শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ পি.এম
বিশ্বকাপ ফুটবলের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে নতুন চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। উয়েফা ও কনকাকাফ ফিফার কাছে ২১১ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকার সমান।
বিবিসি স্পোর্টসের কাছে প্রাপ্ত উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭-২০৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে অন্তত ১ কোটি ডলার করে দেওয়া উচিত। এই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ১ কোটি ডলার পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকার সমান।
এই অর্থ মূলত ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হবে। যৌথ চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে ফিফার বর্তমান আর্থিক অবস্থার একটি বিশ্লেষণও উপস্থাপন করা হয়েছে। উয়েফা ও কনকাকাফের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে ফিফার তহবিলে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জমা হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার সমান।
তাদের মতে, ২০৩০ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত হিসাব করলে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ফিফার পক্ষে সম্ভব।
এর আগে, ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ফিফা শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন ফিফা সভাপতি।
তবে বিতর্ক থামেনি। ফিফার কয়েকটি সদস্য সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে এবং কিছু সদস্য তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছে। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসির পক্ষ থেকেও যৌথভাবে বলা হয়েছিল, ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
আগামী মার্চে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফিফার নেতৃত্বে রয়েছেন। নির্বাচন সামনে রেখে ২১১ সদস্য সংস্থার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের এই দাবি তাঁর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী পিতলের ডেগগুলোতে দান করা অর্থের গণনা শুরু হয়েছে। দরগাহের ইতিহাসে প্রায় সাড়ে ৭০০ বছরের মধ্যে এটি চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। গণনার এই প্রক্রিয়া মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে চলছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন মাদরাসাশিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা।
চতুর্থবারের মতো অর্থ গণনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেই দিন গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। সেই সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও সোনা ও রূপার গহনাও পাওয়া গিয়েছিল।
আরো পড়ুন
সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু
প্রথমবার ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা সোনাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু এবং ৬৫টি ছাগলও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পর পর বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন
গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১
প্রসঙ্গত, সিলেটের এই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পর পর এসব বাক্স খোলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল,ভালুকা উপজেলার ১০ নম্বর হবিরবাড়ী ইউনিয়ন শাখার কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-১৫৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবর রহমান মজুসহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সৌমিক হাসান সোহাগ,উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মো.হারুন অর রশিদ হারুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.তাজ উদ্দিন আহাম্মেদ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.তাইয়্যেবুল বারী আরিফ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.সবুজ গাজী, হবিরবাড়ী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো.শফিকুল ইসলাম,হবিরবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো.আরিফ সরকার,যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল, ভালুকা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ,সুমন পাঠান,উপজেলা শ্রমিক নেতা জাহিদুল ইসলাম জনি,শ্রমিক নেতা আব্দুর রব,হবিরবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক নেতা শরিফ,রমিজ মিয়া,নয়ন ও মামুন মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি,মহিলা দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন,দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে নারী নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেছেন এক বাবা। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা সরফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরফত আলী (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। তাঁর বিদেশযাত্রাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে সরফত আলী তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের নিয়ে কীটনাশক পান করেন বলে জানা গেছে। বিষপানের পর সরফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তাঁর এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান।
পরে তাঁর ফুফু বিষয়টি সরফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে জানান। খবর পেয়ে রহমত আলীসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন।
তাদের প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরফত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত মামলায় নামের কিছুটা মিলের কারণে এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে থানায় আটকে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় সংবাদকর্মী মো. মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে থানায় নেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিক মোল্লা শাওন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশের নজরে আনেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরে ওই ব্যক্তিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধেই বাদী বানিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার একটি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিয়ে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা ও মামলার আসামি আজাদ হোসেন, পিতা—মহসিন হাওলাদার, থানা—রাজাপুর। কিন্তু পুলিশ নামের মিলের কারণে আজাদ খান, পিতা—মহসিন খান নামে অন্য এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, আজাদ হোসেন ও আজাদ খান সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। তাদের পিতার নাম, ঠিকানা ও পরিচয়গত তথ্যও আলাদা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হলে বিষয়টি সহজেই নিশ্চিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে আজাদ খানকে প্রায় একদিন একরাত থানায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, আজাদ খান কোনো ঋণ নেননি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের কোনো মামলা নেই। বিষয়টি জানার পর সংবাদকর্মী মো. মোল্লা শাওন ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তিনি মামলার নথি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।
পরিবারের দাবি, সাংবাদিকের প্রতিবাদ ও তথ্য সংগ্রহের পর পুলিশ আজাদ খানকে ছেড়ে দেয়। তবে এরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, যে আজাদ খানকে ভুলভাবে থানায় নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে তাকেই মামলার বাদী বানিয়ে সংবাদকর্মী মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কেন থানায় নেওয়া হয়েছিল—সাংবাদিক সেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও ঘটনার তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, আজাদ খান নিজে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আগ্রহী ছিলেন না। পরিবারের দাবি, তাকে চাপ প্রয়োগ করে বা পুলিশের প্রভাবে মামলার বাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আজাদ খান বলেন আমাকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসানোর কারনে আমি অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি উল্লেখিত বিষয় ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে জানাতে গেলে এখান থেকে ঝালকাঠি থানার এস আই জালাল সাহেব ঝালকাঠি থানায় আমাকে ডেকে নিয়ে যায় পরে থানায় নিয়ে নাম ঠিকানা যাচাই করে আমার নামে কোন মামলা অথবা অরেঞ্জ ছিল না অহেতুক ভাবে আমাকে এক রাত্র এক দিন আটকিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করে সাংবাদিক মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা লেখে স্বাক্ষর দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয় আমি ওই মামলা এবং ওই দরখাস্ত পড়ার সুযোগও পায়নি আমার নিজের জান বাঁচাতে ওই কাগজের স্বাক্ষর করে থানা থেকে দুদিন পরে বাড়ি এসেছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা হলেন আজাদ হোসেন, পিতা—মহসিন হাওলাদার এবং তার বিরুদ্ধেই ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আজাদ খান, পিতা—মহসিন খান নামে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করেনি এবং আজাদ হোসেন এবং আজাদ খান দুজন ব্যক্তি ভিন্ন আজাদ খানের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই পুলিশ ভুলবশত তাকে গ্রেফতার করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি আজাদ খান ব্যাংকের মামলার আসামি না হয়ে থাকেন এবং পরিচয় যাচাইয়ের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাকে পরবর্তীতে কীভাবে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী করা হলো?
স্থানীয়দের মতে, ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে থানায় নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত না করে সেই ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, ঋণ নিয়েছেন একজন, অথচ হয়রানির শিকার হয়েছেন আরেকজন; আর সেই হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা—পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, ভুল ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি কী পরিস্থিতিতে এবং কার প্রভাবে করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে ঝালকাঠিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানির প্রতিকার এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ