১২:০৭ পি.এম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে জাপানি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একের পর এক শর্ত যুক্ত করছে। এর ফলে উদ্বোধন ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, জুলাইয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই হবে। আর নির্ধারিত সময়েই টার্মিনাল চালু হবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে সরকার আগের মতো এগিয়ে যাচ্ছে আসছে ডিসেম্বরে। কিন্তু জাপানের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের একের পর এক নতুন শর্তে জটিলতা বাড়ছে। সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। সিভিল এভিয়েশন ইতোমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব বা আরএফপি দিয়েছে। ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও জাপানি প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন শর্ত দিচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালু নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও বিমান প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, চুক্তি জুলাইয়ের মাঝামাঝি হবে।
বিমান প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে, তাদের যেসব সক্ষমতা আছে সেগুলো দিয়ে চেষ্টা করা। চুক্তি সই হলে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জটিল প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকবে। প্রযুক্তিগত সব ফাংশন নভেম্বরের মধ্যেই অপারেশন র্যাডিয়্যান্স অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের আওতায় টার্মিনাল টু থেকে স্থানান্তর করা দরকার।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
বিমান প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেসব কার্যক্রম শেষ হবে, তারা অক্টোবরের মধ্যে বুঝে নিবে। নভেম্বর মাসটি পুরো ট্রায়ালে চলবে, যাতে ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা সম্ভব হয়। তিনি আশা করেন, নভেম্বরে তারা বুঝে নিতে পারবে।
যদি থার্ড টার্মিনালের অপারেশন শুরু হয়, তাহলে শাহজালাল বিমানবন্দরে বছরে যাত্রীসেবা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ২ কোটিতে উন্নীত হবে। এটি এয়ারলাইন্সের সংখ্যা বাড়াবে এবং ভাড়া কমাবে। পণ্য আমদানি-রফতানি বেড়ে রাজস্বে গতি আসবে। তাই স্থাপনা দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্যা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, টার্মিনাল উদ্বোধন হলে যাত্রীরা সাশ্রয় বোধ করবে, তারা এখানে নিরাপত্তা বোধ করবে এটি একটি বড় ব্যাপার। যেসব এয়ারলাইন্স সার্ভিস দেয়, তাদের সার্ভিসেও উন্নতি ঘটবে। নতুন নতুন এয়ারলাইন্সগুলো নিরবচ্ছিন্ন সার্ভিস দিতে পারবে। নতুন এয়ারলাইন্স আসা মানে নতুন রেভিনিউ আসবে এবং চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশ্বমানের সেবা দিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন, ১২৮টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার, ১৬টি লাগেজ বেল্ট, ৪০ হাজার বর্গমিটার বিশাল বহির্গমন লাউঞ্জ এবং ১ হাজার ২০০টি গাড়ি পার্কিং অবকাঠামো। এছাড়া, একসঙ্গে ৩৪টি উড়োজাহাজ পার্কিং করার ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এদিকে এর আগে শনিবার (২০ জুন) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল (তৃতীয় টার্মিনাল) আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন