০৬:০০ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে বিনিয়োগ করতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা দীর্ঘদিনের যে ভিসা জটিলতা রয়েছে তা দূর করতে এবং ভিসা বাতিলের কারণে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত আমিরাতে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনআরবি সিআইপি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এসব দাবি উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল ও এআইভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রসেসিং ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সেবা, সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। তারা বলেছেন, সরকার যদি দ্রুত অনুমোদন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, জমি বা লিজ সুবিধা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করে, তাহলে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়ন সম্ভব।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, তারা ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে বৈঠকের একটি কর্মসূচি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের ভিসা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষভাবে বলা যায় যে, প্রায় ১২ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ মালিক বা স্পন্সর পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ থাকায় অনেক কর্মী কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে বিপদে রয়েছেন।
বাংলাদেশ ও আমিরাত সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই সুযোগ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলের কারণে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী দেশে আটকে পড়েছেন বলে তারা দাবি করছেন। আটকে পড়া এসব প্রবাসীর অনেকের চাকরি, ব্যবসা এবং পরিবার আমিরাতে রয়েছে। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যাতে আটকে পড়া প্রবাসীদের তালিকা তৈরি করে আমিরাত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং তাদের দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
প্রবাসীদের সেবা আরও কার্যকর করার জন্যবাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন চালু, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রবাসী সহায়তা সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা জটিলতা নিরসন, বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সবার জন্য প্রবাসী কার্ড, স্থানীয় আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মৃত প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, বিনিয়োগ সুরক্ষা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রতিনিধি দলের পক্ষে মোহাম্মদ রুবেল সিআইপি বলেন, “প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের উৎস নন; তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগী।” তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিসা জটিলতা ও দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন