সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩১ পি.এম
ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভালে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র পুরস্কৃত হয়েছে। ‘জয়া আর শারমিন’ নামক চলচ্চিত্রটি, যা পরিচালনা করেছেন পিপলু আর খান, সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। একই উৎসবে মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন : ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’ হিসেবে।
এবারের উৎসবটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘জয়া আর শারমিন’-এর প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্বীকৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উৎসবে চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের উষ্ণ সাড়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "এই পুরস্কার ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য যেমন উৎসাহের, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।"
জানা গেছে, ছয় দিনের এই উৎসবে মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে ১৯টি ছবি অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্রগুলো উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
বিচারক প্যানেলে ছিলেন অধ্যাপক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, রীতা দত্ত ও প্রদীপ কেনচানুরু।
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার চলচ্চিত্র ‘রিভার টেলস’, পরিচালনা করেছেন পঙ্কজ বরা। একই বিভাগে জুরি মেনশন পেয়েছে শ্রীলঙ্কার চলচ্চিত্র ‘প্যানট্রাম’, যা পরিচালনা করেছেন নাদিয়ে ওয়াসালামুদালিআরাচ্চি।
প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে রণজিৎ রায় পরিচালিত ‘ডলস ডোন্ট ডাই: পুতুলনামা’। দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে দীপ ভূঞা পরিচালিত ‘রিভার স্টিল ফ্লোজ’।
অন্যদিকে স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ড. ধৃতিশ্রী সরকার পরিচালিত ‘দ্য টেল অব কথা’। একই বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে মোহাম্মদ সাজাদ মোতাহারিজাদেহ পরিচালিত ইরানি চলচ্চিত্র ‘সাডেনলি রাইজ’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সাক্ষাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সহকারী কেট ওয়ার্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম, এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ মেয়েদের জন্য আরো নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সমাজে মেয়েদের জন্য এখনও পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বাল্যবিবাহ, সহিংসতা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেয়ে উচ্চশিক্ষায় আসার আগেই ঝরে পড়ে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্ত কলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর হবিগঞ্জ জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
তিনি আরো বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, মেয়েদের এসটিইএম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস) শিক্ষায় আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা জরুরি। ২০২৮ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরো জোরদার করা হবে। এ পরিবর্তনের যাত্রায় মেয়েদেরও সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে, নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হবে। সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— কলেজটির প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহান আরা খাতুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের গাভদোস দ্বীপের নিকটবর্তী একটি নৌকা, যা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করছিল, ডুবে যাওয়ার ফলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার গ্রিসের কোস্ট গার্ড এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছে। দুর্ঘটনার স্থানের কাছাকাছি দুটি নৌকা ৫১ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে মোট ৭৭ জন ছিলেন। কোস্ট গার্ড নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপ লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দ্বীপ গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে। গ্রিসে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন গত কিছু সময় ধরে কিছুটা কমেছে।
দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে আগমনের সংখ্যা ৬১ হাজার থেকে কমে ৪২ হাজারে নেমে এসেছে। এর মানে হচ্ছে, আগমন প্রায় ৩১ শতাংশ কমেছে। ইউরোপে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। গ্রিসও এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমানোর জন্য কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে জার্মানি এবং কয়েকটি ইইউ দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে গ্রিস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিও ছিল তার শখের যাত্রার শুরু। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একসময় এটি রূপ নেয় একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগে। ধান কাটার পর পড়ে থাকা জমিতে এখন মাচায় ঝুলছে সারি সারি হলুদ তরমুজ।
এটি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলমের গল্প। তার ইচ্ছা, সাহস এবং পরিশ্রমের ফলে পতিত জমিও এখন আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
উদ্যোক্তা সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ ও সংবাদকর্মী খোর্শেদ আলম প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষের একটি ভিডিও দেখেন। সেই সময় থেকেই ভিন্নধর্মী এই ফলচাষের প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ২০২২ সালে তিনি মাত্র ছয় শতাংশ জমিতে হলুদ তরমুজের চাষ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন।
প্রথমদিকে তার উদ্দেশ্য ছিল পারিবারিক চাহিদা মেটানো। কিন্তু ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা দেখে তার ভাবনা বদলে যায়। খোর্শেদ আলম বলেন, “ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ দেখে শখ জাগে। ভাবলাম, একবার পরীক্ষা করে দেখি। ছয় শতাংশ জমিতে বীজ বপন করলাম। ফলন ভালো হওয়ার পর দেখলাম এর চাহিদাও বেশ। তখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করি।”
তিনি জানান, সেই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবার রূপ নিয়েছে বড় পরিসরে। নিজের প্রায় তিন বিঘা পতিত জমিতে ল্যানফে, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করছেন তিনি।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জুড়ীর সহযোগিতায় ডোমাবাড়ি কচুরগুল ব্লকের ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ শুরু করেন খোর্শেদ।
সরেজমিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ডোমাবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে প্রশস্ত মাচা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সবুজ পাতার ফাঁকে সারি সারি ঝুলছে হলুদ তরমুজ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা লতাগুল্মের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বাহারি হলুদ তরমুজ। বাগানের চারপাশে উৎসুক মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
কেউ তরমুজ দেখতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন। কেউ পরিবারে জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ১০-১৫টি করে। অনেকের জন্য এটি প্রথমবারের মতো হলুদ তরমুজ দেখা ও খাওয়ার অভিজ্ঞতা।
কমলগঞ্জ থেকে বাগান দেখতে আসা এম এ ওয়াহিদ রুলু বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। এত দূর থেকে এসেছি উদ্যোক্তাকে উৎসাহ দিতে। তরুণ বয়সে এমন উদ্যোগ সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।”
খোর্শেদ আলম জানান, হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে চাষে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
গত বছরের অভিজ্ঞতাও খোর্শেদকে উৎসাহিত করে। তার মতে, গত মৌসুমে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় আট লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের একটি ফসল থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়েছে।
খোর্শেদ বলেন, “জুড়ীর আবহাওয়া হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাত্র তিন মাসে ফলন পাওয়া যায়। আমি মনে করি, এই এলাকায় আরও বড় পরিসরে চাষের সুযোগ রয়েছে।”
খোর্শেদের চোখে শুধুমাত্র নিজের লাভের হিসাব নেই। তার মতে, জুড়ী উপজেলায় এখনও হাজার হাজার বিঘা জমি বিভিন্ন কারণে পতিত রয়েছে। এসব জমি কাজে লাগাতে পারলে একদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ীতে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন। তিনি বলেন, “ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের উচ্চ ফলনশীল জাত।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী।”
কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “তরুণ বেকাররা আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ