প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। তবে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না।
মন্ত্রী রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য উৎপাদনে একটি বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তবে গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যদি বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানি করে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীকে যদি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনীতিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো- দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তৈরি করা।
মন্ত্রী গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। যাতে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। তিনি গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিননির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে আরও নজর দিতে হবে। জনগণ এখন নিরাপদ, সুন্দর এবং মানসম্মত খাদ্য চায়। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিমন্ত্রী হিসেবে আমি মাটি, পানি, আলো-বাতাস এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। মাটি ও পানি দূষণ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী জানান, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পানিতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদান কোথা থেকে আসছে- মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড, তা চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে।
মন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দেশের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো অথবা বন্ধ করার ওপর ভাবনা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়; কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। সরকার তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনা রয়েছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও এটি বিশ্বের অন্যতম ভালো জাত। এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন