১১:২৭ পি.এম
চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে ইউক্রেন ড্রোন হামলার আক্রমণ বাড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে রাশিয়ার একটি বৃহৎ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু মস্কো এ হামলা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করার তথ্য দেয়নি।
এই দুবনা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারটি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে মস্কোর উত্তরে অবস্থিত। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার ইউক্রেনের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দুবনা সেন্টারটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে ইউক্রেনকে: জেলেনস্কি
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, এক ড্রোন শহরের একটি 'প্রশাসনিক ভবনে' আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভোরোবিওভ আরও জানান, মঙ্গলবার মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে ইয়েগোরিয়েভস্কে একটি ড্রোন একটি বাড়িতে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে। এতে এক ছয় মাস বয়সী শিশু মারা যায়।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, সোমবার রাত থেকে ইউক্রেন একের পর এক ড্রোন মস্কোর দিকে ছুঁড়ছে। তবে রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মোট ৪১৯টি ধ্বংসের দাবি করেছে।
জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে গত সপ্তাহে ৪০ দিনের অভিযান ঘোষণা করেছেন। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। তারা ক্রমশ রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে আক্রমণ করছে। ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তবে মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গেও বড় আকারের হামলা চলছে।
আরও পড়ুন: ওয়েল্ডিং মেশিনের আড়ালে দেশে আনা ১১৪ বিদেশি বন্যপ্রাণী, আটক ১
যুদ্ধ ধীরে ধীরে রাশিয়াদের দোরগোড়ায় চলে আসায় কিছু রাশিয়ানদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কো অঞ্চলে এই হামলার জন্য কিয়েভের তীব্র নিন্দা করে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, 'বেসামরিক মানুষ ভুগছে, শিশুরা মারা যাচ্ছে।'
এর আগে গত ২২ জুনও ইউক্রেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। মঙ্গলবারের হামলা সম্পর্কে মস্কোর কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্বীকার করেনি। তবে প্রথম হামলার সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল, কিন্তু যোগাযোগ এবং টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোন কর্মীও আহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন