০১:৫৮ এম
বরিশালের হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম ছাড়াই বড় সাইজের দেশীয় পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ছে। সাধারণত বছরের এই সময়ে এতো বড় পাঙ্গাস সচরাচর দেখা না গেলেও, গত কিছুদিন ধরে নদীতে ৫ থেকে ১২ কেজি ওজনের বিশাল বিশাল পাঙ্গাস পাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। স্থানীয় জেলেরা মনে করছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের ফলেই বেহুন্দী জাল ও চাঁই দিয়ে পোনা নিধন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের প্রাপ্তির জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীতে পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই (এক ধরণের ফাঁদ) এবং রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল নির্মূলে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে নিরলস অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ করার কারণে নদীতে মাছের বংশবৃদ্ধি ও আকৃতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বাউশিয়া, পুরাতন হিজলা, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা নদীতে শতাধিক জেলে এখন বড় ফাঁসের ‘পাঙ্গাসী জাল’ দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জালে একেকটি ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস ধরা পড়ায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় বাজারে এই তাজা দেশীয় পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অসময়ে বড় সাইজের মাছ এবং ভালো দাম পেয়ে জেলেরা অত্যন্ত আনন্দিত।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় মিরসরাইয়ে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ
বাউশিয়া মাছ ঘাটের জেলে জামাল ব্যাপারী বলেন, মেঘনায় প্রচুর পরিমানে বড় পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। এক একটি জেলে নৌকায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। যিনি মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর অভিযানের সময় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, এখন সুফল ভোগ করছেন। মেঘনার জেলেরা প্রতিদিন খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন।
দুর্গাপুর গ্রামের জেলে অলিউদ্দীন জানান, নদীতে জাল ফেললে সর্বনিম্ন ৪-৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস পাওয়া যাচ্ছে এবং অনেক সময় ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ জালে ধরা পড়ছে। প্রায় প্রতিদিন ৫-৬টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, 'সাধারণত শীতের সময়ে নদীতে বড় সাইজের পাঙ্গাস পাওয়া যেত। মৎস্য অধিদপ্তরের দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারির কারণে মেঘনা নদীতে গত কয়েকদিন যাবৎ প্রচুর পরিমাণে বড় বড় দেশীয় পাঙ্গাস পাওয়া যাচ্ছে। নদীতে পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল পুরোপুরি নির্মূল করার কারণে আজ জেলেরা এই সুফল পাচ্ছেন।' তিনি প্রত্যাশা করেন যে, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান আগামীতেও বজায় থাকবে। মৎস্য দপ্তরের এই সফল উদ্যোগের প্রশংসা করছেন স্থানীয় জেলেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন