০৯:৫৪ পি.এম
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি এই নিশ্চয়তা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রদান করেন।
গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর, বুধবার প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে যান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইরাকি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাগদাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনা। গত মাসে সৌদির প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা পরে নিশ্চিত করা হয় যে, হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছিল।
হামলার পর সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই পাইপলাইনটি দেশটির জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। তবে হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পাইপলাইনটির কার্যক্রম ইতিমধ্যে আবার শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ এবং প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকের এই অবস্থানের মাধ্যমে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সুযোগ বন্ধ রাখার বিষয়ে বাগদাদের অঙ্গীকার আবারো স্পষ্ট হলো।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন