১১:৪৯ পি.এম
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে ইউক্রেন বিপাকে পড়েছে। গত সপ্তাহে কিয়েভ সফরের পর ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর স্বাস্থ্যের করুণ পরিস্থিতির কারণে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সাউথ ক্যারোলাইনার উল্লেখযোগ্য এই সিনেটর ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি ১০ বার কিয়েভ সফর করেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভি রিডেনকো তার মৃত্যুর পর এক শোকবার্তায় বলেছেন, রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন জুড়ে সিনেটর গ্রাহাম সবসময় ইউক্রেনের পাশে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অবিচল ছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির দুই সদস্য সিউলে আইসিএপিপি সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ
গত সপ্তাহে কিয়েভ সফরের সময় তিনি একটি ড্রোন কারখানা পরিদর্শন করেন। কিয়েভ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রাহাম বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমাদের কাছে সূত্র রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করুন এবং যারা রাশিয়াকে সমর্থন করছে তাদের জানিয়ে দিন যে, এই সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর গ্রাহামই প্রথম ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পুতিনকে হত্যায় তার ঘনিষ্ঠ কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, 'আপনি নিজের দেশ ও বিশ্বের অনেক বড় উপকার করবেন।' পরবর্তীতে তিনি পুতিনকে 'সন্ত্রাসী ও গুণ্ডা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
গ্রাহাম ‘স্ট্যান্ড উইথ ইউক্রেন অ্যাক্ট’-এর সহ-প্রণেতা ছিলেন। এই বিলের পক্ষে তিনি বলেছিলেন, আমরা বিশ্বকে একটি বার্তা পাঠাচ্ছি যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে থাকবে। তাদের লড়াই আমাদের লড়াই এবং আজ তাদের ও আমাদের উভয়ের স্বাধীনতা বিপন্ন। যদিও বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্যাকেজ তৈরিতে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।
আরও পড়ুন: টেস্ট ড্রাইভের নামে মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও, সন্দেহে গণপিটুনির শিকার সিয়াম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন