প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে গণমাধ্যমের মাধ্যমে ৪৪ জনের তালিকা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয় এবং এ নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এই তদন্ত কমিটি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। এছাড়া, কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রতিবেদন সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চলতি মাসের ১২ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওই শিক্ষকদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত ইবির শিক্ষকরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দমন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তদন্তের আওতার মধ্যে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর সিন্ডিকেটের ২৭১তম (সাধারণ) সভায়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লবের সময়কালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপ্লব বিরোধী ভূমিকায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করার এবং তাদের পুনরায় চাকরিতে বহালের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন প্রশাসন।
পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের প্রশাসন বিভিন্নভাবে তাদের (জুলাই বিরোধী শিক্ষক) বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। কোন প্রেক্ষিতে সে সিদ্ধান্ত থেকে আবার সরে দাঁড়িয়েছে, সে ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, যেহেতু একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই রাজনৈতিক দলের অনুসারী যারা বা আদর্শিক চেতনায় যারা বিশ্বাস করেন, তারা যেকোনো নামেই সংঘটিত হলে এবং যদি আমাদের কাছে এরকম কোনো ডকুমেন্ট আসে, নিঃসন্দেহে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন