০৫:০২ পি.এম
শোবিজ জগতের সমীকরণ সবসময় অদ্ভুতই থাকে, এবং সেখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা যেন আরও বেশি গোলমেলে হয়। গত প্রায় দুই বছর ধরে নব্বইয়ের দশকের সুপারস্টার গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার সম্পর্ক নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় চলছে জোর গুঞ্জন।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের পর, যখন সুনীতার ডিভোর্স ফাইল করার খবর সামনে আসে, তখন থেকেই এই তারকা দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। বর্তমানে সুনীতা আহুজা একটি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো-এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে গোবিন্দের পরকীয়া এবং সেই পরিস্থিতি তিনি কীভাবে সামলেছেন, তা নিয়ে বারবার আলোচনা হওয়ায় তাদের এই অমীমাংসিত সম্পর্কটি আবারও নতুন করে স্পটলাইটে চলে এসেছে।
আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
গোবিন্দ ও সুনীতার বিয়ের বয়স প্রায় তিন দশকেরও বেশি। ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে অত্যন্ত গোপনে বিয়ে করার পর, ১৯৮৮ সালে মেয়ে টিনার জন্মের পর নিজেদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন এই দম্পতি। ১৯৯৭ সালে তাদের সংসারে আসে ছেলে যশবর্ধন। দীর্ঘদিনের এই পথচলায় গত বছর থেকেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে ব্যভিচার, নিষ্ঠুরতা ও পরিত্যাগের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন সুনীতা। আদালত থেকে গোবিন্দকে তলব করা হলেও প্রথম দিকে তিনি হাজিরা দেননি। পরবর্তীতে তাদের আইনি পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে গোবিন্দের আইনি দল এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোনো বিষয় বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, সব কিছুই এখন মিটমাট হয়ে যাচ্ছে।
তবে সুনীতা নিজেই বিভিন্ন সময়ে গোবিন্দের একাধিক পরকীয়া ও তরুণী অভিনেত্রীদের জড়িয়ে আর্থিক সুবিধার নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা তাদের সাজানো সুখী গৃহকোণের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই ধাক্কা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, লাইফস্টাইলের ভিন্নতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা ছাদের নিচে অবস্থান করছেন। সুনীতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোবিন্দের ব্যস্ত শিডিউল ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিনিয়ত যাতায়াতের কারণে সন্তানদের প্রাইভেসি বজায় রাখতে তিনি গোবিন্দের বাংলোর ঠিক উল্টো দিকের একটি ফ্ল্যাটে শিফট হয়ে যান। অন্যদিকে, গোবিন্দ নিজেও এক সাক্ষাৎকারে নব্বইয়ের দশকের সহ-অভিনেত্রী নীলম কোঠারির প্রতি তার তীব্র আকর্ষণের কথা অকপটে স্বীকার করেছিলেন, যা একসময় সুনীতার সঙ্গে তার সম্পর্কে চরম অশান্তি ডেকে এনেছিল। সম্প্রতি গোবিন্দের পায়ে দুর্ঘটনাবশত গুলি লাগার ঘটনার পর, যখন সুনীতা হাসপাতালে বা তার ফিজিওথেরাপি সেশনে অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তাদের দূরত্বের গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে। গোবিন্দ অবশ্য বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
এত সব ঝড়-ঝাপটা এবং স্বামীর পরকীয়ার কথা বারবার অকপটে স্বীকার করলেও, দিনশেষে সুনীতা যেন ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিনোদনজগতে এই ধরনের বিষয় খুব সাধারণ এবং যতক্ষণ না তিনি নিজের চোখে স্বামীকে হাতেনাতে ধরছেন, ততক্ষণ বাইরের কোনো গুজবে কান দেবেন না। নিজেকে 'অ্যাক্টরের বউ' হিসেবে গড়ে তুলতে মনকে পাথরের মতো শক্ত করতে হয়েছে, উল্লেখ করে সুনীতা বলেন, ১৫ বছর বয়সে তিনি গোবিন্দকে ভালোবেসেছিলেন এবং ৫৬ বছর বয়সে এসেও সেই ভালোবাসা একই রকম আছে। সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে মানুষ ক্ষমা করে দিতে পারে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। গত বছর মুম্বাইয়ে দুজনকে একসাথে গণেশ চতুর্থী উদযাপন করতে দেখে বিচ্ছেদের গুঞ্জন কিছুটা থিতিয়ে আসে। তখন সুনীতা সংবাদমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দেন, তাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না এবং গোবিন্দ শুধুই তার।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না
জীবনের এই অপরাহ্নে এসে সুনীতা অতীতের সমস্ত তিক্ততা ভুলে গোবিন্দকে আগলে রাখতে চান। রিয়ালিটি শো-তে সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, গোবিন্দ একজন বড় তারকা, তাই এসব নিয়ে এখন আর বেশি মাথা ঘামাতে চান না। এই বয়সে এসে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিলে তার ডায়াবেটিসের সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। তাই তিনি এখন সবকিছু যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে দিতে চান এবং সন্তানদের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দীর্ঘ বছরের পথচলায় তাদের সম্পর্কে যত যুদ্ধই আসুক না কেন, গোবিন্দের হাত ছাড়তে নারাজ সুনীতা। আর তাদের এই অম্ল-মধুর সম্পর্কের সমীকরণই এখন নেটিজেনদের ভাবিয়ে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন