মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
০২:১৮ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) প্রানতোষ বণিক-এর নেতৃত্বে একটি টহল দল মেরুং বাজার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. মোশারফ হোসেন (৩৫), মো. হৃদয় হোসেন (২১) এবং মো. শাহিন ওরফে বাবু (২২)। তারা সবাই দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার এসআই আলা উদ্দিন-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক বিক্রি, বহন কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্টজাল পাশাপাশি ১শ’ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। এই সব তখন রাতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে এই বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পি দত্ত রনি। তিনি গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ১ জনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসস’কে জানিয়েছেন, গোডাউন থেকে জব্দ করা ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ নতুন কারেন্টজাল এবং ১শ’টি চায়না দুয়ারি জালের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। পরে, জব্দ হওয়া নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ও চায়না দুয়ারি জাল কোস্ট গার্ড চাঁদপুর স্টেশনে নিয়ে গিয়ে রাতে আগুনে পুড়ে ফেলা হয়।
এ অভিযানে মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের টহল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেবা প্রত্যাশী জনগণের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে সেগুলির নিষ্পত্তি এবং নাগরিক সেবা প্রদানের মান ও গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান কবির এর সার্বিক নির্দেশনা ও অংশগ্রহণে গণশুনানি আয়োজন করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, নিম্নোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়ঃ
তারিখঃ সাপ্তাহিক প্রতি বুধবার
সময়ঃ সকাল ১০:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা।
স্থানঃ সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।
আজকের অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব); অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক); অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সহ গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী নারায়নগঞ্জের সাধারণ জনগণ।
সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ || ০১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. বুধবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যকে সামনে রেখে তেহরানে জোর প্রস্তুতি চলছে। কর্মীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি টানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে স্থগিত হওয়া এ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন সংঘাত বন্ধে প্রাথমিক স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।
এ বিষয়ে তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর জানিয়েছে।
শিয়া মুসলমানদের অনেকের কাছে আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে বিবেচিত খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিন ৮৬ বছর বয়সে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত হন।
আগামী শনিবার তার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হবে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশাল গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
এ স্থানটিতে বড় জুমার নামাজ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হামলায় নিহত তার স্বজনদের মরদেহও সেখানে রাখা হবে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, এই শেষকৃত্যে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন। সেটি হলে এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য হিসেবে গণ্য হবে।
অনুষ্ঠানস্থলে নতুন করে রং করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কর্মীরা ধাতব কাঠামো জোড়া লাগাচ্ছে এবং ক্রেন দিয়ে নির্মাণসামগ্রী তোলার কাজ চলছে।
বিপুল মানুষের সমাগমের কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শোকাহত মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহার করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শেষকৃত্যের সময় তাপমাত্রা বাড়তে পারে উল্লেখ করে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এএফপির এক সাংবাদিক বলেন, রাজধানীর প্রধান কয়েকটি সড়কের কিছু লেন ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তেহরানের চিরচেনা তীব্র যানজট আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বড় একটি অংশজুড়ে খামেনির জীবন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হচ্ছে।
বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠান হবে—এ নিয়ে শেষকৃত্য আয়োজন কমিটির সচিব আলি-আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, শুক্রবার বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আলাদা একটি অনুষ্ঠান হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা শেষকৃত্যে অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকেও বিপুল মানুষ আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, ইউরোপের জন্য আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ‘ইতিহাসের ভুল পাশে’ অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে তাদের অবস্থানকে তিনি ‘সত্যিই লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে পুরো যুদ্ধকালেই মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইরান।
শেষকৃত্য ও দাফনের পরবর্তী ধাপ যেখানে অনুষ্ঠিত হবে, সেই পবিত্র নগরী কোম ও মাশহাদের পাশাপাশি তেহরানেও অনুষ্ঠান চলাকালে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
এ শেষকৃত্য এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ও পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন স্থানে টানানো পোস্টারে ইরানের জন্য ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’-এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অন্য পোস্টারে শেষকৃত্যের স্লোগান লেখা রয়েছে— ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে।’
তেহরানের অনুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
তবে তেহরানের মূল অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
এ বিষয়ে পুরজামশিদিয়ান বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতির বিষয়টি আমার এখতিয়ার বা জানার মধ্যে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কর্মসূচি থাকলে, ইসলামী বিপ্লবের নেতার কার্যালয় থেকেই অবশ্যই তা ঘোষণা করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো। সে সব সময় শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
লাস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’
তবে তার ২০ বছর বয়সী ভাই ও ৯১ বছর বয়সী ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার, দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ার সময় তিনি নিজেকে বলেছেন, ‘আমি ঘুমিয়ে পড়ব।’
অন্যদিকে, আন্দ্রেয়া আরও জানায়, ‘আমি নিজেকে বলছিলাম, এখন আমি একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবার ক্রমাগত কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’
তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। মোবাইল ফোন থাকার কারণে তিনি সময় জানতে পেরেছেন এবং কিছুটা আলো পেয়েছিলেন।
আন্দ্রেয়া আরো জানান, তার চেয়ে কিছুটা ওপরে আটকে থাকা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন।
আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠেছি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’
এদিকে একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সী সাবেক খনি শ্রমিক মোইসেস ফারামায়া।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’
মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে।
মোইসেস জানান, তিনি একজনের দেয়ালে আঁচড়ানোর শব্দ শুনতে পান। একজন আটকে ছিলেন, কিন্তু হাত নাড়াতে পারছিলেন। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, তিনি শুধু একটি গাঁইতি ও একটি কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরান। বলিভার রাজ্যের এল কায়াও অঞ্চলের খনিতে ছয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এই কাজে দক্ষ করে তুলেছে। এ কারণে উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেন।
‘দ্য মোল’ নামে পরিচিত মোইসেস বলেন, তিনি প্রায় না খেয়েই এবং না ঘুমিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এই কাজ সহজ নয়। ধুলাবালি আর পচে যাওয়া লাশের গন্ধের মধ্যে কাজ করতে হয়। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
অন্যদিকে, আন্দ্রেয়ার ভবনের সকলেই মারা গেছেন বলে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী রেস্তোরাঁ কর্মী আলেকজান্ডার গার্সিয়া জানান, তিনি দমকলকর্মীদের ‘কোড-১৪’ ঘোষণা করতে শুনেছিলেন, যার অর্থ ছিল সেখানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ও স্পেনের প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর জীবিত মানুষের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা তার দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধারের আশা আবারও জেগে ওঠে।
গার্সিয়া বলেন, ‘সবাই তাদের আওয়াজ শুনেছিল, সবাই।’
তার মা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেও পরে মারা যান।
রাত নামার পরও টর্চের আলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালের ভারী বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকর্মীদের মনোবলেও প্রভাব পড়ে।
ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবারের মধ্যে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ