বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২১ পি.এম
সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র বা এই ধরনের একটি রিপোর্ট-হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছিল। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অর্থনীতির বিষয়টি। ওই পেপারটা যদি বের করে দেখেন তাহলে মোটামুটিভাবে পরিষ্কার একটি চিত্র পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই পেপারটিকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত পর্যায়ক্রমে চেষ্টা করা হচ্ছে সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো: দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট সামঞ্জস্যের ঘাটতি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।’
এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে, নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন নিশ্চিত করা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নির্দেশিকার সংশোধন, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, যে সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি, সে সব প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ নিরূপণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনাপূর্বক বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান এবং সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কি.মি. ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কি.মি. ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলে সময়সীমা নির্ধারণ আছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিতের জন্য মহেশখালির কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।’
পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মত পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
ভোলার গ্যাস ব্যবহার প্রসঙ্গে সুলতানা আহমেদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় যে গ্যাস রয়েছে সেই গ্যাসকে যদি পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মত সময় লাগবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেটি করতে চাচ্ছি তা হলো-সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায় কিনা। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে তাদের কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করছেন। যেগুলো গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হবে। এর ফলে একদিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে অর্থনীতির পরিধিও বৃদ্ধি পাবে ভোলা অঞ্চলে। এর বাইরেও সেখানকার গ্যাসকে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচশ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আলোচনা চলছে।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, সজেকা, ঢাকা-১-এর মামলা নং ১৬ (১৭ ডিসেম্বর ২০২৪) এ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে ব্যয় বাদে তার বৈধ আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা হারুনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক।
অন্যদিকে, ১৮ নং মামলায় হারুন অর রশীদ ও তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এছাড়া হারুনের কাছ থেকে হেবা সূত্রে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পাওয়াসহ সম্পদ স্থানান্তর ও মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তদন্তে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মামলা দুটিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অপরাধলব্ধ সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন, সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।
হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
আর এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে এসব ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
"করবো কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" ‘চেতনায় নারী, বিপ্লবে নারী, গণতন্ত্র ফেরাতে আমরাই পারি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে আজ ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ বুধবার বিকাল ৩ টায় জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোড এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপির দলীয় প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন লেকেরপাড় 'অঙ্গীকার' এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের মহিলা দলের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, দলীয় কার্যালয়ে জেলা মহিলা দলের সভাপতি মুনিরা বেগম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. কোহিনুর বেগম। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, হাহী মো. মোশারফ হোসাইন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাইমা মোশারফ, অ্যাড. ইয়াসমিন কচি, যুগ্ম সম্পাদক নাহিদা সেতু সহ জেলা উপজেলা ও পৌর মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের কল্যাণে নারীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। রাজপথের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, চাঁদপুর ৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে চাঁদপুরে মহিলা দল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আগামী দিনের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহস, নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ৭১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফলজ গাছের চারা প্রদান করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় ১২০২ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থী বায়েজিদ ইবনে ওবায়েদ বলেন, ‘নিজ জেলার জেলা পরিষদ থেকে এ ধরনের সংবর্ধনা পাওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমার এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আগে দেখিনি। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা জেলা পরিষদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা ও মেধার বিকাশে সহায়তা করা অন্যতম। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। অথচ আমাদের লিড দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সেই ধারণা থেকেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ফলাফলে আমরা গর্বিত। মেধাবীদের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ আছে এবং থাকবে। আমরা নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ নয়, পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ চাই।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে বোর্ড পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রথম হবে। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা প্রতিভাবান, তাদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করা হবে। মেধাবীদের জন্য জেলা পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। নিজেকে জানতে হবে। নিজের ভেতর থেকেই সবকিছু জানার ও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্ণীছড়ি সেনা জোন কর্তৃক ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্ণীছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঢেউটিন ও অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে লক্ষীছড়ি উপজেলার লক্ষীছড়ি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন এবং নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয় জোনের এ্যাডজুটেন্টের মাধ্যমে। প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন এই অনুদান গ্রহণ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ