শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৩ এম
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের যুগ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এই মন্তব্যটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের সপ্তম মাসে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে এসেছে। খবরটি মেহের নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে গালিবাফ উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান শিকার হওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করার যুগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যা একসময় কেবল দুঃস্বপ্ন বলে মনে হতো, এখন সেটাই প্রতিদিনের বাস্তবতা। এই বাস্তবতার সঙ্গেই আপনাদের বসবাস করতে হবে।’
গালিবাফের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের একটি বক্তব্যের পর আসে। বুধবার, কেইন স্বীকার করেন যে, মার্কিন বাহিনী এখন নতুন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।
ড্যান কেইন বলেন, ‘এখন থেকে আমাদের ধরে নিতে হবে যে আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো স্বয়ংক্রিয় বা স্বশাসিত ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু হবে, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মুখে পড়বে এবং রিয়েল-টাইমে নজরদারির আওতায় থাকবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের সামরিক অভিযানের পর মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতিও তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় ‘আকস্মিক দুর্ঘটনায়’ চোট পাওয়ার কারণে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। শনিবার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
দল ব্যবস্থাপনার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্বাগতিক সম্প্রচারকারী সংস্থার একটি প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে ডাইভিংয়ের মাধ্যমে ক্যাচ ধরার চেষ্টা করার সময় রবীন্দ্র কাঁধে আঘাত পান।
একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি, তবে আগামী ২২ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা এখনো ‘অনিশ্চিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সিরিজের পরপরই নিউজিল্যান্ডের জন্য পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স ম্যানেজার মাইক স্যান্ডল জানান, শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা মাদুরে অস্বাভাবিকভাবে পড়ে গিয়েছিলেন রবীন্দ্র।
স্যান্ডল বলেন, ‘এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক একটা চোট।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাচিনের জন্য আমরা সত্যিই মর্মাহত, আর আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ও যেন ভালোভাবে সেরে ওঠে এবং যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফিরতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা।’
‘আমাদের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে যেকোনো বাণিজ্যিক শুটিংয়ের মতোই, এই কার্যক্রমও আগে থেকেই সব পক্ষের সম্মতিতে ঠিক করা হয়েছিল এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল’, স্যান্ডল যোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটাই একটা আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল, আর ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে আমাদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা চালিয়ে যাব আমরা।’
বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ও স্পিন বোলার রবীন্দ্র ২০২১ সালে অভিষেকের পর থেকে তিন ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি এখন পর্যন্ত ১১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
ভারতের সফরের আগে রবীন্দ্রর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। এই সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজ রয়েছে।
ওয়াল্টার বলেন, ‘সামনের ছয় মাসে টেস্ট ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি থাকায়, প্রয়োজনের আগেই রাচিনকে তাড়াহুড়ো করে মাঠে ফেরাতে চাই না আমরা।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম (১৩) নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ছেলেকে ফিরে পেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতিম আর ফিরে আসেননি বলে তার মা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, ওজন ৪০ কেজি। গায়ের রং শ্যামলা এবং চুল কালো।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অপ্রতিমের সন্ধান পাননি। নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
ড. নাহিদা বেগম তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, "আমার ছেলেকে আমি বিকাল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি- আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।"
কেউ অপ্রতিমের সন্ধান পেলে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ০১৭১৯-৬২৫৬৯০ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক পোস্টে ছেলের হাতে আইফোন দেওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক নাহিদা লেখেন, "প্লিজ উলটা পালটা জিজ্ঞেস করার জন্য ফোন দেবেন না। আমার ছেলেকে সেধে আইফোন দিয়ে পাঠাইনি। ও লুকিয়ে নিছে। পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, আমার কর্মক্ষেত্রের সব ছাত্র, সহকর্মী সবাই একযোগে কাজ করছে। সারারাত অভিযান চালিয়েছে। এখনো চলছে। ওর সব বন্ধুর বাসায় বাসায় যাওয়া হচ্ছে। মুন এলার্টকেও জানানো হয়েছে। প্লিজ সবাই শুধু আমার ছেলের জন্য দোয়া করেন। পারলে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা করুন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করি কোনো তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। ছেলেকে ফিরে পেলে আমি নিজেই সবাইকে জানাব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। শুক্রবার, তিনি নিজের ৯৮তম ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন।
উনিয়ন বার্লিনের বিরুদ্ধে বায়ার্নের জয়ের ম্যাচে ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কেইন এই রেকর্ড নিশ্চিত করেন।
ডিটার ম্যুলারের আগে ১০০ গোল করতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল। ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, তিনি কোলনের হয়ে ১২৯ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন। প্রায় ৪৯ বছর পর, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
কেইন বলেন, “সত্যি বলতে, বুন্ডেসলিগায় ১০০ গোল করতে পেরে আমি বেশ গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রিমিয়ার লিগে তো আমি এটা করেছিই, এখন একদম ভিন্ন একটা লিগেও এই কীর্তি গড়তে পেরে সত্যিই গর্ব হচ্ছে। আমি শুধু বলব, পুরো দলকে অনেক ধন্যবাদ।”
দ্বিতীয়ার্ধে কেইন নিজের ১০১তম গোলও করেন। এই ম্যাচে বায়ার্ন ৭-০ গোলে বড় জয় পায়। এতে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে হ্যাটট্রিক করেন।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার তিন বছরেরও কিছু বেশি সময়ের মধ্যে, কেইন এই মাইলফলক ছুঁলেন। বুন্ডেসলিগায় অভিষেক মৌসুমে ৩৬ গোল করার পর, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ২৬টি এবং গত মৌসুমে ৩৫টি গোল করেন তিনি।
জার্মানিতে নিজের তিন মৌসুমে, ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বুন্ডেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এর মাধ্যমে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমে টানা দুটি লিগ শিরোপা জিততে বায়ার্নকে সহায়তা করেছেন তিনি।
মিউনিখে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো এই সেঞ্চুরিও।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভেয়ার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে নিজের ১০৪তম ম্যাচেই ১০০ গোল পূর্ণ করেন কেইন। এর মাধ্যমে, একুশ শতকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো একটি ক্লাবের হয়ে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। এতে পেছনে পড়ে যান রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১০৫ ম্যাচে এই কীর্তি গড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একই কীর্তি গড়া আর্লিং হালান্ড।
এরপর থেকে, বায়ার্নের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১৫৪ ম্যাচে ১৫১টিতে নিয়ে গেছেন কেইন।
চলতি বছরটি কেইনের জন্য দারুণ কাটছে। বায়ার্নকে বুন্ডেসলিগা শিরোপা ধরে রাখতে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে তুলতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
গত মৌসুমে, লিগে ৩৫টি এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬১টি গোল করেন কেইন। সেই মৌসুমে শিরোপা জেতার পথে বুন্ডেসলিগায় রেকর্ড ১১২ গোল করে বায়ার্ন।
ইংল্যান্ডের হয়েও সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে, তিনি নিজের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭০-এ নিয়ে গেছেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর ঘোষিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও, কেইন অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের রিট বন্ধ হলে মামলার চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বিচারিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে রিট মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে। তার মতে, আদালতে শৃঙ্খলা থাকলে প্রকৃতপক্ষে জনগণ ন্যায়বিচার পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৩ মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২টি। এই ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।
এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই ৩ মাসে হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ, এই সময়ে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ হয়েছে। জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।
হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (জনস্বার্থ মামলার) নামে ব্যক্তি স্বার্থে রিট মামলা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যার মূল উদ্দেশ্যই থাকে আত্মপ্রচার। অনেকেই রিট মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক।" তিনি জানান, আইনের অনেক বিষয় ইতোমধ্যে আপিল বিভাগ নির্ধারণ করেছে যে, হাইকোর্ট কোন মামলাগুলো গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনগুলো পারবে না। যেমন, প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো রিট পিটিশন গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য রায়ে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সময়ে-সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণ করে আদেশ দিচ্ছে। এর ফলে বিচারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "যদি এই বিশৃঙ্খলার জায়গাটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় তাহলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।"
তিনি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন যে, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট করা হচ্ছে। যেমন, জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড় নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে সরাসরি রিট পিটিশন চলতে পারে না। আইন বলে, ব্যক্তি নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলা করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করবেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিটাকে অনেকে বাইপাস করে সরাসরি হাইকোর্টে এসে মামলাগুলো করছেন। ফলে হাইকোর্টে রিট মামলা বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো-
রিট অব হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটকে রাখা হলে হেবিয়াস করপাস রিট করা যায়। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতার ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।
রিট অব ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা না করলে হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব সার্টিওরারি: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন।
রিট অব প্রহিবিশন: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করে, তাহলে হাইকোর্ট তাদের সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব কো-ওয়ারেন্টো: কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কোনো সরকারি পদে থাকলে এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করেন।
মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট মামলার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট মামলা করতে পারেন। সেই থেকে আমাদের দেশে জনস্বার্থে রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।
গত কয়েক দশকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় অভাবনীয় বহুমাত্রিক সাফল্য এসেছে। রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মাধ্যমে দেশের নদীগুলো পেয়েছে ‘জীবন্ত সত্তা’র হিসেবে স্বীকৃতি।
সেই সঙ্গে দেশের বহু নদ-নদী দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা পাহাড় কাটা রোধ হয়েছে হাইকোর্টে করা রিট মামলার রায় বা আদেশের মাধ্যমে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মানবিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় হাইকোর্টে একজন ব্যক্তির করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ