০৭:৫৯ পি.এম
রাজশাহী নগরীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ পাঁচ মাদক কারবারি ও এক মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে চোলাইমদ, কফ রিলিফ সিরাপ, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শাহমখদুম, দামকুড়া, বেলপুকুর, পবা ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিজি জানান, নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ পবা নতুনপাড়া এলাকা থেকে ২০ বোতল দেশীয় তৈরি চোলাইমদ সহ তপন ভূঁইয়া ওরফে গণেশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।
দামকুড়া থানা পুলিশ মুরারীপুর পশ্চিমপাড়া থেকে দুই বোতল কফ রিলিফ সিরাপ, মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন সহ জাহাঙ্গীর আলমকে (৪২) গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৪টি মাদক মামলা রয়েছে।
বেলপুকুর থানা পুলিশ চক জামিরা এলাকা থেকে ১৭টি ট্যাপেন্টাডল ও ছয়টি ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মোছাঃ সাজেদা (৪৮) ও খায়রুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। পবা থানা পুলিশ সিডির মোড় এলাকা থেকে ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ মুক্তার আলীকে (২০) গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ গোলজারবাগ গুড়িপাড়া এলাকা থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আহসান হাবিবকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রাজশাহীতে অনলাইন জুয়া ও বেটিংবিরোধী অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে নগরীর দামকুড়া থানা পুলিশ। এ সময় জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে দামকুড়া থানা পুলিশ শিতলাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমান উল্লাহ আমান (২৭) ও সাকিবুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম (৩৫) নামে আরও একজন পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার আমানের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন এবং সাকিবুলের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এসব ফোনে অনলাইন জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপস, ওয়েবসাইটের ইউজার আইডি, মোবাইল সিমকার্ড এবং বিকাশ ও নগদ হিসাবের সঙ্গে ব্যবহৃত একাধিক নম্বর পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলাতক মাসুমের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপস ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনে জুয়া খেলে আসছিলেন। জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যপারে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে দামকুড়া থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। পলাতক মাসুমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও গত ২৪ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ নানা অপরাধের অভিযোগে মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
এর মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ৯ জন, মাদক মামলায় ৬ জন এবং অন্যান্য মামলায় ৭ জন রয়েছে।
শুক্রবার সকালে সকল আসামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। #
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন