০৬:৪২ পি.এম
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি আটজন জড়িততার তথ্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা দিয়েছে। জানা যায়, তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ বলছে যে, লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। পাম্পটির মালিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রোববার সকালে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিনসহ ৩ কর্মচারী সিএনজি চালিত কভার্ডভ্যানে রওনা হন। বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ ছিনতাইকারীরা কভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে। তারা আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিস্তল উঁচিয়ে টাকার ব্যাগটি নিয়ে আব্দullahপুরের দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া ৩ লাখ টাকা। পরে পোস্তগোলা এলাকা থেকে লুট হওয়া ৯ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয় সাগরকে।
ঢাকার ডিবি প্রধান উল্লেখ করেছেন, ‘সাগরের নামে মোট ১৩ টি মামলা রয়েছে, সে পেশাদার অপরাধী। সে ঢাকায় আগেও একই কায়দায় বাইকে এবং মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই করেছে।’
এছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, মিন্টুর বিরুদ্ধে ৩টি, জাফরের বিরুদ্ধে ২টি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছি, ঘটনার সঙ্গে আরও প্রায় ৬-৭ জন জড়িত রয়েছে এবং আরও টাকা উদ্ধার করতে বাকি। সিসি ক্যামেরায় আমরা আটজনকে দেখেছি, তারা বলেছে আরও দুইজন ছিল।’
আরও পড়ুন: জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গাডি আইজেনকট
লুটের পর টাকাটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রধান তারা বেশি অংশ নিয়ে গেছে, অন্যরা যারা বিভিন্ন সাপোর্ট দিয়েছে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। আমরা যাদের নাম পেয়েছি তাদের আমরা অন্যান্য কিছু এনালাইসিস করে দেখলাম যে, ঢাকা শহরে একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। অন্যান্য যে আসামিরা আছে তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মূল হোতা যে এটা অর্গানাইজ করেছে, সে এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন একবারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা এখনো প্রতিষ্ঠানের কারও জড়িত থাকার বিষয় পাইনি। যে মূলহোতাকে ধরা হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
তার ভাষ্য, ‘এই গ্রুপটাকে যদি ডিসমেন্টাল করা যায় বা এই গ্রুপটাকে যদি ধরা যায়, আমি মনে করি যে এই ধরনের অপরাধের একটা মেজর অংশ কমে যাবে। সাগরের নামে ১৩টা মামলা আছে এবং যে এটার অর্গানাইজার তার নামে আমার ধারণা যে ২০ এর বেশি মামলা হবে।’ তবে ‘তদন্ত ও গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে’ মূলহোতা এবং জড়িত অন্যদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন