প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয়করণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে মেহেরপুর শাখা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। গত সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দেশের মতো মেহেরপুর জেলাতেও প্রধান ডাকঘরের সামনে ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন জেলার ২৯টি শাখা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই কারণে বিভিন্ন শাখা পোস্ট অফিসের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
কর্মবিরতি চলাকালে জেলা ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, মেহেরপুর জেলার ২৯টি শাখা পোস্ট অফিসে মোট ৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে, তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির মধ্যে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি হচ্ছে চাকরি জাতীয়করণ এবং বেতন কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, একজন শাখা পোস্টমাস্টারের মাসিক বেতন মাত্র ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, পোস্টম্যানের ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, রানারের ৪ হাজার ২৭৭ টাকা এবং নৈশপ্রহরীর বেতন মাত্র ৪ হাজার টাকা। এই বেতন দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
কাথুলি শাখা পোস্ট অফিসের এডি পোস্টমাস্টার জানিয়েছেন, তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে এই পেশায় কর্মরত আছেন। চাকরিতে যোগদানের সময় তার বেতন ছিল মাত্র ৭০ টাকা। আজ ২০২৬ সালে এসে ৪৭ বছর চাকরি করার পর তার বেতন মাত্র ৪ হাজার ৪৬০ টাকা। বর্তমান সময়ে এই বেতন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
জেলা ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা জানান, যারা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন, তারাও মাসে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। অথচ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে কাজ করেও তারা তুলনামূলকভাবে অনেক কম বেতন পাচ্ছেন। তাই তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে। কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য কর্মচারীরা বলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যদি দ্রুত চাকরি জাতীয়করণ ও বেতন বৃদ্ধি না হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন