১০:৪২ এম
বর্তমানে অনেকের জন্য ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে টিন সনদ করলেও পরে সেটির ব্যবহার করা হয় না। তবে টিন সক্রিয় থাকার কারণে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও অন্যান্য কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা সম্ভব। কোন পরিস্থিতিতে বাতিল করা যাবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে?
ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিন হচ্ছে করদাতার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে এই নম্বর ব্যবহৃত হয়। আয়কর নথি শনাক্তকরণ, রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে চারবার সেরা ওসি হলেন রাকিবুল হাসান
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে টিন সক্রিয় থাকার কারণে কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
তবে টিন থাকা মানেই সকলকে একই পরিমাণ কর দিতে হবে এমন নয়। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কোন পরিস্থিতিতে টিন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে?
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এবং আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন—
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সাক্ষাৎ
১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
২. একাধিক টিআইএন তৈরি হলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।
৪. করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক সভা শুরু
৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তার আবেদন বিবেচিত হতে পারে।
৬. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।
যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন
টিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করতে হয়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ
অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে
প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শুরু
সরাসরি আবেদন করতে চাইলে
অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—
- টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেয়েছি: উদ্ভাবক ড. জাভেদ হোসেন খান
- ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;
- টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি;
- সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।
কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন