বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:৪১ পি.এম
ইউক্রেন আগামী দুই দিনের মধ্যে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের ১৬০টিরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছে, এই তথ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের গদানস্ক শহরে অনুষ্ঠিত একটি বড় পুনর্গঠন সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
স্ভিরিদেনকো এই সম্মেলনের সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ১৬০টিরও বেশি সমঝোতা ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উল্লিখিত করেছেন, যার মোট মূল্য ১০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্ভিরিদেনকো আরও জানান, এই অর্থ ইউক্রেনের পুনর্গঠন কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইউক্রেন এবং তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
গদানস্কের এই সম্মেলনকে সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকা বিষয়ক পরিচালক এবং প্রধান ড্যানিয়েল উলভেনের বুধবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবিটি প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করMoreover, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রকৌশল খাতে আরো বেশি সুইডিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকা বিভাগের পরিচালক ও প্রধান ড্যানিয়েল উলভেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সুইডেনকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে সুইডেনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসাও করেন।
তিনি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি (সৃজনশীল অর্থনীতি) প্রসারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা বজায় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাখা বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবাধিকার, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বহুমুখী ও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়াতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপরও তারা জোর দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রকৌশল খাতকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে এসব খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন।
ড্যানিয়েল উলভেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান। তিনি একই সাথে বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য সুইডেনের আরো জোরালো সমর্থন কামনা করেছেন।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক মোট ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বৃহস্পতিবার এখানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করি, এসব চুক্তি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার, ২৭ জুন, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মাহদী আমিন বলেন, উভয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘একই সঙ্গে আমরা আশা করি, এসব আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, যা বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবৈধ ওয়াকি-টকি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা প্রদান করে।
বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার জন্য অবৈধ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার বিরুদ্ধে বিটিআরসি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযানের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় ব্যবহৃত ওয়াকি-টকি জব্দ করে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী-২০২৬) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের ওয়াকি-টকি বা বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার, সংরক্ষণ, আমদানি, বিপণন বা পরিচালনার জন্য বিটিআরসি থেকে তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বেতার যন্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ব্যতীত এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে রয়েছে।
এই অবস্থায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সংস্থা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মলসহ সকল ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সতর্ক করা হচ্ছে যে, বিটিআরসির যথাযথ অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের বেতার যন্ত্র বা ওয়াকি-টকি ব্যবহার করা যাবে না। অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন বেতার যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিটিআরসির অভিযান চলতে থাকবে এবং যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনস্বার্থে এবং সুষ্ঠু বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সকলকে যথাযথ আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোভিড, সার্স কিংবা ইবোলার মতো ভাইরাসগুলোর নাম শুনলেই মানুষের চোখে ভেসে ওঠে সুরক্ষা।একই সাথে, এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। প্রতিটি ভাইরাসের জন্য আলাদা টিকা কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, নতুন নতুন ধরণ বা ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এ অবস্থায়, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’র সহায়তায় নতুন একটি টিকা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি ভাইরাসের পুরো একটি পরিবারের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এমনকি ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যামব্রিজ থেকে বার্তা সংস্থা এবিষয়ে তথ্য জানায়। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হিনি এই প্রযুক্তিকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ‘মাস্টার কি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান টিকাগুলোর প্রধান সমস্যা হলো এগুলো অতীতের কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাস ধরণকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। ফলে যে ধরণের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়া হয়, ছয় মাস পর অবশ্যই মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকল্পটির প্রধান গবেষক হিনি বলেন, ‘টিকা সব সময় ভাইরাসের পেছনে ছুটে বেড়ায়।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা এই পরিবর্তনশীলতা দূর করার চেষ্টা করছি। এমন কিছু তৈরি করছি, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে সব ধরনের রূপেই পরিচিত হবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দেবে।’ এ প্রযুক্তি একটি বড় ধরণের ধারণাগত পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেন হিনি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের ভাইরাল জুনোটিকস ল্যাবরেটরির গবেষক, কানাডীয় বংশোদ্ভূত হিনি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পর এ প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। তিনি সময়টি ওই অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। -ঘোড়া তখন ছুটে গেছে’- এর আগে, ইবোলা মূলত মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে দেখা গেছে। তবে পশ্চিম আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব ছিল নতুন। শুরুতে রোগটিকে লাসা জ্বর, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, বা কলেরা হিসেবে ভুল শনাক্ত করা হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার ওই প্রাদুর্ভাবে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। হিনি বলেন, রোগটি শনাক্ত করতেই তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। ফলে টিকা তৈরির কাজ শুরু করাও বিলম্বিত হয়। তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যেই এটি দ্রুত গিনি, সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।’ তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও ছিলেন। পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাব শেষে ক্যামব্রিজে ফিরে এসে তাদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে, ‘আমাদের এই পদ্ধতি বদলাতে হবে। একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করে তার দল বিভিন্ন ভাইরাস সম্পর্কিত যত তথ্য পাওয়া গেছে, সব একত্র করে বিশ্লেষণ করেছে। এর মাধ্যমে তারা ভাইরাসের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মিল ও অমিল শনাক্ত করতে সক্ষম হন, যেগুলোর প্রতি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাড়া দেয়। ফলে শুধু একটি ভ্যারিয়েন্ট নয়, বরং সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। হিনির মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি, এবং মানুষের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার ফলে নতুন ভাইরাসের আবির্ভাব এখন আরও ঘন ঘন ঘটছে। এ কারণে নতুন প্রযুক্তিটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আগে যেসব ভাইরাস প্রাণীদের মধ্যে নিরীহভাবে অবস্থান করত এবং যেসব প্রাণী সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সেসব ভাইরাস এখন মানুষের সংস্পর্শে আসছে। ‘এদিকে দেখা যাচ্ছে যে মানুষের কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, কোনো প্রাকৃতিক সুরক্ষা নেই। ফলে ভাইরাস ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে।’ -‘ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে’- ‘সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ৩৯ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর একটি পরীক্ষায় এআই-সহায়তায় তৈরি সার্বজনীন সারবেকো করোনাভাইরাস টিকার ক্ষেত্রে ‘নিরাপত্তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্বেগ’ পাওয়া যায়নি। সংক্রামক রোগ ক্ষেত্রের মাসিক পিয়ার-রিভিউড মেডিকেল জার্নাল ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ক্যামব্রিজের বিজ্ঞানী ও বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান ডায়োসিনভ্যাক্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি টিকাটি এখন আরও বৃহৎ পরিসরের পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে। হিনি বলেন, মানব ইতিহাসে বহুবার মহামারি দেখা গেছে। মধ্যযুগের ব্ল্যাক ডেথ থেকে শুরু করে ১৯১৮-২০ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি পর্যন্ত, এতে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি মানুষ মারা যায়। তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সম্ভাব্য ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি। তিনি এটিকে সবচেয়ে ‘জটিল’ ভাইরাসগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি আশাবাদী যে, নতুন এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরেকটি প্রাণঘাতী মহামারি ঠেকাতে সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখন এআই-এর সম্পূর্ণ নতুন একটি স্তর তৈরি হয়েছে। সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের একটি দল আরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছে, যাতে আমরা আরও দ্রুত ও অধিকতর তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারি।’ হিনি জানান, ‘আমার বিশ্বাস, এটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্রযুক্তির দুয়ার খুলে দিচ্ছে। আশা করি, এটি ভবিষ্যৎকে বদলে দিতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ