০৫:০২ পি.এম
ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান তেল আবিবসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরাইল।
তবে, ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি এই তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদক, বাল্যবিবাহ ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সকলকে আসতে হবে: রাশেদ খাঁন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনায় ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ কিংবা গোপনে অন্য দেশে প্রবেশ করিয়ে হামলা চালানোর প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি এখন বেশি জরুরি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, অন্যদিকে অন্যরা এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহু প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে রাজি করানোর জন্য এই গোয়েন্দা তথ্যকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
সংশয় উপসাগরীয় দেশগুলোরও
আরও পড়ুন: টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, আটক নেই
ইসরাইল শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের কাছেও একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেছে। কিন্তু এসব দেশের কর্মকর্তারাও ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি কার্যকর করার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের দেওয়া এসব গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করেছে।
ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে, দেশটির নেতৃত্ব বাস্তবে এমন অস্ত্র তৈরি করেছে কি না কিংবা থাকলেও এ অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
২০০৩ সালে ইরান স্বীকার করেছিল যে, ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তারা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা দফতরের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডানা স্ট্রল জানিয়েছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপাদান মজুতের বিষয়টি পরিচিত। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এসব অস্ত্র ব্যবহার করেনি।
তার মতে, ইরান যদি নিজেকে অস্তিত্বগত হুমকির মুখে মনে করে, তাহলে দেশটির নেতৃত্ব প্রচলিত অস্ত্রের বাইরে গিয়ে সরাসরি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র থাকার অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তেহরানের দাবি, এসব অভিযোগ ইসরাইল ও নেতানিয়াহুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-সমর্থিত জনতাবাদী জোয়ারে আমেরিকা-ব্রাজিলে বড় ভাটা, ইউরোপের পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন