০৭:০৪ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোটা ভাব কমানো এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জনপ্রিয় ওষুধ ‘জিএলপি-১’ সেবনের মাধ্যমে চুলপড়ার সামান্য ঝুঁকি থাকতে পারে, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, যদিও এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সার্বিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও বেশ কমই রয়েছে।
সেমাগলুটাইড (যাহা ‘ওয়েগোভি’ এবং ‘ওজেম্পিক’ নামে পরিচিত) এবং তিরজেপাটাইডসহ (যাহা ‘জেপবাউন্ড’ এবং ‘মাউনজারো’ নামে পরিচিত) জিএলপি-১ রিসেপ্টর অগনিস্ট গ্রহণকারী রোগীদের ওপর পরিচালিত তিনটি পৃথক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এই তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য বিএমজে-তে প্রকাশিত পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বা ততোধিক বছর জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে:
এসজিএলটি-২ জাতীয় ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যবহারকারীদের তুলনায় অ্যালোপেসিয়া (চুলপড়া রোগ) হওয়ার সম্ভাবনা ৩৭% বেশি।
ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর ব্যবহারকারীদের তুলনা করলে এই ঝুঁকি ৬৮% বেশি হতে পারে।
যদিও এই হার বৃদ্ধি পেলেও মোট আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি নয়। প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে প্রতি বছরে আনুমানিক ৩ থেকে ৯ জন নতুন করে এ সমস্যায় আক্রান্ত হন।
অন্যান্য গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য সমর্থিত হয়েছে।
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্বজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত অপর একটি গবেষণায় দেখা যায়, মেটফরমিন গ্রহণ করা রোগীদের তুলনায় জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একাধিক ধরনের অ্যালোপেসিয়ার হার কিছুটা বেশি।
এছাড়া, ‘ইনফারেন্স’ নামক একটি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত তৃতীয় গবেষণায় তিরজেপাটাইড সেবনকারী ১১,০০০-এর বেশি রোগীর সঙ্গে সমসংখ্যার সেমাগলুটাইড ব্যবহারকারীর তুলনা করে দেখা যায়, নতুন করে চুলপড়ার হার:
তিরজেপাটাইড সেবনকারীদের ক্ষেত্রে ছিল ৪.২৪%,
সেমাগলুটাইড সেবনকারীদের ক্ষেত্রে ছিল ৩.৩৩%।
বিশেষভাবে নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট ভাবে দেখা গিয়েছে:
তিরজেপাটাইডে: ৫.৪৪%,
সেমাগলুটাইডে: ৩.৬৩%।
শুধুমাত্র কি ওজন কমার প্রভাব?
সাধারণভাবে দেখা যায়, দ্রুত বা খুব বেশি ওজন কমানোর কারণে সাময়িকভাবে চুলপড়ার সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তীতে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তবে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, তিরজেপাটাইড ব্যবহারকারীদের জন্য চুলপড়ার এই অতিরিক্ত ঝুঁকি কেবল ওজন কমানোর পরিমাণ বা ওষুধের ডোজের ওপর নির্ভর করে না। অন্যান্য কারণও এর পেছনে জড়িত থাকতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের থাইরয়েডের সমস্যা অথবা অন্য কোনো হরমোনজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের মধ্যে অ্যালোপেসিয়ার প্রবণতা বেশি। এতে ধারণা করা হয়েছে যে, হরমোন অথবা অটোইমিউনজনিত বিভিন্ন কারণও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুতরাং, গবেষকরা চুলপড়াকে শুধুমাত্র দ্রুত ওজন কমানোর ফল হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে রোগীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য, পরামর্শ প্রদান এবং নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে মার্কিন হামলার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আমার মনে হয়, দিন যত যাচ্ছে তারা ততই বেশি আন্তরিক হয়ে উঠছে—সম্ভবত কিছু স্পষ্ট কারণে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ পর্যন্ত আমরা তাদের যেভাবে দেখেছি, বর্তমানে তারা সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা অবশ্যই একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ‘মোটামুটি সবাই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।’
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের এটি সঠিকভাবে করতে হবে।’
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক কৌশল রয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো বিকল্প পথ খোলা আছে।’
সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি হলো সামরিক পথ, যেখানে আমরা এখন অভিযান চালিয়ে যেতে পারি। চাইলে হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারি, যা সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
তবে সামরিক পথের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানালেন, ‘আরেকটি আরও বুদ্ধিমান কৌশল আছে, সেটি হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। ইরানও একটি চুক্তি করতে চায়। আমার মনে হয়, তারা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে তারা চুক্তি করতে চায়।’
এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও আলোকপাত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেয়া হবে না। তার ভাষায়, আব্রাহাম চুক্তির আওতায় রিয়াদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হবে সেই সহযোগিতার পূর্বশর্ত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই নীতি পরিবর্তন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান কোনো চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। আরাঘচির দাবি, ইরানের জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
দুই পক্ষের এমন অবস্থানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে ৩০ নাবিক বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর সামনে এসেছে। উন্মুক্ত সামুদ্রিক রেডিও যোগাযোগে শোনা যায়, একটি জাহাজকে ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর না হওয়ার সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে এবং ইঞ্জিন কক্ষে হামলার হুমকিও দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ‘দিশা’ নামের জাহাজটি জরুরি বার্তায় জানায়, অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাহাজে থাকা ৩০ নাবিককে উদ্ধারে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।
অপরদিকে, ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল মাসিরাহ দাবি করেছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হোদেইদায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করে। জাতিসংঘ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নতুন হুমকি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের তালিকার মধ্যে এটি হলো দ্বিতীয় স্তম্ভ। এই জন্য নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য নামাজের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো-
জোহর- ১২:০৬ মিনিট।
আসর- ০৪:৪৪ মিনিট।
মাগরিব- ০৬:৪৮ মিনিট।
এশা- ০৮:১২ মিনিট।
উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে। সেগুলো হলো-
যোগ করতে হবে:
খুলনা: ০৩ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
রংপুর: ০৮ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট
বিয়োগ করতে হবে:
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
সিলেট: ০৬ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদাইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে এক বিবৃতিতে হুতিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘হোদাইদাকে লক্ষ্য করে সৌদি আরব ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও উত্তেজনা' নীতিকেই বেছে নিয়েছে।’
এ হামলার পাল্টা জবাব দেয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, হামলার জন্য রিয়াদকে একটি চড়া মূল্য দিতে হবে।
হুতি-সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, সৌদি আরবের হামলায় হোদাইদার টেলিযোগাযোগ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কামারান দ্বীপেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমটি সেখানে অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে।
হোদাইদা বন্দর হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে বাণিজ্যিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রধান প্রবেশদ্বার। এই বন্দরটিকে ওই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হুতিদের দায়ী করেছেন। তিনি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-মালিকি বলেন, জোট প্রয়োজনীয় সকল সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। হুতিরা যদি তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই’ জবাব দেয়া হবে।
এর আগে বুধবার হুতিরা দাবি করে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লোহিত সাগরে কয়েকটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের দাবি, অন্তত একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জানায়, জাহাজগুলো দুই দিন আগে ঘোষিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করেছিল।
২০ জুলাই হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সপ্তাহ আগে চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওই হামলার জন্য তারা সৌদি আরবকে দায়ী করলেও, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এর দায় স্বীকার করে জানায়, অনুমতি ছাড়াই একটি ইরানি বিমান অবতরণের কারণে বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ