মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের খাসমহল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মোঃ ইমরান মিয়া ওরফে সোহাগ ভুইয়া (৩৬)। তিনি ওই এলাকার আঃ সালাম ভুইয়ার ছেলে।
রাঙ্গাবালী থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল রাত ২টা ৩৫ মিনিটে অভিযান চালায়। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনোয়ার হোসেন গাজীসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
পুলিশ জানায়, খাসমহল এলাকায় ইমরান মিয়ার বসতঘরের সামনের উঠানে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আজ রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর ফলে দস্যুদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সময় নানা ভাই বাহিনীর সদস্যরা জমা দেন— ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ারগান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মিমি তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি।
আত্মসমর্পণকারীরা হলোন- জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। অন্যদিকে আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যুকে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। তবে যারা এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কোস্ট গার্ড।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে লোক প্রশাসন বিভাগকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ। টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যান অব দ্য ফাইনাল, ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ও সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন আমির, তানিম ও মাজহারুল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে লোক প্রশাসন বিভাগকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তোলে বিভাগটি।
টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য ফাইনাল) নির্বাচিত হয়েছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোহাম্মদ আমির। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে গোল করার পাশাপাশি ফাইনালেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) নির্বাচিত হয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের তাসনিমুর রহমান তানিম। প্রতিযোগিতাজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পান তিনি।
সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন চ্যাম্পিয়ন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাজহারুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফাইনালের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা নামে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাসান মাহমুদ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি আইসিসির আগস্ট মাসের সেরা খেলোয়াড় ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তার সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা এবং ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন।
আগস্ট মাসজুড়ে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই তিন ক্রিকেটার সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটার সোনাল দিনুশা। গলে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রান করেন। দ্বিতীয় টেস্টে তার পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল ছিল।
প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি অপরাজিত থাকেন ১৩৩ রানে। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ভারতকে রুখে দিয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়। দুই টেস্টে দিনুশার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪২০ রান, যার ব্যাটিং গড় ১৪০.০০। সিরিজে দুই দলের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান অলি রবিনসন। প্রথম টেস্টে তিনি ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৮০ রানে ৮ উইকেট নেন, এবং দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৩৫ রানে আরও ৮ উইকেট শিকার করেন।
রবিনসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফলে ইংল্যান্ড দুই ম্যাচেই জয়লাভ করে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। আগস্ট মাসে দুই টেস্টে রবিনসনের শিকার ১৬ উইকেট, এবং তার বোলিং গড় ছিল মাত্র ৭.১৮। নতুন বলে তার আক্রমণাত্মক বোলিং ও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ ইংল্যান্ডের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তালিকার তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ের পথে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে আরও ৩ উইকেট শিকার করেন হাসান।
তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশ জয়ের পথে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়ে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হাসান মাহমুদের মোট শিকার ৯।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ