০৩:১১ পি.এম
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, ১ টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এর ফলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
তিনি মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে রয়েছে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন।
এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
আইনমন্ত্রী পরবর্তীতে তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দের দাবি তুলেন।
এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এ দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালত পৃথক হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় সেগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিচার বিভাগের এই বরাদ্দকে ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ বললেন, কারণ দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন
এর পাশাপাশি তিনি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন অথবা পেপারলেস জুডিসিয়ারি করার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাবের কথাও উল্লেখ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম। তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলাজটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।
এভাবে সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শ্রদ্ধাসহকারে বলেন, অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা যুক্তি দিয়েছেন, তবে এ দাবির ক্ষেত্রে তারা মনে হচ্ছে পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত
মন্ত্রী আরও বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো স্ববিরোধী। বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। কেউ বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক। আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক। এর মানে হলো, ১ টাকা দিয়ে আইন বিভাগ পরিচালনা বলা হচ্ছে, তাহলে বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। মন্ত্রী বলেন, এটা একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
তিনি সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, সে বিষয়ে কোনো বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেওয়া হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: শুক্রবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেবেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন