ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পেরু ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ


পেরু ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ

ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : গত ২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিতর্কিত নির্বাচনী জয়কে কেন্দ্র করে পেরু ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এবার উভয় দেশ আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করতে যাচ্ছে। শুক্রবার দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে একটি ঘোষণা প্রদান করেছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লিমা যখন ভেনেজুয়েলার নির্বাচনের সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পরিবর্তে বিরোধী নেতাকে বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তখনই কারাকাস পেরুর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। উল্লেখযোগ্য দিক হল, ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ পরে মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছিল।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায়। এর পর নিয়োগকৃত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট এবং ওয়াশিংটনের মিত্র ডেলসি রদ্রিগেজ তার স্থলাভিষিক্ত হন।

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, পেরু ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পেরু প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং ভেনেজুয়েলার বলিভারিয়ান প্রজাতন্ত্রের সরকার আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি পুনঃস্থাপনের জন্য একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

শুক্রবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে ডেলসি রদ্রিগেজ মন্তব্য করেন, ‘ভেনেজুয়েলাকে শান্তির লক্ষ্যে বলিভারিয়ান কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।’

আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি

এদিকে পেরুর রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি আগামী ২৮ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এলো।

কলম্বিয়ার পর ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবেও পেরু পরিচিত। বর্তমানে দেশটিতে ১৬ লাখের বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক বসবাস করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সেমিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


বাগেরহাটে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সেমিনার

বাগেরহাট, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যুব সমাজকে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গমন নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই দালালচক্রের খপ্পরে পড়া যাবে না। প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের অর্থনীতি সমানভাবে উপকৃত হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রামপাল উপজেলার সুন্দরবন মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সরকারি চিতলমারী কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ, বাগেরহাট মেরিন একাডেমির পরিচালক মাজহারুল হোসেন খান, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা বিদেশে কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত। বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গমন নিশ্চিত করা গেলে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি কমবে এবং নিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

সেমিনারে রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিদেশগামী যুব-যুবাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপকূলের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


উপকূলের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাট, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট মোকাবেলায় ধাপে ধাপে প্রতিটি ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারি পুকুরগুলোর সংস্কার করা হবে এবং সেগুলোকে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা উপকূলের মানুষের নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা প্রদান করবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় রামপাল ও মোংলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ অঞ্চলের অধিকাংশ পানির উৎস লবণাক্ত। এমনকি অনেক টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহার উপযোগী নয়। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিরাপদ সুপেয় পানির অন্যতম কার্যকর উপায়। সেই লক্ষ্যেই পরিবারের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। সরকারি পুকুরগুলো সংস্কার করে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধারে রূপান্তর করা হবে। এসব পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেয়া হবে না, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন,

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রামপালে प्रतিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অতি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবি ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ, সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


চবি ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ, সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাত

খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিবাদ করায় সেই ছাত্রীর ওপর হেনস্তা করা হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল বেলা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে এই ঘটনা। পরে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জসিম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার তোফায়েল আহমেদের ছেলে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী বাসের জানালার পাশে বসে ছিলেন এবং পেছনের সিটে অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন। সিগারেটের ছাই ফেলার অজুহাতে তিনি শিক্ষার্থীর শরীরে স্পর্শ করেন। প্রতিবাদের কারণে অভিযুক্ত গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করলে হাটহাজারীতে অভিযুক্তকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফটিকছড়ির একটি বাসস্ট্যান্ডে সিএনজিচালিত রিকশায় এসে অভিযুক্ত পুনরায় একই বাসে ওঠেন। এরপর তিনি ওই শিক্ষার্থীকে আবারও শারীরিকভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাসের জানালার পাশে বসেছিলেন। পেছনের বসা ব্যক্তি সিগারেট ফেলার অজুহাতে তার শরীর স্পর্শ করেন। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে নানা রকম হুমকি দেন। পরে একবার অভিযুক্তকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ফটিকছড়ি পৌঁছানোর পর তিনি আবার বাসে উঠে এসে তার চুল ধরে টান দেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ঘটনাটি হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে। যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় নেওয়া হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম খান জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই উঠতে হয় সেতুতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই উঠতে হয় সেতুতে

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখের সামনে নজরে আসে একটি নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ পাকা সেতু। পূর্বে এটি ছিল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার পর প্রায় ১০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ১০ গ্রামের অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন একদম নীরব দর্শকের মতো রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকার একটি পাকা সেতুর অবস্থাও বর্তমানে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবের কারণে সেতুটির একটি অংশ মারাত্মকভাবে একপাশে হেলে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই জরাজীর্ণ সেতুটি এখন হাজারো মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়ে গেছে।

নড়বড়ে এই সেতুর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো বসিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এমন ভয় রয়েছে যে যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসময়ে জুন মাসে সেতুটির উদ্বোধন করেন তখনকার উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া।

সেতুটি নির্মাণের কিছু বছর পরে বন্যায় তিস্তার পানির তোড়ে এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় পথচারী এবং যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে পাটাতন বসিয়ে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

মৌলভি বাজার এলাকার এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া এটি কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় এলাকার জনগণ বাধ্য হয়েই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির এই খারাপ অবস্থার কারণে সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সেতুটি দিয়ে চলাচল আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেতুর সংযোগস্থল মাটি ভরাট এবং সেতুর সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছে এলাকাবাসী। তবে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শুধু আশ্বাস দিয়ে বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করছে। এর ফলে বিপুল দুর্ভোগ ও কষ্ট হচ্ছে, অথচ এলাকার এমপি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান বলেন, ওই ১০ গ্রামে মোট অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। সমস্যাটি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বড় সেতু তৈরির জন্য টাকা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, এই নড়বড়ে পাকা সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে ৪ থেকে ৫ বার আবেদন করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, মৌলভি বাজার এলাকায় নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনও হয়ে গেছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি ডিজাইন পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই টেন্ডার অনুমোদন হবে এবং এরপর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%