প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় নতুন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও সৌজন্য পেয়েছে।
গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল মিসরের স্থপতিরা, এই আবিষ্কার তারই স্পষ্ট প্রমাণ সৃষ্টির কাজ করেছে। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও যথেষ্ট নিদর্শন দেখা গেছে।
গবেষণায় আরও আরও জানা যায় যে, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে বিশাল আকারের কাঠ ব্যবহৃত হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।
এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয় যে, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে যে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনা যে, অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।
মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেছেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন যে, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুচারুভাবে সংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
সূত্র: ডেইলি মেইল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন