১০:৪১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, "এনসিপিকে অবশ্যই জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।" তিনি সতর্ক করেছেন যে, অন্যথায় আরও অনেকেই জামায়াত থেকে বেরিয়ে যাবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঝিনাইদহ জেলা শহরের একটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি ও জামায়াতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, "যে স্বপ্ন নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিল, তাদের অনেকেই বের হয়ে যাচ্ছে।" তিনি এনসিপির ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন, সামান্তা শারমিনদের দলকে ধরে রাখতে না পারা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, "জামায়াত সংস্কার চায় না, জামায়াত আসলে সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে।" একই ধরনের অভিযোগ এনে সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেছেন। এর মানে, এই অভিযোগগুলো সত্য। জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল হলো ইসলামকে পুঁজি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
তিনি আরও বলেন, "বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা বলে যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন কায়েম করব না।" অথচ, গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন কায়েম করবে। জামায়াতের সঙ্গে যারা জোটে আছে, তাদেরকে বলছে যে, "আমরা ক্ষমতায় গেলে সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করব।" কর্নেল অলি সাহেব জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন যে, জামায়াতের আমির তাকে কথা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন নয়, প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালাবে। এর মানে, জামায়াত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, ঠিক একইভাবে জোটসঙ্গীদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে।
এনসিপি ও জামায়াতের আদর্শিক পার্থক্য তুলে ধরে রাশেদ বলেন, "জামায়াত এবং এনসিপির মধ্যে আসলে টানাপোড়েন চলছে।" জামায়াতের আদর্শ এবং এনসিপির আদর্শের মধ্যে কোনো মিল নেই। তেল এবং জল যেমন একসঙ্গে থাকতে পারে না, এনসিপি এবং জামায়াতও একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারে না। তিনি মনে করেন, নাহিদ ইসলামের উচিত হবে জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসা।
এছাড়াও, সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অবশ্যই ভালো।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চেষ্টা করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি কাজ করছেন। যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাদের সরকার আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন