ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা অর্জন ডা. আমীর হামজার, রেনু বেগমের মৃত্যু ঘিরে সামনে আসলো প্রকৃত ঘটনা


স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা অর্জন ডা. আমীর হামজার, রেনু বেগমের মৃত্যু ঘিরে সামনে আসলো প্রকৃত ঘটনা

দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প খরচে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন চিকিৎসক আমীর হামজা, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়দের অনেকে। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রেনু বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় চিকিৎসকের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সেবামূলক কার্যক্রম এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আনা জরুরি হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা, সাধারণ মানুষের পাশে ডা. আমীর হামজা

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় ডা. আমীর হামজা দীর্ঘদিন ধরে অল্প খরচে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করে আসছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয় কমাতে তাঁর এই ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

আরও পড়ুন: চেয়ারে নয়, যানজট সামলাতে রাস্তায় মসিক প্রশাসক রোকন

একজন চিকিৎসকের পেশাগত মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর চিকিৎসাসেবা, রোগীদের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব চিত্র,সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক মূল্যায়ন যেন একপাক্ষিক না হয়ে পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রেনু বেগমের চিকিৎসা ও পরবর্তী ঘটনা

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর হলতা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী রেনু বেগম (৪৫) জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য গত ১০ অক্টোবর বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারে ডা. আমীর হামজার চেম্বারে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে পরদিন তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। পরে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন কোন সমস্যা ছিল না রেনু বেগমের। এরপর হটাৎ বুকে ব্যথা হয় সাথে হালকা শ্বাসকষ্ট হলে ডিউটি ডাক্তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে হার্টে সমস্যা মনে করলে তৎখনাত তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ২০ অক্টোবর হার্টের ইউনিটে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: তালতলীতে দেড় মাসেই কোটি টাকার বাঁধে ধস


অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে ডা. আমীর হামজার বক্তব্য।

ডা. আমীর হামজার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি রেনু বেগমের অস্ত্রোপচার ভালোভাবে সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর নিয়মিত পরিচর্যা ও পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের। ক্লিনিকের আবাসিক ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শও নিয়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।


প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ তথ্য

এজন্য রেনু বেগমের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে অস্ত্রোপচারের নথি, রোগীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ( যেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে হার্ট এট্যাকের কথা)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

চিকিৎসাসেবা একটি দায়িত্বশীল পেশা। কোনো চিকিৎসককে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনুমান বা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা-নথি ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করাই যুক্তিযুক্ত। এতে যেমন চিকিৎসকের পেশাগত অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি মৃত রোগীর পরিবারেরও প্রকৃত ঘটনা জানার সুযোগ তৈরি হয়।

মানবিক চিকিৎসাসেবা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন,দুটিই গুরুত্বপূর্ণ!

স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ডা. আমীর হামজার দীর্ঘদিনের এমন সেবার বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রেনু বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্য, চিকিৎসা-নথি ও বাস্তবতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। ডা. আমীর হামজার চিকিৎসাসেবা এবং রেনু বেগমের চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহ, দুটিই যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে সাধারণ জনমনে যে প্রশ্ন সেটি উন্মোচিত হয়েছে

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ব‍্যবসায়ির গড়া "সামারা ভিলা’ দখলের পাঁয়তারা: মেজো ভাইয়ের তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


কোরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

পবিত্র কোরআন, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ হিদায়াতগ্রন্থ এবং জীবন বিধান হিসেবে বিবেচিত, এর বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারের পাশাপাশি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কোরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা একটি ঈমানি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বঙ্গভবনে, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের চর্চা, যুগোপযোগী ক্বারী ও কোরআন বিশেষজ্ঞ তৈরির উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন। কোরআনকেন্দ্রিক শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াহ ও দ্বীনি খেদমতকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আন্তর্জাতিক ক্বারী সাইদুল ইসলাম আসাদের কোরআন তেলোয়াতের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন, পাশাপাশি সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

এ সময়, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে আগামী ১২ নভেম্বর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সেখানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের গুঞ্জনের মধ্যেই ১৫ বছরের সঙ্গী বুল্টির প্রতি আবেগঘন মিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


বিয়ের গুঞ্জনের মধ্যেই ১৫ বছরের সঙ্গী বুল্টির প্রতি আবেগঘন মিমি

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে প্রেম, বিয়ে কিংবা সম্পর্কের খবর হলে তো কথাই নেই। বর্তমানে বিয়ের গুঞ্জন ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার একটি ভিডিও। সেখানে প্রেমিক কিংবা পরিবারের কাউকে নয়, বরং নিজের জীবনের বিশেষ একজন মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

টালিপাড়ার কানাঘুষো অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রেমিক সিদ্ধার্থের সঙ্গে রেজিস্ট্রি বিয়ে করতে পারেন মিমি। এরপর আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আয়োজন করার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বিয়ের গুঞ্জনের মধ্যেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মিমিকে দেখা গেছে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী বুল্টির সঙ্গে। তিনি মিমির বাড়ির গৃহকর্মী। প্রায় ১৫ বছর ধরে অভিনেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন বুল্টি। তবে তাদের সম্পর্ক কেবল কাজের গণ্ডিতে আটকে নেই; বরং পরিবারের সদস্যের মতোই মিমির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বুল্টিকে পাশে নিয়ে তার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিমি। আবেগঘন মুহূর্তে বুল্টিকে বুকে জড়িয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘১৫ বছর ধরে ও আমার সঙ্গে আছে। আমি হাসপাতালে থাকলেও ও আমার পাশে থাকে। আমার দুঃখ-কষ্ট, আমার মা-বাবার থেকে মনে হয় এই বাচ্চাটা বেশি বোঝে।’

এ সময় বুল্টির পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কথা বলেন তিনি। মিমি জানান, বুল্টির ভাই এসেছেন এবং তার সঙ্গে ছবি তোলার আবদার করেছেন। তাই তার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি তুলছেন অভিনেত্রী। এরপর নিজের ভাইদের সঙ্গেও ছবি তোলার কথা বলেন তিনি।

মিমির এমন আন্তরিকতা ও আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেত্রী। অনেকেই বলছেন, তারকাখ্যাতি কিংবা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষের প্রতি এমন ভালোবাসা ও সম্মান সত্যিই প্রশংসনীয়।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনার মাঝেও মিমির এই ভিডিও যেন তার জীবনের অন্য এক মানবিক দিক সামনে নিয়ে এসেছে। বিয়ের গুঞ্জনের সত্যতা কী, তা সময়ই বলবে। তবে ১৫ বছরের সঙ্গী বুল্টির প্রতি অভিনেত্রীর ভালোবাসা আপাতত নেটিজেনদের মন কেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের এভারেস্টে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ভারতীয় পর্যটক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


নেপালের এভারেস্টে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ভারতীয় পর্যটক নিহত

নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক ভারতীয় পর্যটক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক। খবরটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায় দুটি হেলিকপ্টার। নেপালের সোলুখুম্বু জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কামান সিং থাপা মাগার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

দুটি হেলিকপ্টার পরিচালনা করছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফিশটেইল এয়ার এবং ডাইনেস্টি এয়ার। ফিশটেইল এয়ার তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটিতে থাকা ভারতীয় ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক দুজনই পর্যটক ছিলেন। অন্যদিকে, ডাইনেস্টি এয়ারের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের হেলিকপ্টারটিতে কোনো যাত্রী ছিল না, সেটিতে শুধুমাত্র মালামাল পরিবহন করা হচ্ছিল।

বর্তমানে নেপালে পর্বতারোহণ ও ট্রেকিংয়ের ব্যস্ত মৌসুম চলছে। এই সময়ে এভারেস্ট অঞ্চলে পর্যটক, পর্বতারোহী এবং ট্রেকারদের যাতায়াতে নিয়মিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল মায়েদায় হামলা, প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা হরমুজ প্রণালীতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


আল মায়েদায় হামলা, প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা হরমুজ প্রণালীতে

কাতারের রাজধানী দোহায় রবিবার ইরানের প্রতিনিধিদল এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা টানা তৃতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে তেহরান কিছু শর্ত আরোপ করেছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং ইরান ও ওমানের দ্বারা নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি।

কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রেক্ষিতে এসব শর্ত প্রদান করেছে তেহরান। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু না হলে ওয়াশিংটন বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তবে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এর মাত্র দুই দিন আগে চলাচলের অনুমতি পাওয়া একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে ইরানের অনুমতি মিললেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল এখনো নিশ্চিত নয়। উল্লেখ্য, জাহাজটি পাকিস্তানের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছিল এবং এর নিরাপদ চলাচলের অনুমতি পাকিস্তানও আদায় করেছিল।

ব্লুমবার্গকে এ চালান সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজটিতে হামলার আগে কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদ ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছিল।

এর আগে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল মনে হচ্ছিল। কারণ, একই প্রক্রিয়ায় ইরানের কাছ থেকে চলাচলের অনুমতি পাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছিল।

তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তেহরানও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজটিতে হামলার ঘটনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে।

এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, পাকিস্তান জাহাজ চলাচলের অনুমতি আদায়ে মধ্যস্থতা করতে পারলেও সেই অনুমতির পরও কোনো জাহাজ আক্রান্ত হলে তা ঠেকানোর ক্ষমতা দেশটির সীমিত।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনা আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ। এরপর অক্টোবরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দুইবার তেহরান সফর করেন।

এসব উদ্যোগের পর পাকিস্তানের এক সামরিক মুখপাত্র দেশটির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’ মন্তব্য করেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এ প্রচেষ্টার পথে বড় বাধা ও বিরোধীদের নিয়েও সতর্ক করেন। চলমান আলোচনার আয়োজক দেশ কাতারও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং কাউকে হুমকি না দেওয়ার কারণে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পেরেছে। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট এখন শুধু মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এমন একজন পক্ষের প্রয়োজন, যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে।

কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা পাকিস্তানের নেই। কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’তে হামলার ঘটনা বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে সেটিতে হামলা হয়। এ ঘটনায় ইরানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তানও তা ঠেকাতে পারেনি।

জাহাজটিতে হামলার জন্য এখনো কাউকে দায়ী করা হয়নি। কোনো পক্ষও হামলার দায় স্বীকার করেনি। কাতার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। গত অক্টোবরে সেখানে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরানও তাদের বন্দর ও জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত হামলার প্রমাণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার কাছে জমা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলাচলের অনুমতি পাওয়া জাহাজটিতে হামলার ঘটনা দুই দেশের আলোচনা ব্যাহত করতে চাওয়া পক্ষগুলোর কাজ হতে পারে। তবে হামলার দায় যারই হোক, এতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন, কারণ দেশটির গ্যাসের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পূরণ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করা এলএনজির মাধ্যমে। কিন্তু গত অক্টোবরে কাতার থেকে মাত্র দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ পেয়েছে পাকিস্তান। গত বছরের একই সময়ে পেয়েছিল আটটি।

কাতারএনার্জি আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে কেনা এলএনজির দাম চুক্তিমূল্যের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ থাকলে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানির খরচ আরো বাড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে।

বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের অবস্থান ধরে রাখতে হলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও ভাগ করে নিতে হবে। সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও মিশরকে নিয়ে যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে অনুমতি পাওয়া কোনো জাহাজে হামলা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।

পাশাপাশি পাকিস্তানকে জ্বালানি আমদানির উৎস বাড়াতে হবে। দেশটি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ১০টি এলএনজি কার্গো কেনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আজারবাইজান থেকে জ্বালানি আমদানির কথা ভাবছে। এতে খরচ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের অর্থনীতি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা, দুইয়ের জন্যই জরুরি।

পাকিস্তানের উচিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সব পক্ষকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে, তবে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো তাড়া নেই।

ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ, আলোচনা আয়োজন ও প্রস্তাব বিনিময়ে সহায়তা করতে পারে। তবে সমুদ্রে কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ বা যাচাই করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই নিজেদের ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত দাবি করলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার দায় পাকিস্তানের ওপর পড়তে পারে।

চলতি বছর কাতার, তুরস্ক, ওমান ও পাকিস্তানের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলো আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব দেশের ভূমিকার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। তারা আলোচনা এগিয়ে নিতে পারলেও চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

দোহায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চললেও কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’তে হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%