০৭:১১ পি.এম
আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, তাই বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী এবং সংগঠকেরা।
তারা দাবি করছেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারের আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রাক-বাজেট নীতি নির্ধারণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক বেসরকারি সংস্থা ডপস’র নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি এবং কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে যে কারণে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ফরহাদুজ্জামান ফারুক, পরিবেশ সুরক্ষা ফোরাম রংপুরের সদস্য সচিব, জ্বালানির জ্বলন্ত চুল্লি থেকে মুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমানোর জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা নিজেদের ভবনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনও অত্যন্ত কম রয়েছে। অথচ রুফটপ সোলার, সোলার ইরিগেশন, এগ্রিভোল্টাইকস, ভাসমান সোলার প্যানেল বা ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ও কমিউনিটি-ওউন্ড এনার্জি সিস্টেমস দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য এবং জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে সরকারকে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এস এম পিয়াল, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রংপুরের সভাপতি। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অধিক বরাদ্দ, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের জন্য কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন কয়লা, তেল এবং এলএনজি নির্ভর প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহারের নিশ্চয়তা দানও সময়ের দাবি।
এস এম পিয়াল এ সময় বলেন, টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে উদ্ভূত চলমান হুমকি কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
সুপারিশগুলো হলো- জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য, জীবাশ্ম জ্বালানির ঋণচক্র থেকে দূরে থাকা, নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য আর্থিক প্রণোদনা, জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি, সৌর পার্ক দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, সৌর সেচ ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্প-সুদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ, পরিচালন দক্ষতা এবং মেধাক্রম, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও টেকসই জ্বালানির জন্য ভর্তুকি সংস্কার।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক আব্দুর রহমান মিন্টু, রেজওয়ান রনি, এহসানুল হক সুমন, আলোকচিত্রী রনজিৎ দাস ও মানবাধিকার কর্মী মো. কবির মিয়া বক্তব্য রাখেন।
ডেভেলপমেন্ট অব পুওর সোসাইটি (ডপস), ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) রংপুর, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশ পরিবেশ ও উন্নয়ন ওয়ার্কিং গ্রুপ (বিডব্লিউজিইডি) এবং পরিবেশ সুরক্ষা ফোরাম রংপুর যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন