শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২১ পি.এম
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের অবৈধ ও জোরপূর্বক বিতাড়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেন গভির, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি ভাষণে জানান, পরিকল্পনার আওতায় প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে পরবর্তী ছয় বছরে গাজার প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশকেও সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য এবং কিছু দেশ রয়েছে, যারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ‘প্রস্তুত’। কিন্তু তিনি এসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, গাজা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর প্রস্তাব পশ্চিমা জোটেরযুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক চাপকে আরও তীব্র করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন বোর্ড সভায় ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন প্রস্তাব পাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি লবিং শুরু করেছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভায় যদি প্রস্তাবটি পাস হয়, তাহলে ইরান পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করা হবে।
মূল বিরোধের পটভূমি
পুরোনো প্রস্তাব ও নজরদারি সংঘাত: ২০২৫ সালের জুনে গৃহীত একটি প্রস্তাবে আইএইএ জানিয়েছিল, অঘোষিত স্থানে ইউরেনিয়ামের নমুনার উপস্থিতির বিষয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা না করে ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
পরিদর্শনের নিষেধাজ্ঞা: রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য আইএইএ কর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তেহরান।
ইরানের অবস্থান: পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। তেহরান বারবার ঘোষণা করেছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজে অচলাবস্থা ভাঙতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় ইরানইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে। এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আগের তুলনায় সীমিত হওয়ায় দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যেতে চাচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রেখে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অচলাবস্থা ভাঙার পথ খুঁজছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতে হামলা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও ‘কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মূলত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উভয় পক্ষ বেসামরিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে তুলনামূলকভাবে এড়িয়ে চলেছে। ইরানও সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালায়নি।
ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার’ ঝুঁকি রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিই হয়ে উঠেছে মূল যুদ্ধের কেন্দ্র।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার অন্যতম কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ—দুটিই পরিস্থিতিকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরতে চায় না। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ—দুটিই উভয় পক্ষের জন্য ক্রমেই ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক পাহারা দিয়ে নিরাপদে পার করে। এসব জাহাজে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার ঘটনা।
অনলাইনক্যালকুলেটর ব্যবহার
তবে এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও তা এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য ৪ দশমিক ১৪ ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার।
যুদ্ধের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ছে। জুলাই পর্যন্ত সংঘাতে ওয়াশিংটনের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
সামরিক ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। তবে কিছু ধরনের অস্ত্রের মজুত ‘তুলনামূলকভাবে সীমিত’ বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
এদিকে যুদ্ধের মেয়াদ বা জ্বালানির দাম কবে আবার যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরবে—এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বরং সংঘাত শেষ করার দায়িত্ব ইরানের ওপরই দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে মার্কিন জনঅসন্তোষ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ বাড়ছে। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় অ্যামহার্স্টের (ইউমাস অ্যামহার্স্ট) প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিনি ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট। সোমবার প্রকাশিত ওই জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন যে ইরানে দীর্ঘমেয়াদি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া টেকসই নয়। এতে বিশ্বের অন্য অঞ্চলের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সিএনএন।
অর্থনৈতিক সংকটে আরো বিপর্যস্ত ইরান
অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে আরো গভীর। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মধ্যে ইরানের তেল বিক্রি কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ‘আশঙ্কাজনক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। অনেক শ্রমজীবী পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছে।
ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির (আইএলএনএ) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরান বিশেষজ্ঞ আরাশ আজিজির মতে, ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির শাসকগোষ্ঠী মনে করছে, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলে তাদের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ তেহরান হিসাব করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা সম্ভব নয় এবং অচলাবস্থা ভাঙতেই হবে।
আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায় তেহরান
যদিও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, ইরান এখনো আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে এলে তেহরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে এবং আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত থাকবে।
তবে ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করতে চান না। বরং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এবং ইরানের অর্থনীতির দুর্বল হয়ে পড়াকে তিনি নিজেদের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আলোচনার টেবিলে ইরানকে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন না এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে তিনি বেশি পছন্দ করছেন।
অচলাবস্থা কত দিন টিকবে?
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক ভারসাম্য তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু একই সঙ্গে কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে চাইছে না।
সিত্রিনোভিচের মতে, ওয়াশিংটন যেখানে সংঘাতকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রিত রেখে মূলত অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, তেহরান সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা নতুন বাস্তবতা চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে।
আইসিজির হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরানের সাম্প্রতিক আচরণ এবং মার্কিন হামলার পর দ্রুত ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখানোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে তেহরান আত্মসমর্পণের পরিবর্তে পাল্টা জবাব দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছে।
ফলে দুই পক্ষই উত্তেজনার সিঁড়িতে ধাপে ধাপে ওপরে উঠছে, যদিও তারা জানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস—সেলিম ভূঁইয়া) ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির সেক্রেটারি, শিক্ষক ও সাংবাদিক নেতা এবং ঝালকাঠি জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির সকল পর্যায়ের সদস্যরা।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ ও পূর্বশত্রুতার জেরে কতিপয় ব্যক্তি উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুর কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড কথিতভাবে ‘সুপার এডিটিং’ করে এর বিভিন্ন অংশ সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও তাকে হেয়প্রতিপন্নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠি। একই সঙ্গে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের জানামতে উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু একজন সজ্জন, সৎ, সহজ-সরল, ধর্মপ্রাণ ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। তার সম্পর্কে যাচাই-বাছাই না করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কারও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একজন শিক্ষক ও সাংবাদিক নেতার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সউদী আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘর্ষে গত দুই দিনে অন্তত ১২০ জনেরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্র।
প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হুথি বিদ্রোহীরা একটি নতুন স্থল অভিযান শুরু করার ফলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূচনা ঘটে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রকেট এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা ও তাইজ (Taiz) অঞ্চলে একযোগে আক্রমণ চালায়।
লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় তাঁর অধীনস্থ অন্তত ২৪ জন সরকারি সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের মধ্যাঞ্চলীয় তাইজ অঞ্চলের অপর এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে সংঘাত চলাকালে ১৫ জন সরকারি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের নিহতের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে সরকারি সামরিক সূত্রগুলো জানায়, বিদ্রোহীরা মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মোখাকে (Mokha) অন্যান্য সরকারি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব (Bab al-Mandab) প্রণালী সংলগ্ন এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যেই এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে ২০২২ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা তা অকার্যকর করে দেয়। লোহিত সাগরের কৌশলগত পথগুলো দখলের এই নতুন উত্তাপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ