমাদের না জানিয়ে ভাইয়ের প্রাপ্য পেনশনের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। আমাদের কিছু না জানিয়ে ভাবি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মা অসুস্থ, অথচ ভাইয়ের পেনশনের এক টাকাও আমার মাকে দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ভাবি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে হলে এভাবে পেনশনের টাকা উত্তোলন করা যায় না। আমি চাই বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সাদিয়া নামে একটি ভাতিজি রয়েছে। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা চিন্তিত।”
জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি মারা যান সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আসাদ মিয়া। তার স্ত্রী আফসানা বেগমও একই প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সংসারে সাদিয়া নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেন আফসানা বেগম। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি গোপনে সাগর আহমেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন।
স্থানীয়ভাবে সাগর আহমেদ উজ্জ্বল যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় যুবলীগ নেতারা জানান, তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই। তাদের দাবি, ব্যক্তি সাগরের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে আফসানা বেগম বলেন, “আমার কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তবে সাগর আহমেদ বলেন, “আফসানা আমার স্ত্রী। সে আমাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল। গোপন না রাখলে নাকি আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না।”
এদিকে আফসানা বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া দাবি করেন, “সাগর আমার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরের কাছ থেকে আমার বোনকে ডিভোর্স করাব।”
এ বিষয়ে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “আসাদের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী টাকা উত্তোলন করেছেন। তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা আমাদের জানা ছিল না। নিয়ম রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে হলে তিনি পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এ বিষয়ে আলাদা সরকারি বিধান রয়েছে।”
এ বিষয়ে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “উক্ত বিষয়ে আমাদের জানা নেই। আমি আগামীকাল রবিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “দ্বিতীয় বিয়ে হলে পেনশন ভাতা নিতে পারেন না। এখন যদি আসাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করেন, তাহলে আদালত উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
অভিযোগের সত্যতা, দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা উত্তোলনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় মৃত আসাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজ নিবন্ধন নিয়ে সৌদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


হজ নিবন্ধন নিয়ে সৌদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, হজ নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শ্রেষ্ঠ হজ গাইডদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

গতবার একটি এজেন্সির অব্যবস্থাপনার কারণে দুজন হাজি সময়মতো হজে যেতে পারেননি উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী জানান, পরে পুলিশ, এনএসআইসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের হজে পাঠানো হয়। এটিকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাজিদের সেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গতবার সরকার বিনা মূল্যে ১ লাখ পানির বোতল সরবরাহ করেছে।

এছাড়া লাগেজ র‍্যাপিং করতেও কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি; পুরো কার্যক্রম সরকারের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌকায় ভাসমান সবজির হাট, মৌসুমজুড়ে বেচাকেনা ৪ কোটি টাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


নৌকায় ভাসমান সবজির হাট, মৌসুমজুড়ে বেচাকেনা ৪ কোটি টাকার

নদীর বুকে সারিবদ্ধ নৌকাগুলি। নৌকাগুলিতে সাজানো রয়েছে তাজা শসা, লাউ, করলা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙে, বড়বটি—এমন সব ধরনের সবজি।

 

কৃষকদের চিৎকার এবং পাইকারদের দরদামে সকাল থেকেই চারপাশ মুখর হয়ে আছে।

বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের গজালিয়া খালে শতবর্ষী ভাসমান সবজি হাটের দৃশ্য এটি।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাসমান সবজির হাট সপ্তাহে দুই দিন—রবি ও বুধবার বসে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বিক্রির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

 

শুধু বাগেরহাট নয়, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে এখানে আসেন সবজি কিনতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গজালিয়া বাজারের পাশে গজালিয়া খালে ভাসমান হাটে বেচাকেনা চলে চার ঘণ্টা ধরে। এই সময়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। পুরো মৌসুমে এই হাটে কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকার

 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গজালিয়া খালে হাটের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত সবজি নৌকায় করে নিয়ে আসছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নৌকার সংখ্যা বাড়তে থাকে।

নৌকায় করে সবজি নিয়ে আসা কৃষকরা জানান, এই হাটে সরাসরি পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করতে পারায় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।

পিরোজপুরের ব্যবসায়ী সালাম হালাদার বলেন, গজালিয়ার এই হাটে একসঙ্গে অনেক ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সবজি কেনার সুযোগ থাকায় আমরা এখান থেকে বড় পরিসরে বিভিন্ন সবজি সংগ্রহ করতে পারি। পরে এসব সবজি পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি করি।

বরিশালের ব্যবসায়ী সুলতান শেখ বলেন, গজালিয়া খালের ভাসমান হাটে নিয়মিত অনেক কৃষক সবজি নিয়ে আসেন। তাই অন্য জায়গার তুলনায় এখানে একসঙ্গে বেশি সবজি কেনা যায়। ভোর থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের বেচাকেনা হয়ে যায়। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে গজালিয়া খালে এই ভাসমান হাট চলে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কৃষকরা এখানে নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আসছেন। তাদের কাছ থেকে কেনা এসব সবজি নৌকা ও ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে আধুনিক বাজারব্যবস্থার সঙ্গে এর সংযোগ বাড়ানো গেলে শতবর্ষী এই হাটটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজি বিপণনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এতে স্থানীয় কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় কৃষক রাজ্জাক মোল্লা জানান, তারা নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। হাটের দিনে নৌকায় করে সবজি নিয়ে আসেন। এখানে পাইকাররা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম পড়ে।

তবে সম্ভাবনাময় এই হাটে রয়েছে নানা সমস্যা। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক এবং নৌকা-ট্রলার ভেড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামোর অভাবে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, হাটটি অনেক পুরনো। এখানে প্রচুর সবজি চাষি ওঠে এবং অনেক ব্যবসায়ী আসেন। কিন্তু হাটে আসার সড়ক ভালো না। নৌকা ও ট্রলার ভেড়ানোর জন্যও ভালো ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বাড়ে।

তিনি বলেন, হাটের নির্দিষ্ট জায়গায় নৌকা ও ট্রলার নোঙরের ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, পণ্য ওঠানামার সুবিধা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে বেচাকেনা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, গজালিয়ার ভাসমান সবজি হাটটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের উৎপাদিত সবজি দ্রুত পাইকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কৃষক যেমন বাজার পাচ্ছেন, তেমনি ভোক্তার কাছে দ্রুত তাজা সবজি পৌঁছাচ্ছে।

উপপরিচালক জানান, চার ঘণ্টার এ হাটে বেচাকেনা হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি। আর পুরো মৌসুমে এই হাটে কেনাবেচা হয় প্রায় চার কোটি টাকার।

হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপপরিচালক বলেন, হাটটির অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে, এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাজারজাত করার প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অণুশৈবালের প্রাদুর্ভাবে সুপেয় পানির সংকটে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


অণুশৈবালের প্রাদুর্ভাবে সুপেয় পানির সংকটে ইসরায়েল

ভূমধ্যসাগরে কয়েক মাইলজুড়ে ‘মাইক্রোঅ্যালগি’ বা অণুশৈবালের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এতে দেশটির পানীয় জলের প্রধান উৎস নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মাইক্রোঅ্যালগি হলো খুব ছোট জলজ জীব, যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। সূর্যের আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানিতে থাকা পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের জাতীয় পানি সংস্থা মেকোরোটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি উপকূলীয় লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি রবিবার বন্ধ হয়ে যায়।

এসব কেন্দ্রে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে পানযোগ্য করা হয়। পরে কয়েকটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র একটি কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চলছিল। ৭৮ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেশটি সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে।

মেকোরোটের মুখপাত্র লিওন গুটম্যান জানান, ইসরায়েলে এর আগে এত বড় আকারে এমন ঘটনা দেখা যায়নি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ইসরায়েলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি পানীয় জলের জন্য সমুদ্রের পানি পরিশোধনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ইসরায়েল একটি শুষ্ক দেশ, যেখানে বড় নদী নেই এবং বৃষ্টিপাতও তুলনামূলক কম। বর্তমানে দেশটির পানীয় জলের অন্তত ৬৫ শতাংশ সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে আসে।

ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি গবেষণার সহযোগী অধ্যাপক এদো বার-জিভ বলেন, সপ্তাহের শুরুতে দেশটির উপকূলজুড়ে বিপুল পরিমাণ ভাসমান পদার্থ দেখা যায়। পরে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, এর বড় অংশ মাইক্রোঅ্যালগি।

বার-জিভের ধারণা, শৈবালের এই বিস্তার অন্তত এক ডজন মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি নীল নদের বদ্বীপ এলাকা থেকে শুরু হয়ে সমুদ্রের স্রোতের সঙ্গে উত্তর দিকে ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২০ বছর ধরে উপকূলের পানির মান পরীক্ষা করছেন বার-জিভ। তিনি বলেন, এত বড় আকারের শৈবালের বিস্তার তিনি আগে কখনো দেখেননি। ইসরায়েলের বেশিরভাগ লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পানির বড় কণা ও দূষিত পদার্থ সরানো হয়। এরপর বিশেষ ঝিল্লির মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করা হয়। ওই ঝিল্লি লবণ, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা আটকে দিয়ে পরিষ্কার পানি তৈরি করে।

তবে পানিতে শৈবাল ও এর তৈরি বিভিন্ন পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে এসব ঝিল্লি দ্রুত নষ্ট বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটার মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাইকেল ক্রিস্টোফার লো বলেন, পানিতে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে পরিশোধন ব্যবস্থা তা সামাল দিতে পারে না।

এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ওমান উপসাগরে বড় ধরনের ক্ষতিকর শৈবাল বৃদ্ধির কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পানির ঘাটতি পূরণে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। মেকোরোটের গুটম্যান জানান, গ্যালিলি সাগর থেকে পানি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির কূপ চালু করা হয়েছে এবং জাতীয় পানি মজুদ ব্যবহার করা হয়েছে।

কয়েকটি শহরে সাময়িকভাবে কিছু বিধিনিষেধও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাগানে পানি দেওয়া ও সুইমিং পুলে পানি ভরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে যারা সেচের কাজে পানযোগ্য মানের পানি ব্যবহার করেন। পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহারকারী কৃষকেরা তুলনামূলকভাবে কম সমস্যায় পড়েছেন।

গুটম্যান বলেন, ঘটনাটি গ্রীষ্মকালে হওয়ায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়েছে। কারণ এ সময় ইসরায়েলে পানির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি থাকে। ইসরায়েল ওশানোগ্রাফিক অ্যান্ড লিমনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক বাস্তুবিদ তামার গাই-হাইম বলেন, পানিতে থাকা পুষ্টি, তাপমাত্রা, আলো, স্রোত ও পানির মিশ্রণের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলো যখন শৈবালের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে, তখন তাকে ‘ব্লুম’ বলা হয়।

মেকোরোটের মতে, এবারের শৈবাল বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি একসঙ্গে কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল একটি সামুদ্রিক ঝড়। ঝড়ের কারণে পানিতে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সময়ে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হয়ে যায়।

বার-জিভ বলেন, শৈবাল বা জেলিফিশের কারণে এর আগে পরিশোধন কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে। তবে উপকূলের বড় একটি অংশজুড়ে একই সময়ে একাধিক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সমুদ্রেও। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। শক্তিশালী ঝড়ের কারণে পয়ঃবর্জ্য ও সারসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থও সমুদ্রে মিশছে। এসব কারণে বড় আকারে শৈবাল বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ঘটনা শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, এটি পানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় একটি প্রশ্নও সামনে এনেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সমুদ্রের পানি পরিশোধনের ওপর বেশি নির্ভর করছে। তবে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

লো বলেন, এবারের ঘটনা দেখিয়েছে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না। সামরিক হামলা ও সাইবার হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এর আগে লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র হামলার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন দেশে হ্যাকাররাও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বার-জিভ বলেন, ‘লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের আশপাশে তেল ছড়িয়ে পড়বে কি না, সেটি নয় বরং প্রশ্ন হলো, কখন এমন ঘটনা ঘটবে। তেল ছড়িয়ে পড়লে শৈবালের প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এসব পরিশোধন কেন্দ্র দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হতে পারে। কারণ তেল পানির পরিশোধন ব্যবস্থার জন্য বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৫

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%