প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক ও গবেষকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, "ঢাকাকেন্দ্রিকতার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণের বাইরে রাখা সমীচীন নয়।"
শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য আরও বলেন, "বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার দীর্ঘ ৬৫ বছরের যাত্রায় দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন থেকে বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, "বাকৃবির সাবেক শিক্ষার্থীরা শুধু দেশে নয়, নাসা, ইউএসডিএসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখছেন।" তাই কৃষিসংক্রান্ত যেকোনো নীতি প্রণয়ন ও পরিকল্পনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, "কৃষি, ভেটেরিনারি কিংবা মৎস্য খাতের নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও গবেষণালব্ধ তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন,
"এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।" কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে গবেষকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সমন্বয় জরুরি।
তিনি বলেন, "সরকার চ্যালেঞ্জ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নীতি প্রণয়ন ও উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।"
প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, "বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।"
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, "বর্তমানে একটি দেশি গরু গড়ে দেড় লিটার দুধ দিলেও তা চার লিটারে উন্নীত করা সম্ভব।" আরও বলেন, "দেশি ছাগলের দুধ উৎপাদন গড়ে ৩০০ গ্রাম থেকে এক লিটার এবং মুরগির ডিম উৎপাদন বছরে ৫৩টি থেকে অন্তত ১৫০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে।"
এই প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সাধারণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো টেকসই হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের জন্য উন্নত ব্রিডিং ব্যাকআপ ও হাইব্রিড লাইন তৈরির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খামার ব্যবস্থার জন্য দেশি জাত উন্নয়নের পৃথক পরিকল্পনা নিতে হবে।"
একই সঙ্গে, প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের স্থানীয় জীবাণু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবাদিপশুর টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।
‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় সাড়ে ৬০০ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশগ্রহণ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন