প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ ভায়া শান্তিনগর সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এবং রাতে অন্ধকারে কার্পেটিং করার জন্য।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজারের মধ্যে ৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের অধীনে। প্রকল্পের আওতায় সড়কের প্রস্থ ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৭ মিটার করার কথা। এই প্রকল্পের খরচ ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী বালি ও ইটের খোয়া ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। এছাড়া, সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পরিষ্কার না করেই সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে কার্পেটিং করার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সড়কের ওই কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে। যদিও সেখানে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়েরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। কাদামাটির ওপর বিটুমিন ছিটিয়ে রাতের অন্ধকারে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সকালে দেখা যায়, পায়ের চাপের কারণে অনেক জায়গার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা লাল্টু মিয়া জানান, ‘রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, কয়েক মাস পর সড়কের অবস্থা কেমন হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাস্তার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক বলেছেন, ‘আসলে আমাদেরকে যখন, যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই করেছি। রাত-দিন বলতে কিছুই নেই। দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করায় এখন মূল কথা।’
তবে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় দিনের বেলা কাজ করলে কৃষকদের চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তাই রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।’
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ মন্তব্য করেন, ‘আমি সরাসরি সাইটে থাকি না। যদি রাতে কার্পেটিংয়ের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভুল হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, ‘রাতে কার্পেটিং করার নিয়ম নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে তা অপসারণ করে পুনরায় কাজ করতে হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘রাতে কার্পেটিংয়ের কাজ করার নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পাবে না।’ স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন