ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্রে সিসা মিশছে, গবেষণায় উদ্বেগ


অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্রে সিসা মিশছে, গবেষণায় উদ্বেগ

স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে মানবদেহের জন্য বিষাক্ত সিসা মিশতে পারে। বিশেষ করে নতুন পাত্র প্রথম কয়েকবার ব্যবহারের সময় খাবারে সিসার পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায়।

সিসা একটি মারাত্মক বিষাক্ত ধাতু, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সাধন করে। গবেষকেরা এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিরাপদ রান্নার পাত্র উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং পরিবার পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সম্প্রতি নেচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি’-তে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে খাবারে সিসার পরিমাণ, খাবারের অম্লতা (অ্যাসিডিটি), পাত্র মাজার ধরণ ও রান্নার পদ্ধতির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে চীনা চিকিৎসক দলের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান

গবেষকেরা দেশীয় বিভিন্ন পরিবার থেকে ব্যবহৃত ৭টি পুরোনো এবং বাজার থেকে কেনা ২০টি নতুন পাত্র নিয়ে পরীক্ষা চালান। প্রথমে পাত্রগুলোর ধাতুতে সিসার মাত্রা যাচাই করা হয়। এরপর সেগুলোতে সাদা ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে বিশেষ পরীক্ষাগারে খাদ্য ও পানিতে সিসার পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান অ্যান্ড প্ল্যানেটারি হেলথের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’-এর পরিচালক ড. জেনা ফরসিথ বলেন, "আমরা রান্নার পাত্র এবং তাতে রান্না করা খাবার—উভয় ক্ষেত্রেই সিসার মাত্রা পরীক্ষা করেছি। এর মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ পাত্র কীভাবে মানুষের শরীরে সিসা প্রবেশের কারণ হতে পারে।"

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা প্রতিটি পাত্র থেকেই খাবারে সিসা নির্গত হয়েছে—তা পাত্রটি নতুন হোক বা পুরোনো। নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সিসা শনাক্ত হয়েছে। অথচ শিশু ও ছোট বাচ্চাদের খাবারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্ধারিত নিরাপদ সীমা হলো প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারবার ব্যবহারে খাবারে সিসার মাত্রা কিছুটা কমলেও তা কখনোই নিরাপদ মাত্রার নিচে নামে না। এমনকি পূর্বব্যবহৃত সাতটি পাত্রের মধ্যে ছয়টিতে রান্না করা ভাতেও সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এছাড়া রান্নার পাত্র কীভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার ওপরও সিসা মিশে যাওয়ার মাত্রা নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে, না ঘষে ব্যবহারের তুলনায় খাবারে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা মেশে। আবার রান্নার সময় ধাতব খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করলেও সিসা নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফেক্ট গ্লোবাল হেলথ-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবায় চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন যে পরিমাণ ভাত খায়, তা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, এ ধরনের পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে একটি শিশু এফডিএ নির্ধারিত দৈনিক সহনীয় সীমার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি-র এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ-এর সহকারী বিজ্ঞানী ড. জেসমিন সুলতানা বলেন, "পরিবারগুলো অনেক যত্ন নিয়ে প্রতিদিন ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে। সেই খাবারে রান্নার পাত্র থেকেই সিসা মিশছে কি না, তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা করতে দেওয়া উচিত নয়।"

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, "ছোট শিশুদের খাবার তৈরির ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে পরীক্ষিত পাত্র ব্যবহার করা দরকার। তবে স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ব্যবহার করতে হলে তারের মাজুনি দিয়ে ঘষা পরিহার করা এবং টক বা অম্লীয় খাবার রান্না না করাই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে, এসব সতর্কতা পাত্রটিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করে না।"

ড. জেনা ফরসিথ এ বিষয়ে আরও বলেন, "সিসা চোখে দেখা যায় না, এর কোনো গন্ধ বা স্বাদও নেই। তাই বাইরে থেকে দেখতে সম্পূর্ণ ভালো ও চকচকে পাত্র থেকেও খাবারে সিসা মিশতে পারে। বাহ্যিক রূপ দেখে সাধারণ পরিবারের পক্ষে কোনটি নিরাপদ পাত্র, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।"

আরও পড়ুন: ‘আমরা নারী’ ও এরিস্টো আই হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশে পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বদলে নতুন পাত্র নেওয়া কিংবা পুরোনো কাপড়ের বিনিময়ে হাঁড়ি-পাতিল নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। গবেষণাটিতে সরাসরি এই বিনিময়প্রথা নিয়ে কাজ না হলেও ফলাফল বলছে, পাত্রটি নতুন বা চকচকে হলেই তা নিরাপদ ভাবার অবকাশ নেই। মূলত দেশে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক পাত্র পুরোনো স্ক্র্যাপ বা ভাঙারি ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। এসব কাঁচামাল মানসম্মতভাবে পরীক্ষা না করায় চূড়ান্ত পাত্রে সিসা থেকে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, রক্তে সিসার এমন কোনো সহনীয় মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা চলে। সিসার সংস্পর্শ শিশুদের আচরণ ও শেখার ক্ষমতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে।

গবেষকদের অভিমত, এ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর দায় কেবল সাধারণ পরিবারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে সিসা দূষণের নানা উৎসের মধ্যে অতীতে হলুদে সিসা মেশানোর প্রমাণ মিলেছিল। এখন রান্নার পাত্র থেকেও মানুষ সিসার শিকার হতে পারে, ফলে এটিকেও জাতীয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, রান্নার নিরাপদ পাত্র নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মান ও নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা, স্ক্র্যাপ ধাতু পরীক্ষা এবং উৎপাদিত পাত্র থেকে রাসায়নিক নিঃসরণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের নিরাপদ কাঁচামাল সরবরাহ ও মান পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

আইসিডিডিআর,বি-র প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "আমরা বিএফএসএকে রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা স্থানান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিএসটিআই-এর প্রতি রান্নার পাত্রে সিসা-সংক্রান্ত মানদণ্ড প্রণয়ন ও তা কার্যকরের অনুরোধ করছি। সাশ্রয়ী দামের পাত্র মানেই তা অনিরাপদ হবে; এমনটি হওয়া উচিত নয়। সঠিক তদারকি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে এই প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯৬

এটি পরীক্ষাগারে পরিচালিত একটি সীমিত পরিসরের গবেষণা। এতে শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা শিশুদের সরাসরি শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নয়, বরং খাদ্য গ্রহণের একটি গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাই বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও রান্নার দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষণাটি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কিং সেন্টার অন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ৫৪৮ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা লাঘবের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এই ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে না।

একটি খোলা চিঠিতে নিউসম উল্লেখ করেছেন, "রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যার অনুমোদন ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং সমাজের সামগ্রিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।"

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি জনসমর্থন গত কয়েক দশকে কমলেও, এখনও অধিকাংশ মানুষ এর পক্ষে রয়েছেন। তবে নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ডবিরোধীরা দাবি করছেন, এ শাস্তির কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এছাড়া এর বিপুল ব্যয়, বর্ণবৈষম্য এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের (ডিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, অথচ এ সময়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্তত ২০৩ জন পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন।

ডিপিআইসির নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের নিউসমের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে সাজা মওকুফের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ২০ বছর ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। অঙ্গরাজ্যটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির তালিকা ছিল। নিউসমের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে মারধর, তিনজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


জরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে মারধর, তিনজন গ্রেফতার

জরুরি চিকিৎসার দোহাই দিয়ে এক তরুণ চিকিৎসককে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও মোবাইল-ঘড়িসহ সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনায় দুই অভিনয়শিল্পীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

এই ঘটনা ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচিতে ঘটেছে। খবরটি এনডিটিভি থেকে জানা যায়।

মামলার সূত্রে পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকালে অভিনেত্রী অতুল্যা চন্দ্র এবং অভিনেতা ও প্রযোজক বিবিন পেরুম্বিল্লি অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এক রোগীর জরুরি চিকিৎসার কথা বলে ওই চিকিৎসককে কোচির ‘এসেন স্প্রিংডেল’ নামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আসার জন্য অনুরোধ করেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসক যখন ফ্ল্যাটে পৌঁছান, তখন সেখানে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের একপর্যায়ে অতুল্যা চন্দ্র ওই ডাক্তারের মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ ও ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ছিনিয়ে নেন। তিনি ডাক্তারকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই একটা চোর, তোকে আমি মেরেই ফেলব।’

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ৫ মানবপাচারকারী, উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদ

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

নিহত সেনাসদস্যের নাম সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এ সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। জবাবে যৌথ বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), রামুতে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকেও উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মিকে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উর্মি ইতিমধ্যে অন্য একটি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ধানমন্ডি মডেল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদিয়া আক্তার সেতু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় মো. সজিব ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক পিঠ ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় খাদিজা আক্তার উর্মির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় এই মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%