প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু হতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ‘এই খাদ্য কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে যদি কোনো ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের জন্য সরকার মিড ডে মিলের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে যদি কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের শুধু চাকরিচ্যুত নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ‘প্যারালাইজড’ (স্থবির) করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন আর নেই। তবে ‘ডিজিটাল নকল’ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে একটি চক্রের মাধ্যমে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল বানাতে দিতে পারি না।’
মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের এক জায়গায় জেঁকে বসার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’
পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনো প্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায় এড়িয়ে বলতে পারবেন না যে তারা দেখেননি।’
মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকদের মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে বোর্ড তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন