মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর প্রতিনিধি (ময়মনসিংহ)
০৪:৪৭ পি.এম
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।
আগামী প্রজন্মকে মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এই কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বালুয়াপাড়া পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোলকপুর পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুকুলনিকেতন পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সরকারপাড়া পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলে ও মেয়েশিক্ষার্থীদের হাতে দুটি করে ফুটবল তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লক্ষ্য সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইন এমপি এবং গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদের পরামর্শে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গৌরীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হিরা ব্যক্তিগত অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব ফুটবল বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, সংগীতচর্চাসহ বিভিন্ন গঠনমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার গৌরীপুর প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিন, গৌরীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা আক্তার সোমা, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন রক্তিম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলমগীর (খোকন)সহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেৎজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি আদালত।
কারাগারটিতে গাজা উপত্যকা থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়েছে।
সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের উদ্যোগে কারাগারের একটি অংশের চারপাশে পরিখা খনন করে সেখানে কুমির রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিম্যালস লিভ’ এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন করার পর রবিবার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিচারক আভ্রাহাম রুবিন কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলম্যানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কুমিরগুলোকে কারাগারে স্থানান্তর বা রাখার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলম্যান কুমিরগুলোকে ‘যত্নপ্রাপ্ত বন্য প্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিলেন।
কেএএন জানায়, সিলম্যান, বেন-গভির এবং ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতের এই আদেশ আসে। আদালতের অস্থায়ী আদেশটি কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতে তাদের জবাব জমা দেয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হতে পারে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী সিলম্যানের গত ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত। ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কারাগারে কুমিরকে ‘প্রতিরোধক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্যবহারের পথ তৈরি করা হয়েছিল।
আবেদনকারী সংগঠনটির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছে।
কেএন’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ কিছু অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছে। এ পাইলট প্রকল্পের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ২১ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘লেট দ্য অ্যানিম্যালস লিভ’ এবং তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল রাইটস ক্লিনিক’ আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই আদেশের ফলে আপাতত এমন কোনো অপরিবর্তনীয় কাজ করা যাবে না, যা প্রাণীদের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তারা পরিকল্পনাটি স্থায়ীভাবে বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেন-গভির ২০২২ সালের শেষ দিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ফিলিস্তিনি বন্দীদের আটক পরিস্থিতি আরও কঠোর করার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দীদের অনাহার, চিকিৎসায় অবহেলা, নির্যাতন ও দীর্ঘমেয়াদি নির্জন কারাবাসের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশুসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েক ডজন অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসার অবহেলার কারণে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষা (বেজা) এর গভর্নিং বোর্ড।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপায় খুঁজতে নিজেদের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই নতুন ও ব্যতিক্রমী ধারণা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
প্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে বলা হয়েছে, “ইরানকে চাপ ও শাস্তি দেওয়ার নতুন, সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায় প্রয়োজন।”
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিস্তৃত পরিসরের সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ওই ই-মেইল পাঠান।
এতে তাদের কাছে ইরানকে মোকাবিলার নতুন কৌশল প্রস্তাব করতে বলা হয়।
সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ই-মেইলের মাধ্যমে এ ধরনের ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ বা সম্মিলিতভাবে নতুন ধারণা আহ্বান করা অস্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রচলিত সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।
কৌশল পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকম বর্তমানে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছে এবং বিদ্যমান কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
এ বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সব সময়ই উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে কাজ করার ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ করে অ্যাডমিরাল কুপার পদমর্যাদা নির্বিশেষে দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকর অপারেশন পরিচালনায় বিশ্বাসী।”
সৌদি হস্তক্ষেপের পর স্থগিত হয় হামলা সূত্রগুলোর দাবি, ওই ই-মেইল পাঠানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিলেও সপ্তাহান্তে তা স্থগিত করেন। কারণ, সৌদি আরবের যুবরাজসহ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।
গঠিত গঠন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি কমানো এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি।
পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন হামলার পরিকল্পনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এবং আরও কয়েকটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এসব স্থাপনায় পারমাণবিক উপাদান বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে।
কিন্তু সামরিক সূত্রগুলোর মতে, এসব স্থাপনা গভীর ভূগর্ভে নির্মিত হওয়ায় কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলায় সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহী।
এদিকে সংঘাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘প্রতীকী বিজয়’ খুঁজছেন ট্রাম্প? একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এমন ধরনের হামলার কথাও বিবেচনা করছেন, যা মূলত ‘আতশবাজির প্রদর্শনীর’ মতো প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হবে। এর লক্ষ্য হতে পারে আগের হামলার মতো একই বা অনুরূপ স্থাপনায় আঘাত হেনে রাজনৈতিকভাবে একটি ‘বিজয়ের বার্তা’ দেওয়া, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না করেও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের অবস্থান বা চলমান সংকটের মূল সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
একটি সূত্রের ভাষায়, “দিনের শেষে প্রেসিডেন্ট একটি সমঝোতাই চাইবেন। তাই তিনি একদিকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবেন, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজবেন।”
গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি মূল্যায়ন করেছে যে, চলমান বিমান হামলা ইরানের আলোচনার অবস্থান বদলে দিতে সক্ষম হবে- এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও। গত মাসে আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেন, “বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
সামনে কী পথ? মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও বাড়ানোর জন্য কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনায় এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসা এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকির কারণে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিকল্পও রয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল বা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনওই আমেরিকানদের এমন অন্তহীন বিদেশি যুদ্ধে লড়তে ও মরতে পাঠাব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে- একদিকে সংঘাত আরও বাড়ানো, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টাপাল্টি হামলার বাস্তবতা মেনে নেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা জিততে চাই। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে- আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ভয়াবহ যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন প্রশাসনকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে ইরানে হামলা না চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই অনুরোধ জানান যুবরাজ। এরপরই ট্রাম্পও দ্রুত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
সৌদি আরবের চিন্তা হল যে, ইরানে যেকোনো বড় ধরনের মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
ঘটনার শুরু হয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাব-এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছে যে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সৌদি রিয়াদের মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
এদিকে, তেহরান ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন আক্রমণ চালায়, তাহলে তারা ইসরায়েলসহ অন্য অঞ্চলের দেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করবে। সাথে আরো, যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ মার্কিন হামলায় সহায়তা করে, তাহলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদ একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে যে, কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আর এ কারণেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের দিকে না গিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাতার, ওমানসহ প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলোও এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ