প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : কেনিয়ায় ১৯০ শিশুকে হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জির সাজা আজ শুক্রবার ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনায় তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
২০২৩ সাল থেকে কেনিয়ার উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র মালিন্দির নিকটবর্তী ওই ধর্মীয় গোষ্ঠীর আস্তানা থেকে শত শত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ‘শাকাহোলা ফরেস্ট ম্যাসাকার’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নিজেকে ধর্মযাজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া পল ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অনুসারীদের অনাহারে রেখে মৃত্যুবরণ করতে প্ররোচিত করেছেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, এভাবে মৃত্যু হলে তারা ‘যিশুর কাছে পৌঁছাতে পারবেন’ বলে।
গত মাসে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার দায়ে আদালত ম্যাকেঞ্জিকে দোষী সাব্যস্ত করে। একই মামলায় তার সঙ্গে আরও ২৮ জনকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মামলা রয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং তার কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে চলতি সপ্তাহে ম্যাকেঞ্জির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে কেনিয়ার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়।
রাষ্ট্রপক্ষের উপপরিচালক জেমি ইয়ামিনা বলেন, ‘ম্যাকেঞ্জির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে সাজা নির্ধারণের সময় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য, অনুশোচনা, দুঃখ প্রকাশ ও সংশোধনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
কেনিয়ার আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, তবে দেশটিতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে।
ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের যুক্তি, ম্যাকেঞ্জির প্রভাবে তারা গভীরভাবে ধর্মীয় মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রায় ১২০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘শয়তানের কাজ’ বলে আখ্যা দিত।
আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালকে শয়তানের হাতিয়ার মনে করত। একই সঙ্গে অনুসারীদের বাইরের জগতের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হতো।
সাবেক ট্যাক্সিচালক ম্যাকেঞ্জিকে ২০২৩ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার করা হয়। একটি মানবাধিকার সংগঠন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার পর কেনিয়ার উপকূলীয় শাকাহোলা বনের ৩২৫ হেক্টর আয়তনের একটি খামার থেকে তার কয়েকজন অনুসারীকে উদ্ধার করা হয়।
২০২৪ সালে কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানায়, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪২৯।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন