সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধ
শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২০ পি.এম
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে শ্রীশ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬ উদযাপন করা হবে।
শুভ জন্মাষ্টমী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই পবিত্র তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, ধর্ম, প্রেম, ত্যাগ, মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার শিক্ষা প্রদান করে। তাঁর অমর বাণী ও আদর্শ যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, অসত্য ও অধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করেছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মনে করে, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
আমরা প্রত্যাশা করি, শ্রীশ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও মহান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও শান্তির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
এই পবিত্র দিনে সকলের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি, মঙ্গল ও কল্যাণ বয়ে আসুক—এই প্রার্থনা করি।
শুভ জন্মাষ্টমী।
হরে কৃষ্ণ। হরে কৃষ্ণ।
গণেশ চন্দ্র রায়
সভাপতি
পূজা উদযাপন পরিষদ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
শ্যামল কান্তি রায়
সাধারণ সম্পাদক
পূজা উদযাপন পরিষদ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল শুক্রবার বাগেরহাটের কচুয়ায় শ্রী শ্রী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কচুয়া উপজেলা শাখা, যা কচুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও উপজেলা মন্দির কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির সভাপতি অনিমেষ কান্তি সাহা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রণয় কান্তি সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমির সালমান রনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ বাগেরহাট জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আর.জি মনা।
আলোচনা সভা শেষে একটি ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রাতের বেলায় মন্দিরে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে শ্রীকৃষ্ণের কালজয়ী আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি সেমিনার আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। ঝিনাইদহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেমিনারে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণকারী তরুণ-যুবকরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার বেলা ১১টায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সম্মেলন কক্ষে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এম এ মজিদ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. রুস্তম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল।
বক্তারা সেমিনারে উল্লেখ করেন, বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য কর্মীদের দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো কাজের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে গেলে সফলতা আসবে। দক্ষতার অভাবে অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত মজুরি পান না। তাই বিদেশে কাজের জন্য যেতে হলে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে, সরকার প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এ সময় বিদেশে গমনেচ্ছু ও সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়, যাতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে গত বছর পুরো ফিলিস্তিনি জনগণের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনটি ইসরাইল কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে এসেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তার ফলে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হন।
‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে পরিচিত ওই অভিযানের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রবেশ করে।
জাতিসংঘের দাবি, এই সময়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটে, শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয় এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী শিবিরগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের শিবির ছেড়ে যেতে বাধ্য করে।
অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী শিবিরগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে এবং সেখানকার পুরো জনগণকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়, বলেছে প্রতিবেদনটি।
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, জেনিন, নূর শামস ও তুলকারেমের মতো শরণার্থী শিবির থেকে ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা ‘জোরপূর্বক স্থানান্তর’ নামের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এই তিনটি শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৩ হাজার ৩৬২ জন ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়নি।
‘জাতিগত নিধনের’ আশঙ্কা
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর বলেছে, বিমান হামলা, সাঁজোয়া বুলডোজার ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো শিবিরকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা, বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের ফিরে আসতে বাধা দেওয়া— আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতিসংঘ আরও বলেছে, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ সমষ্টিগত শাস্তির শামিল হতে পারে এবং ‘জাতিগত নিধন’ বা ‘এথনিক ক্লিনজিংয়ের’ আশঙ্কা তৈরি করছে।
তবে জেনেভায় ইসরাইলের মিশন জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও পক্ষপাতহীনতার নীতি থেকে সরে গিয়ে ‘নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে’ পরিণত হয়েছে।
ইসরাইল আরও দাবি করেছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সেখানে তারা সন্ত্রাসী হামলার হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেনি।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হলে সহিংসতা আরও বেড়ে যায়।
২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর এই অভিযান শুরু হয়েছিল।
২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ঘোষণা করে, তাদের সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের ওই তিনটি শরণার্থী শিবির খালি করেছে। পশ্চিম তীরে মোট ১৯টি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে এগুলো তিনটি।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, তিনি সেনাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন— খালি করা শরণার্থী শিবিরগুলোতে আগামী এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অবস্থান করার জন্য প্রস্তুত থাকতে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের ফিরে আসা ও ‘সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান’ ঠেকানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক শুক্রবার বলেন, এই অভিযান যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এর উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব ফিলিস্তিনিকে ওই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা এবং সেখানে আরও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা।
এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিমত তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি হামাস আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে জানান, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরাইলি সরকারের দুই মন্ত্রীর ধারাবাহিক বক্তব্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিকল্পনা মোকাবিলায় আরব ও ইসলামি দেশগুলোকে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব পরিকল্পনা ঠেকাতে কার্যকর অবস্থান ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বৃহস্পতিবার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
তার পরিকল্পনার মধ্যে প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বাকিদেরও সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর এক দিন আগে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, সমুদ্র ও স্থলপথে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে ইসরাইল প্রস্তুত।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণকে কোথায় পাঠানো হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে, কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ফিলিস্তিনিদের অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকেও সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
অধিকৃত ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী একাধিকবার নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ওই হামলা ছিল ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ওই হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
ইসরাইলি মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক এসব বক্তব্য আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে এসেছে। জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে নির্বাচনী লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নেতানিয়াহু তার সরকারে এমন কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা আগে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই উপেক্ষিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বিশ্বকে চমকে দিয়ে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূমধ্যসাগরীয় এই ভূখণ্ডকে একটি বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে মিসরসহ বিভিন্ন দেশের তীব্র আপত্তির মুখে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। ইসরাইল ছাড়া মিসরই গাজার একমাত্র সীমান্তবর্তী দেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ