শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩২ এম
সিলেট, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করা হবে না।
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। গত ১৫ বছরে দেশে অসংখ্য মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে।
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ যেমন অন্য দেশ থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেবে না, তেমনি ভারতও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেবে না-এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
এর আগে, শুক্রবার দুপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে আসেন হুমায়ুন কবির। তিনি হজরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু ক্লোন বা নকল করে আর্থিক প্রতারণার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা ও আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা মহানগর বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিলটনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একটি অসৎ চক্র +১(৯২৯)২২৩-৩৪২৭ নম্বরটি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করছে। এরপর উক্ত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অনৈতিকভাবে আর্থিক লেনদেনের দাবি জানানো হচ্ছে। হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওই মার্কিন (+১) নম্বরটির সঙ্গে তাঁর কোনোপ্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর ফোনকল বা আর্থিক লেনদেনের ফাঁদে না পাড়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত অফিশিয়াল যোগাযোগ নম্বর নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানানো হয়, +৪৪৭৭৭৪২৬১২৯০ এবং +৪৪৭৯৩২৯১০৬৬৩—এই দুটি আন্তর্জাতিক নম্বর এবং সরকারি ০১৩০৯ ২৪২৮৬৪ নম্বর ব্যতীত তাঁর আর কোনো নম্বর নেই।
বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, প্রযুক্তিভিত্তিক এ জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বন্ধে ইতোমধ্যে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আজ ডিএমপির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কাফরুল থানা পুলিশ ৩৪ জন, পল্লবী থানা পুলিশ ৩২ জন, মিরপুর থানা পুলিশ ২৫ জন, দারুস সালাম থানা পুলিশ ২৫ জন, শাহ আলী থানা পুলিশ ১৪ জন এবং ভাষানটেক থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাকসুর উদ্যোগে কবি জসীমউদদীন হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক পরিচালিত একটি উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদদীন হলে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ‘আইটি অ্যান্ড ক্যারিয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এই ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম, ই-লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ এবং বিভিন্ন আইটি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কবি জসীমউদদীন হলে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ল্যাবটির উদ্বোধন করা হয়। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ এবং ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ যৌথভাবে ল্যাবটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কবি জসীমউদদীন হল সংসদের ভিপি উসমান গনী, এজিএস হিজবুল্লাহ আল হিজুলসহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ল্যাবটি স্থাপনের সার্বিক বাস্তবায়নে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কবি জসীমউদদীন হল সংসদও বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করে।
ল্যাবটির কার্যক্রম সম্পর্কে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সের ট্রেনিং এবং একই সঙ্গে একটি ই-লাইব্রেরি হিসেবে ল্যাবটি কাজে আসবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, প্রতিটি হলের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীর একাডেমিক কাজ করার জন্য ব্যক্তিগত ল্যাপটপ নেই। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী প্রযুক্তিনির্ভর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হন না।
তিনি বলেন, ‘তারা তাদের ব্যক্তিগত একাডেমিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আইটি ও ক্যারিয়ার-সম্পর্কিত বিভিন্ন দক্ষতা এখান থেকে শিখতে পারবে।’
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ল্যাবের সার্বিক তত্ত্বাবধান করব এবং এটিকে আরও বেশি ব্যবহারযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের প্রভাব দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে গত কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে গত ছয় মাসে কর্মী রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শ্রমবাজারগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। এর ফলে বৈদেশিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। সংকটের সমাধানে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জোর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে চরম মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি তেল ও জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে যেসব দেশ নতুন নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছিল, তারা অনেক কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সংকুচিত করেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিদেশে কর্মী রপ্তানি বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৯ জন কর্মী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। চলতি বছরে এই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫৪ জনে। কর্মী রপ্তানি কমায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব। একই অবস্থা কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও। আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে দেশগুলোর নির্মাণ খাত ও ভারী শিল্পে নতুন কাজের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গত ছয় মাসে সৌদি আরবে গেছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে দেশটিতে পাঠানো হয়েছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ জন কর্মী। ফলে এক বছরে দেশটিতে কর্মী পাঠানো কমেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজমান। কাতারে গত বছর ৫৬ হাজার ৯৬ জন কর্মী গেলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০৩ জনে। কুয়েতে ২৭ হাজার ৮৬ জন থেকে কমে ১৩ হাজার ৭৪৫ জনে পৌঁছেছে। তবে বিপরীত চিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে। গত বছর দেশটিতে যেখানে মাত্র ৬ হাজার ৭৮৯ জন কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরে গেছেন ১৪ হাজার ৮৭৫ জন।
এদিকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে এ সংকটের পেছনে তিনটি বিষয়কে দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় নতুন কর্মীর চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি বিমান ভাড়া এবং অন-অ্যারাইভাল প্রশাসনিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সেখানেও সংকট দেখা দিয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার তাগিদ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কর্মী রপ্তানির এই ধস সামাল দিতে বাংলাদেশকে এখন একক বাজারকেন্দ্রিক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও আফ্রিকার উদীয়মান বাজারগুলোতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে শুধু অদক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে কারিগরি ও আইটিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে বৈশ্বিক যেকোনো সংকটেও শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, "বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এবং সবচেয়ে বড় নির্ভরতা সৌদি আরবের ওপর। নীতিনির্ধারণী জায়গায় শ্রমবাজারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্প্রসারণ, ঝুঁকি কমানো বা বিকল্প বাজার তৈরির মতো কাঠামোগত উদ্যোগ যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বড় কোনো সংকট এলে বাংলাদেশকে সরাসরি ধাক্কা খেতে হচ্ছে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটিতে থাকা শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ও বেতন নিয়মিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যা দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।"
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু হলে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করে সরকার।
বৃহস্পতিবার সংসদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানান, নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এরপর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী দেশটি সফর করেন। এর ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, "যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাহিদাপত্র ইস্যু করেও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ